প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিষেধাজ্ঞার মাঝেও হালদা নদীতে চলছে বালুবাহীযান্ত্রিক নৌযান, জাল দিয়ে মারা হচ্ছে মাছ

কামরুল ইসলাম বাবু : চট্টগ্রামে হালদা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে বালুবাহী যান্ত্রিক নৌযান, হালজাল দিয়ে ধরা হচ্ছে মাছ। গত ২০ মার্চ থেকে হালদা নদীতে যান্ত্রিক নৌযান চলাচলের উপর বিধি নিষেধারোপ করা হয়।

সরেজমিনে মদুনাঘাট ব্রিজের উপর কিছুক্ষণ দাড়িঁয়ে দেখা যায় হালদার তীরবর্তী গ্রাম রাউজানের কচুখাইন ও হাটহাজারীর বুড়িশ্চর এলাকার হালদার মুখে রাত দিন শত শত ড্রেজার ও বালুবাহী বোট চলাচলে আছে। এক মুর্হুত্বের জন্যও এসব নৌযান বন্ধ হয় না। স্থানীয়রা বলেন এই পথের হালদায় মা মাছ প্রবেশ করে।

মদুনাঘাট বাজারের ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন রাতের বেলায় ঘাটে ঘাটে জাল পাতা হলেও দিনের বেলায় নদীতে তেমন জাল থাকে না। রাতের আধারে চলে মা মাছ নিধন।

মাঝে মাঝে হাটহাজারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নদীতে অভিযানে নেমে কিছু জাল আটক করে নিয়ে যায়। জড়িতরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে। তার মতে নদীতে নিয়মিত নজরদারী করার মত কোনোর সংস্থার লোকজন নেই। একারণে কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে না।

গত ২০ মার্চ হালদায় নৌযান চলাচলের পর বিধি নিষেধ আরোপ করার পর নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নেয় ২১২ কোটি টাকা প্রকল্প কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এই প্রকল্পের মালামাল পরিবহন করা হতো বড় বড় যান্ত্রিক নৌযানে। সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে পরিচালিত ভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্পের নৌযান বন্ধ করা হলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের বালুবাহী নৌযানগুলো আগের মতই চলাচল করছে। যান্ত্রিক নৌযানগুলোর ডুবন্ত পাখার আঘাতে নদীর বড় বড় মাছসহ ডলফিন মারা যাচ্ছে বলে পরিবেবাদী ও হালদার মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সোচ্ছার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অভিযোগ করে আসছে। ইতিপূর্বে নদীর অনেক ডলফিন ও মা মাছ মরে ভেসে উঠার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উৎকন্ঠিতরা মৎস্য সম্পদের খনি হালদা নদীকে রক্ষায় পানি দুষণসহ যান্ত্রিক নৌযান চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণি বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন বছরের পর বছর দুষণ, দখলের পড়ে দেশের এই বিশেষায়িত নদীটি এমনিতে মরমর অবস্থায় ঠেকেছে। গত বছর থেকে ভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে নষ্ট করা হয়েছে মাছের অধিকাংশ নিরাপদ কুপ।

এসব নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যেও স্থানীয় মৎস্যজীবিরা আশায় ছিল সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞায় জালপাতা ও নৌযান চলাচল বন্ধ হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত