প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে খালেদা জিয়া বিদেশ গেলে বিএনপি’র নির্বাচিতরা সংসদে শপথ নেবেন

দেবদুলাল মুন্না : চলতি মাসের ৩০ তারিখের ভেতর রাজনীতির মাঠে ঘটতে পারে বেশ কিছু অভাবনীয় ঘটনা। পাল্টে যেতে পারে রাজনীতির পুরনো হিসেব নিকেশ। কারণ হিসেবে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট ও পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিগত দিনে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দলের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও পারেননি। পারেননি ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে মিলিতভাবেও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনতে। বর্তমান সরকারের মেয়াদকাল পূর্ণ করা পর্যন্ত বড়ো রকমের কোনো অঘটন না ঘটলে বিএনপির করার কিছুই নেই। আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব না এটি দলের অনেক শীর্ষ নেতারাই বুঝে ফেলেছেন। ফলে বিএনপি ও সরকার পক্ষ চাইতে পারে, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির ইস্যু নিয়ে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অর্জনটা নিজেদের পক্ষে নিতে। বিএনপির নেতারা চাইছেন তাদের যেন সুষ্ঠু ও বাধাহীন পরিবেশে রাজনৈতিক কর্মকা-ের সুযোগ নিশ্চিত হয়। আর ক্ষমতাসীনরা চাইছে, বিএনপির নির্বাচিতরা যেন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়। বিএনপির সিনিয়র নেতা গয়েশ্বর রায় গতকাল বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দেওয়া উচিত। তিনি অসুস্থ।

সরকারের এটি বোঝা উচিত। প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে আমি অবগত নই।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের মূল দাবি হচ্ছে চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসা। তার চিকিৎসার ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। এজন্য যা যা করা দরকার আমরা তাই চাচ্ছি। তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির দাবি জানিয়েছে। তার জন্য বোর্ড গঠন করা হয়েছে, দেখি তারা কি বলে। তার পরিবারের সদস্যরা চাচ্ছেন তার উন্নত চিকিৎসা হোক।’ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিশেষ ক্ষেত্রে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, কয়েদি ও হাজতিকে সরকার প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে। সেটা হতে পারে চিকিৎসার জন্য বা জানাজায় অংশ নিতে। সাজাপ্রাপ্ত হলে প্যারোল হবে না- এ বক্তব্য সঠিক নয়। তিনি বলেন, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্ত হবেন কিনা সেটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আমি এক সময় ম্যাডাম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির কথাটা বলেছিলাম। তখন বিএনপি হাইকমান্ড এটাকে সহজভাবে নেয়নি। তারা মনে করেছিলেন এটা বিএনপির রাজনীতিতে পরাজয় হবে।’ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘জেল কোড অনুযায়ী কোনো আসামিকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার বিধান নেই। প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। তবে সরকার ইচ্ছা করলে কাউকে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে। এর আগে সেনাসমর্থিত সরকারের সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়েছিল।’

যদি ‘রুটিন ওয়ার্কের’ মতো আমরণ অনশন কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। কিন্তু এসব কর্মসূচিতে কিছুই হয় না সেটি জানেন দলের শীর্ষনেতারা। খালেদা জিয়াও এতোদিন চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালের কথা বলে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে(বিএসএমএমইউতে) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ৭ মার্চ গণফোরামের সুলতান মনসুর শপথ নিয়েছেন। ২ এপ্রিল সংসদ সদস্য হিসেবে গণফোরামের মোকাব্বির খান শপথ নেন। ঐক্যফ্রন্টের জোটগত শক্তি যে আলগা হয়ে গেছে এটি দৃশ্যমান। জামায়াতের প্রকাশ্যে রাজনীতির সুযোগ নেই।

ইতোমধ্যে বিএনপি থেকে তৃণমুল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের যে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছিল এর ছোঁয়া এসে লেগেছে খোদ কেন্দ্রীয় কমিটিতে। মহানগরে। বিএনপির দলীয় সব পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন কেন্দ্রিয় নেতা মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া। কুমিল্লা-১০ আসন থেকে ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচন করে পরাজিত হওয়া এই নেতা বলেছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি দলীয় সব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি দলে থাকবেন। তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত চিঠি তিনি মঙ্গলবার বিএনপির নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছে দিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা বিএনপির সহসভাপতি আবু মোতালেব গত মঙ্গলবার দলের মহাসচিবের কাছে দেওয়া লিখিত অব্যাহতিপত্রে বলেছেন, তিনি নিজেও ‘শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ’ হয়ে পড়েছেন। তাই রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।ফলে বিএনপির রাজনীতিও এখন একেবারেই কোণঠাসা মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনযাত্রা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য শিগগির শপথ নিতে পারেন। আর সেটা এ মাসের মধ্যেই। কেননা সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার তিন মাসের (৯০ দিন) মধ্যে কেউ শপথ না নিলে তার সংসদ সদস্য পদ খারিজ হয়ে যাবে। একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে গত ৩০ জানুয়ারি।

এ অনুযায়ী আগামী ৩০ এপ্রিল ৯০ দিন শেষ হবে। যদিও বিশেষ ক্ষেত্রে স্পিকার এ সময় বাড়াতে পারেন-এমন বিধানও আছে সংবিধানে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিএনপিকে এখন ইতিবাচক রাজনীতির মধ্য দিয়ে সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’ বিএনপির সিনিয়র নেতা গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘সংসদে যোগ না সিদ্ধান্ত ছিল। আগামীতে সংসদে বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা শপথ নিবেন কি না এটি এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।’ আওয়ামী লীগ একাদশ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলেও যে ‘গ্রহণযোগ্যতার স্বস্তি’ পাচ্ছেন সেটি নয়। ফলে খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে যদি বিএনপির নির্বাচি প্রতিনিধিরা সংসদে শপথ নেন সেটি একধরণের ‘ গ্রহণযোগ্যতার স্বস্তি’ দিতে পারে। আর এসব কারণে এ মাসে অনেক কিছু ঘটতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সুলতান-মোকাব্বির ছাড়াও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আমিনুল ইসলাম, জাহিদুর রহমান ঠাকুরগাঁও-৩, মোশাররফ হোসেন বগুড়া-৪, হারুন-উর রশীদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আবদুস সাত্তার নির্বাচিত হন। এদের মধ্যে জাহিদুর রহমান নানা সময়ে শপথ নেওয়ার আগ্রহ গণমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও দুজন গতকাল জানান, তারা দুজনই শপথ নিতে আগ্রহী জনগণের জন্য কথা বলা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই দলগতভাবে বিএনপি ও জোটগতভাবে ঐক্যফ্রন্ট যদি সিদ্ধান্ত নেয় তবে তারা অবশ্যই শপথ নেবেন। যদিও কেউ কেউ মনে করছেন, শপথ নেওয়া মানেই এই সরকারকে বৈধতা দেওয়া। তাই ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সম্পাদনা : ইকবাল খান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত