প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সঠিক নির্দেশনা নেই বিএনপির তৃণমূলে

ডেস্ক রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় তিন মাস পরও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বিএনপিতে। ওই নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের লাখ লাখ নেতাকর্মীকে উজ্জীবিত করতে কোনোরকম গাইডলাইন বা দিকনির্দেশনা এবং মনিটরিংও নেই। ফলে হতাশ হয়ে পড়ছেন দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

একই সঙ্গে কেন্দ্রের ওপরও ক্ষুব্ধ তারা। অচিরেই নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করে তাদের সক্রিয় করা না গেলে সাংগঠনিকভাবে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির অনেকে।

দলীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের পর মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়ে বিএনপির প্রাণ বলে খ্যাত দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। মামলা-হামলা ও গ্রেফতার আতঙ্কে অনেকটা দিশেহারা তারা। এমনকি তৃণমূলের একটি অংশ রাজনীতি থেকেও দূরে সরে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। বাকিরাও আগের মতো সক্রিয় নয়। নির্বাচন-পরবর্তী দলীয় কর্মসূচিগুলোতে কমেছে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি।

এই স্থবিরতা কাটাতে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি দলটির হাইকমান্ড। কয়েক দফা বৈঠক হলেও কোনো পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে পারেনি তারা। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ- সঠিক পরিকল্পনা তো নেই বরং প্রেস ব্রিফিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ কেন্দ্রের কার্যক্রম। দলীয় কর্মকাণ্ড না থাকলেও কেন্দ্রীয় নেতারা ব্যস্ত নিজেদের সুযোগ-সুবিধা আদায়ে। নিজের পদ পেতে এবং অনুসারীদের পদ পাইয়ে দিতেই বেশি তৎপর তারা।

কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে টকশো আর নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে অনেকটা আয়েশিভাবে সময় পার করছেন। দল ক্ষমতায় থাকাকালে যারা মন্ত্রী-এমপি হয়ে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন, তাদের অনেকেই এখন দল ও তৃণমূল থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ওপর ঝড় বইয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের সেদিকে নজর নেই। ফলে দিন দিন বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিগত সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতির কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে তৃণমূল নেতাদের মতামত নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের মতামত এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে কেন্দ্রীয়ভাবে গঠিত কয়েকটি টিম বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। তাদের অভাব-অভিযোগ জানার পাশাপাশি যে কোনো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলাসহ সার্বিক বিষয় দেখভালের জন্য সংশ্লিষ্ট নেতাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনের পর তৃণমূলকে চাঙ্গা করতে সঠিক পরিকল্পনা নেয়া উচিত ছিল, তা হয়নি। ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা ভর করা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে তৃণমূলের দিকে নজর দেয়া উচিত।

তাদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রত্যাশা ও সাহস জোগানো প্রয়োজন। আগামীতে করণীয় সম্পর্কে তাদের একটা গাইডলাইন দিতে হবে। যার ওপর ভিত্তি করে তারা আগামীতে আন্দোলন-সংগ্রামসহ সার্বিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, বিভিন্ন কারণে মাঠের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় অনেক নেতাকর্মী। এখনই তাদের সক্রিয় করা যাচ্ছে না। তবে সর্বস্তরে দল পুনর্গঠন করে আবারও তাদের সক্রিয় করার চেষ্টা রয়েছে। বিএনপিকে এখন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে রাজনীতি করতে হচ্ছে। তাই যখন যা ইচ্ছে তা করা যাচ্ছে না।

এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের বাইরে থাকায় তাদের নির্দেশনা নিয়ে সময়োপযোগী পদক্ষেপও নেয়া যাচ্ছে না। ফলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চূড়ান্তে একটু ধীরে চলো নীতি নিতে হচ্ছে।

এদিকে দলটির গঠনতন্ত্র অনুসারে তিন বছর পর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ বছর সঠিক সময়ে তা করতে পারেনি। ১৯ মার্চে কাউন্সিলের মেয়াদ শেষ হয়। নির্দিষ্ট সময়ে কাউন্সিল কেন করা সম্ভব হয়নি এ ব্যাপারে তৃণমূলে কোনো বার্তাও পাঠানো হয়। এ জন্যও তৃণমূল নেতারা চরম ক্ষুব্ধ।

তবে বিএনপির বিভিন্ন সূত্র জানায়, সংসদ নির্বাচনের পর দলটির ভেঙে পড়া সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও তা এখনও শুরু হয়নি। অঙ্গসংগঠনগুলো যেভাবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিপর্যস্ত নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করার মতো কোনো কার্যক্রমও শুরু করেনি দলটি।

নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ। সারা দেশে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা হাজার হাজার মামলা পরিচালনার জন্য ১০টি বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হলেও তাদের কার্যক্রম এখনও দৃশ্যমান হয়নি।

অনেক জেলার নেতাকর্মীদের কারাগার থেকে মুক্ত করতে নেই কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা। কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের পরিবারের মানবেতর জীবন ও অসহায়ত্বের কারণেও অনেক কর্মী রাজনীতির ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন। অনিশ্চিত জীবন নিয়ে তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত কেন্দ্রের কোনো গাইডলাইন আমরা পাইনি। কেন্দ্রীয়ভাবেও কোনো কর্মসূচিও দেখা যাচ্ছে না। এতে করে নেতাকর্মীরা কিছুটা হতাশ। দল পরিচালনাসহ আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামের জন্য পুনর্গঠন জরুরি। এটি কীভাবে করা সম্ভব তা নিয়ে তৃণমূলের মতামত নেয়া উচিত কেন্দ্রের। সেই মতামতের প্রতিফলন ঘটলে দল সুসংগঠিত হবে।

বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে তৃণমূলে এক প্রকার হতাশা রয়েছে। তবে এ হতাশা দূর করতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। তৃণমূলের মতামত নিয়ে দল পুনর্গঠনের কাজ করছেন তিনি। বিগত সময়ে যারা রাজপথে ছিলেন বিশেষ করে ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক নেতাদের খুঁজে বের করে সংগঠনের দায়িত্ব দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ কার্যকর হলে দল দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করি।

 

সূত্র : যুগান্তর।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত