প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চান শ ম রেজাউল করিম

নিজস্ব প্রতিবেদক : কোনো পরিবর্তন আনতে গেলে যেমন আন্তরিক ইচ্ছা থাকে, তেমনি দরকার সৎ সাহস। নিজের উপর আত্মবিশ্বাসের পারদটি কতো মজবুত হলে যুগের পর যুগ চলে আসা বিধানকে জনবাবন্ধব ও হয়রানিমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ৩৭ দিনের মাথায় যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তাতে ঢাকা মহানগরীর শুধুমাত্র রাজউকের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাই নয়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় ভবন নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া যাবে মাত্র ৪টি সংস্থার অনাপত্তিতেই। শুধুমাত্র তা-ই নয়, মে মাসের পর ভবন নির্মাণের অনুমোদনের জন্য কোনো ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আর অনুমোদনে যেখানে প্রায় ছয় মাস (১৫০দিন) সময় লাগতো, সেখানে অনুমোদন পাওয়া যাবে মাত্র ৫৩দিনের মধ্যে। সেটা অবশ্য ৭ দিনেও হতে পারে।

বলছিলাম গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের কথা। আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই শেখ হাসিনার তৃতীয় দফার মন্ত্রিসভায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনহয়রানির অভিযোগ বেশ পুরোনো। এমন জঞ্জালযুক্ত একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ক্লিন ইমেজের শ ম রেজাউল করিমকে। দায়িত্ব নিয়ে এ পর্যন্ত তিনি একের পর এক জনবান্ধবমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর প্রথম নেয়া সিদ্ধান্তটি সময়ের বিবেচনায় ঐতিহাসিক। ১৬টি সংস্থার পরিবর্তে মাত্র চারটি সংস্থার অনাপত্তির ভিত্তিতে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপ‚র্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, দীর্ঘদিনের অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা যুগান্তকারী কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মতো আমাদের অন্যান্য যেসব নগর কর্তৃপক্ষ রয়েছে সেগুলো থেকে ভবন নির্মাণের জন্য নকশার অনুমোদন নিতে হয়। এতদিন এই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ১৬টি স্তর অতিক্রম করতে হতো। এই স্তরগুলো অতিক্রম করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হতো। আমরা দেখেছি গতানুগতিকভাবে যে ১৬টি স্তর অতিক্রম করতে হতো এর কোনো আবশ্যকতা নেই। আমরা ১২টি স্তরকে বাদ দিয়ে দিচ্ছি। এই ১২টি স্তরের কোনো প্রয়োজন নেই। এখন ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের জন্য সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ, গ্যাস সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ, ওয়াসা, পুলিশ, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডবিøউটিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ ১২টি সংস্থার অনুমোদন আর প্রয়োজন হবে না। ভ‚মি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র নিতে হবে। ভবনের উচ্চতার বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি নিতে হবে। যে এলাকায় বিমান চলাচলের পথ নেই সেই এলাকা নির্ণয় করে এত সহজ করে দেব যে, কর্তৃপক্ষ ম্যাপটাকে ফলো করে প্ল্যান দিতে পারবেন। এই অঞ্চল বিমান চলাচলের জায়গা নয়, এ বিষয়ে একটা গেজেট নোটিফিকেশন লাগবে। যেখানে বিমান চলাচল নেই, সেখানে অনাপত্তিপত্র আনতে যেতে হবে না। বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিশেষ বিশেষ এলাকা বা স্পর্শকাতর এলাকার পাশে কোনো ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর অনাপত্তি লাগবে। আর ১০ তলা ভবনের ঊর্ধ্বে হলে ফায়ার সার্ভিসের অনাপত্তি লাগবে। এ ছাড়া কোনো প্রয়োজন নেই।

একইভাবে তিনি রাজউকের উত্তরা তৃৃতীয় প্রকল্প, পূর্বাচল, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ সকল সংস্থার কাজের গতি বাড়ানোর উপর তাগিদ দিয়েছেন। শ ম রেজাউল করিম তৃণমূল রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যেমন ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তেমনি কেন্দ্রীয় রাজনীতির সম্ভাবনাময় নেতাদের অন্যতম তিনি। এ কারণেই হয়তো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। ওয়ান ইলেভেনের পট পরিবর্তন পরবর্তী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রথম মন্ত্রিসভার সময়ে এই মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের নারী-নক্ষত্র আগে থেকে জানার কারণেই অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত তিনি নিতে পেরেছেন বেশ সহজেই। জনবান্ধন এসব সিদ্ধান্ত প্রশংসিত হয়েছে নানাভাবেই।
শ ম রেজাউল করিম দায়িত্ব গ্রহণের পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রচেষ্টা বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের অল্পদিনের মধ্যেই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান পুলিশের ভবন নির্মাণে প্রায় ৫ শতাংশ অতিরিক্ত খরচে’র টেÐার প্রক্রিয়া তিনি অনুমোদন না দিয়ে পূণ:দরপত্রের নির্দেশ দিয়েছেন। যেসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কারণে গণপূর্তের উন্নয়ন কাজ ব্যহত হচ্ছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আর্থিক দুর্নীতি বন্ধে সক্ষম হয়েছেন।

শ. ম. রেজাউল করিম এমপি ১৯৬২ সালের ১৮ ফেব্রæয়ারি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মো. আব্দুল খালেক শেখ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট, আইন বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সাবেক সম্পাদক, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, তিনি কনিষ্ঠতম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৭ সালে বরইবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে এস এস সি, ১৯৭৯ সালে এইচ.এস.সি, ১৯৮৩ সালে এলএল.বি ডিগ্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম.এস.এস ডিগ্রী অর্জন করেন। ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত শ ম রেজাউল করিম। ১৯৮০ সালে খুলনা দৌলতপুর সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি), ১৯৮১ সালে খুলনা কৃষি কলেজের সাধারণ সম্পাদকের (জিএস) দায়িত্ব পালন করেন। তিনি খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলন। ১৯৮৯ সালে নাজিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৯০ সাল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য হিসেবে কাজ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে আইন পেশায় মনোযোগী হন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী থাকাকালেও তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রে সুপ্রিম কোর্ট প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন।

তিনি বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি আইনজীবীদের সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য। বার কাউন্সিলে ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য, ঢাকাস্থ পিরোজপুর জেলা আওয়ামী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, পিরোজপুর জেলা সমিতি, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মানবাধিকার আইনজীবী লীগের সভাপতি এবং সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত ‘‘আইনজীবী সাংস্কৃতিক সংসদ’’ এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

এক এগারোর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেপ্তারের পরে তাকে আইনী সহায়তা দানের জন্য সর্বপ্রথম জননেত্রী শেখ হাসিনার সহিত সাক্ষাতের জন্য তত্ত¡াবধায়ক সরকারের নিকট লিখিত অনুমতি প্রার্থনা করেন। এছাড়া, তত্ত¡াবধায়ক সরকার কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিরম্নদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা ও হয়রানী বিষয়ে ১৭/১০/২০০৭ তারিখে হাউস অব কমন্সে গেষ্ট হিসাবে উপস্থিত হয়ে দায়ের করার মামলার ভিত্তিহীনতা তুলে ধরেন। জেল হত্যা মামলায় জাতীয় ৪ নেতার পরিবারের আবেদনক্রমে সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত অন্যতম আইনজীবী হিসাবে হাইকোর্টে জেল হত্যা মামলা পরিচালনা করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের অন্যতম আইনজীবী হিসাবে সরকার কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে উক্ত মামলা পরিচালনা করেন। দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, শেখ সেলিমের মতো রাজনীতিবিদদের আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। টেলিভিশন টক শোতে পরিচিত মুখ শ ম রেজাউল করিম। সমসাময়িক যে কোনো ঘটনায় টিভির পর্দায় নিয়মিত দেখা যায় তাকে। বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের দাবিতে তিনি সব সময় সোচ্চার। যেকোনো ইস্যুতে আওয়ামী লীগের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। তিনি মানবাধিকার ও আইনী সেবাম‚লক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি হিসাবে শেখ রাসেল স্মৃতি পদক; বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ পদক; অতিশ দিপঙ্কর স্বর্ন পদক; ইউনেস্কো ক্লাব পদক; আইন ও মানবাধিকারে লালন পত্র পদক-২০১১; শের-ই-বাংলা জাতীয় স্মৃতি পদক এবং মানবাধিকার পদক সহ ১৪ টি পদক লাভ করেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের নাম মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব। ইতিহাসের দায় মুক্তি (মানবতা বিরোধী শীর্ষ অপরাধীদের ফাসির রায়ের সংকলন)। তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের দর্পণ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। এছাড়া, তিনি জাতীয় ও সামাজিক বিষয়ে নিয়মিত আলোচক হিসাবে টেলিভিশনে টকশো, বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণসহ, সংবাদপত্রে নিয়মিত নিবন্ধ প্রকাশের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, সাংবিধানিকভাইে আবাসন মানুষের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব গৃহায়ন ও গণপ‚র্ত মন্ত্রণালয় এবং তার অধীনস্থ সংস্থাগুলোর। তাই মন্ত্রণালয় বা সংস্থাগুলোকে জনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এখানে এসে জনগণ যাতে কোন হয়রানির শিকার না হয়, সে দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। ভ‚মি বা ফ্ল্যাটের নামজারিতে যাতে কেউ কষ্ট না পায়, বা অহেতুক কালক্ষেপণের শিকার না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সজাগ থাকতে হবে। দেশের আবাসন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভিক্ষুক ও বস্তিবাসী থেকে শুরু করে সব মানুষের জন্য স্বল্পম‚ল্যে আবাসনের ব্যবস্থা করতে অনেক প্রকল্প ও পরিকল্পনা নিয়েছে যা অতীতের কোনো সরকার করেনি। এসব পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জনগণের জন্য উন্নত আবাসন নিশ্চিত হবে। ঝিলমিল, প‚র্বাচল, উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্পসহ সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এগিয়ে আসছেন। অদ‚র ভবিষ্যতে প‚র্বাচল এমন এক আধুনিক নগরী হবে যা আমাদের প্রতিবেশী দেশও দেখেনি কোনোদিন। উত্তরা তৃতীয় পর্ব দেখে মানুষ বিস্মিত হবে। শহরের পাশাপাশি গ্রামেও আবাসনের আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে।

রেজাউল করিম বলেন, ‘জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধ পরিকর। আমরা দেশের সব মানুষের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। এ কাজে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। সেরকম হলে এর দায় ওই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে। আমার বিশ্বাস যে, একটি সমন্বিত অবস্থার ভেতর থেকে গৃহায়ন এবং গণপ‚র্ত মন্ত্রণালয়কে অধিকতর জনমুখি, জনবান্ধব এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাজের স্পিরিট যে, উৎসর্গ করতে হবে সবকিছু জণকল্যাণে সেই জায়গায় আমি সাফল্য দেখাতে সক্ষম হব।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন রয়েছে। তিনি মনে করেন, ট্যাক্সের টাকা গ্রামের অসহায় দরিদ্র কৃষকও দেয়। শ্রমিকরা দেয়। ঢাকায় আমরা যারা বসবাস করি আমরাও দেই। কিন্তু নাগরিক সুবিধা আমরা যারা শহরে বাস করি তারাই বেশি ভোগ করি। এই জন্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন যে, গ্রামের মানুষের নগরের সুবিধা দিতে হবে। শহরে পানি সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা আছে আমি গ্রামে পানি সাপ্লাইয়ের কথা ভাবছি। বিদ্যুতের সরবরাহ শহরে যেভাবে আছে গ্রামে সেভাবে দিতে চাই। স্থাপত্য উন্নয়ন নিতে চাই। এই জন্যে প্রথম শর্তটা হবে ডিসেন্ট্রালাইজেশন। মানুষ কাজের জন্যে ব্যবসার জন্যে প্রতিষ্ঠার জন্যে সবাই শহরমুখী। আমি যদি গ্রামে সেই স্থাপত্য আনতে পারি এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিতে পারি তাহলে তারা ওই কেন্দ্রীকতায় থাকবে। নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, আমি চীনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ডেলিগেশন টিমের সঙ্গে গিয়েছি। চীনের গ্রামে একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকের বাড়ির কাছেও পাকা বিল্ডিং আছে, রাস্তা আছে। তবে তা হতে হবে পরিকল্পিত। শহরের কংক্রিটের জঞ্জালকে গ্রামে স্থানান্তর করতে চাই না। গ্রামে সুপরিকল্পিত উন্নয়ন করতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- ডেল্টা প্ল্যান। একশো বছরের পরিকল্পনাতে কি কি সম্ভাব্য হতে পারে সেটাকে সামনে রেখে ৫ বছর ৫ বছর করে আমরা বিন্যাস করেছি। কংক্রিটের অনাকাঙ্খিত নগরীতে পরিণত করবো না গ্রামকে। কিন্তু গ্রামের জন্যে প্রয়োজন স্থাপত্য উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নগরের সুফল দেওয়ার জন্যে যে পরিকল্পনা আছে আমার বিশ্বাস ৫ বছরের ভেতরে দেখবেন যে, আমাদের সনাতনী গ্রাম খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে শান্তির নীড় আধুনিক গ্রাম খুঁজে পাবেন যেখানে অসহায় মানুষকে টিনের নীচে কাঠের নীচে অথবা ছাওনির নীচে থাকতে হবে না। তারা নিশ্চিত আবাসন পাবে যা তার রাষ্ট্রীয় এবং সাংবিধানিক অধিকার।

আমার মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট যারা তাদের নিয়ে বসেছিলাম। আমি তাদের সকলকে বলেছি যে, আমার দিক নির্দেশনা হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা। তিনি বলেছেন দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স। কোন ভাবেই দুর্নীতি চলবে না। যদি কেউ দুর্নীতি করতে চান তাহলে আমাদের প্রয়াত নেতা সৈয়দ আশরাফের ভাষায় বলবো- দুর্নীতি করলে তাকে দুর্নীতিতে যেতে হবে। আর যদি প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারীর দায়িত্ব পালন করতে চান তাহলে দুর্নীতি পরিহার করতে হবে। যদি না করেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ আমার মাথার উপরে ছায়া হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আছেন। তিনি আমাকে বলেছেন, কোন ভাবেই দুর্নীতিকে ছাড় দেওয়া যাবে না। আমি ছোট্ট একজন মানুষ কিন্তু আমার আত্মবিশ্বাস, সততা এবং স্বচ্ছতা অনেক দৃঢ়, অনেক শক্ত।

অনেক বড় একটা মন্ত্রণালয় বারোটা অর্গানের সমন্বয়ে। টাইম লিমিট বলবো না তবে সনাতনী পদ্ধতিতে ধীরে ধীরে চলার গতিতে আমি বিশ্বাসী না। সারা দুনিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা যেখানে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে আকাশে পাঠিয়েছি, সমুদ্র বিজয় করেছি। স্থল সীমানার বিরোধ আমরা শান্তিপ‚র্ণ ভাবে নিষ্পত্তি করেছি। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু ৬০ শতাংশের উপরে কাজ হয়েছে। বাংলাদেশে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসায় কোন জায়গায় বিবস্ত্র লোক খুঁজে পাবেন না। কোথাও একটা লোক পাবেন না যে, লঙ্গর খানা খুলতে হচ্ছে না খেয়ে আছে। এই যে রেডিক্যাল চেঞ্জটা আসছে এই চেঞ্জের ধারাবাহিকতার সাথে সম্পৃক্ততা নিয়ে আমাদেরকে উদ্যাম গতিতে দ্রæততার সাথে এগিয়ে যাবো।
###

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত