প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুনিল গাভাস্কারের কলাম -
আইপিএলের মাঝে ভোট হলেও বিশেষ চিন্তার কিছু নেই

আইপিএল শুরু হয়ে গিয়েছে। উন্মাদনা চরমে। এখন আরও বেশি করে ইংরেজ ক্রিকেটারদের নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ফ্র‌্যাঞ্চাইজিগুলো। ফলে ইংল্যান্ডেও আগ্রহ তুঙ্গে। আগে আইপিএলের সময়টা এমন ছিল যে, যখন এটা শেষের দিকে পৌঁছত, তখন ইংল্যান্ডের ক্রিকেট মরশুম শুরু হত। ফলে ইংরেজ প্লেয়ারদের না নেওয়ারই চেষ্টা করত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। তারা এমন প্লেয়ারদের নিত, যাদের গোটা প্রতিযোগিতায় পাওয়া যাবে। তবে কেভিন পিটারসেন, অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের মতো ব্যতিক্রমীরা অবশ্যই রয়েছে।

এদের নেওয়ার জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে কাড়াকাড়ি পড়ে যেত। এখন বেন স্টোকস, জস বাটলার সেরকম। এরা একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ফলে এদের পেছনে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো মনের সুখে মোটা টাকা খরচ করতে পারে। শুধু বেন স্টোকসের কথাই ধরি। ওর চার–ছয়ের মারার ক্ষমতা দেখার মতো। এর সঙ্গে বোনাস উইকেট নেওয়ার ক্ষমতাও। আইপিএলে ওর থেকে দায়বদ্ধ প্লেয়ার আর আছে? হয়তো আছে। কিন্তু যদি রাজস্থানকে জিততে হয়, তাহলে স্টোকস এবং বাটলারকে বিরাট ভূমিকা নিতে হবে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবিরে যোগ দেওয়ার জন্য ওরা যখন আইপিএল শেষ হওয়ার আগেই ইংল্যান্ডে ফিরে যাবে, তখন ওদের অভাব অনুভূত হবে। দু’বছর আগে পুনে যখন ফাইনালে উঠেছিল, তখনও এই কারণে ওদের অভাব অনুভূত হয়েছিল।

যদি বিসিসিআই এবং ইসিবির মধ্যে এটা নিয়ে একটু বোঝাপড়া হয়, তাহলে আরও বেশি করে ইংরেজ প্লেয়ারদের আইপিএলে দেখতে পাওয়া যাবে। যদি এবারের মতো সামনের বছর থেকেও আইপিএল মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে মে মাসের মাঝামাঝি শেষ হয়ে যায়, এবং ইসিবিও যদি তাদের আন্তর্জাতিক মরশুম শুরুর সময়টা একটু এদিক–ওদিক করতে পারে, তাহলে ইংরেজ ক্রিকেটারদের বেশি করে নেবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের প্রতি ইংল্যান্ডের যে দৃষ্টিভঙ্গিটা বদলেছে, সেটা এখন প্রমাণিত। এখন ওরা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা।

এখন বিশ্বের সবথেকে বড় গণতন্ত্রে ভোট। তার মাঝে আইপিএল চলবে। আয়োজক হিসেবে দক্ষ বিসিসিআই থাকায়, সেটা নিয়ে বিশেষ চিন্তার কিছু নেই। নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বোর্ড এবারের আইপিএলের একাধিক সূচি তৈরি করে রেখেছিল। তাই ভোটের দিন ঘোষণা হওয়ার দু’দিনের মধ্যে বিসিসিআই আইপিএলের সূচি ঘোষণা করতে পেরেছে। এই সব লোকেরা দারুণ কাজ করছে। কিন্তু এরা কোনও কৃতিত্ব পায় না। এটা একেবারে টেলিভিশনের মতো। যাদের মুখ দেখা যায়, তাদের নিয়েই আলোচনা হয়। অথচ আসল নায়ক হল পর্দার পেছনে থাকা লোকেরা, যাদের জন্যই সর্বোচ্চ মানের সম্প্রচার সম্ভব হয়। এদের দেখা যায় না। কিন্তু ধারাভাষ্যকাররা এটা জানে।
কয়েকজন অনিয়মিত প্লেয়ারের কাছে এবারের আইপিএল গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ভাল পারফরমেন্স করলে এরা বিশ্বকাপের দলে ঢোকার দাবি জানাতে পারবে। ঘরানাটা আলাদা হলেও, আইপিএলের পারফরমেন্স কয়েকজনের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক হতে পারে। স্টিভ স্মিথ আর ডেভিড ওয়ার্নারের পারফরমেন্সের ওপর কড়া নজর রাখা হবে।

ওরা দীর্ঘ দিন পরে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে। ভারতের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজটা জেতায় অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের ওপর যে কালো মেঘ ছিল, সেটা কেটে গেছে। ফলে এখন স্মিথ, ওয়ার্নারের ফেরার রাস্তাটাও অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। সেই চাপা, গুমোট ভাবটা আর নেই। যদি দু’জনে ক্লিক করে, তাহলে শুধু অস্ট্রেলিয়াই স্বস্তি পাবে তা–ই নয়, ওদের ফ্র্যাঞ্চাইজিরাও নকআউটে বা ফাইনালে খেলবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত