প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জেনে নিন সাজেক ভ্রমণের টুকিটাকি (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক উইনিয়নে অবস্থিত একটি বিখ্যাত পর্যটন কেন্ত্র হচ্ছে সাজেক। এর অবস্থান রাঙামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে। ভৌগোলিক অবস্থানে সাজেক রাঙ্গামাটিতে হলেও যাতায়াতের সহজ পথ খাগড়াছড়ি হয়ে। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকে ৩ ঘন্টা সময় লাগে।

রাঙামাটি থেকে নৌপথে কাপ্তাই হয়ে এসে অনেক পথ হেঁটে সাজেক যাওয়া যায়। খাগড়াছড়ি শহর অথবা দীঘিনালা হতে স্থানীয় গাড়িতে (জিপ গাড়ি, সি.এন.জি, মটরসাইকেল) করে সাজেকে যাওয়াই হচ্ছে বর্তমানে সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় মাধ্যেম।

যাত্রাপথে প্রথমেই পরবে ১০ নং বাঘাইহাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্প। সেখান থেকে ভ্রমণরত সদস্যদের তথ্য দিয়ে সাজেক যাবার মূল অনুমতি নিতে হবে। একে আর্মি এসকর্ট বলা হয়। আর্মিগণের পক্ষ থেকে গাড়িবহর দ্বারা পর্যটকদের গাড়িগুলোকে নিরাপত্তার সাথে সাজেক পৌঁছে দেয়া হয়।

সাজেক যাওয়ার রাস্তার দু’পাশের বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি ঘর। নীল আকাশের নিচে বিশাল সমৃদ্ধ বনভূমির দেখা পাওয়া যাবে সাজেক ভ্যালির পথে। এই সৌন্দর্য যদি উপভোগ করতে হয় তাহলে অবশ্যই গাড়ি থামিয়ে নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করতে হবে। আঁকা বাঁকা রাস্তায় যেকোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

সাজেকের শুরুতেই চোখে পড়বে রুইলুইপাড়া। এটা সাজেক উপত্যকার মূল কেন্দ্র। রুইলুইপাড়ায় লুসাই, পাংখোয়া ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস। পাড়ার সবগুলো বাড়ির রঙ লাল-সবুজ। সাজেকে সর্বত্র মেঘ, পাহাড় আর সবুজের দারুণ মিতালী চোখে পড়ে । এখানে তিনটি হেলিপ্যাড বিদ্যমান, যা থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা যায়। সাজেকে একটা ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা হচ্ছে এখানে ২৪ ঘণ্টায় প্রকৃতির তিনটা রূপই দেখা মিলে। কখনো খুবই গরম, একটু পরেই হটাৎ বৃষ্টি এবং তার কিছু পরেই হয়তো চারদিকে ঢেকে যায় মেঘের চাদরে। মনে হয় যেন একটা মেঘের উপত্যকা।

সাজেকের রুইলুই পাড়া থেকে ট্রেকিং করে কংলাক পাহাড়-এ যাওয়া যায়। কংলাক হচ্ছে সাজেকের সর্বোচ্চ চূড়া। কংলাকে যাওয়ার পথে মিজোরাম সীমান্তের বড় বড় পাহাড়, আদিবাসীদের জীবনযাপন, চারদিকে মেঘের আনাগোনা পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠিত আদিবাসীদের উৎসবের সময় তাদের সংস্কৃতির নানা উপকরণ পর্যটকরা উপভোগ করতে পারেন।

সাজেকের কাঁচা রাস্তা এবং কিছুটা পাহাড় আছে, তাই ভালো গ্রিপ আছে এমন জুতো পরে যাবেন। তবে কিছু রাস্তা গাড়ীতে করে যেতে পারেন। রুইলুইপাড়ার হেলিপ্যাডের পাশ দিয়ে সোজা উত্তরে একটি রাস্তা চলে গেছে, সেই রাস্তা ধরে এগোলেই কংলাকপাড়ায় পৌঁছে যেতে পারবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত