প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিমানের দুর্নীতিবাজদের আমলনামা সচল

ডেস্ক রিপোর্ট : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পুরো সেক্টরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিগগির সাঁড়াশি অ্যাকশনে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়।

ইতিমধ্যে এ চক্রের প্রত্যেকের ‘দুর্নীতির আমলনামা’ মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে এসেছে, যা এখন যাচাই-বাছাইয়ের শেষ পর্যায়ে।
প্রথমে পাইলট নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয়।

পর্যায়ক্রমে বিমান ক্রয় ও লিজ খাতে দুনীতি, রক্ষণাবেক্ষণ ও ওভারহোলিং দুর্নীতি, গ্রাউন্ড সার্ভিস খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি, টিকিট ও কার্গো বাণিজ্য, মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে জিএসএ ও কার্গো জিএসএ নিয়োগ প্রদান, বৈদেশিক স্টেশনে কার্গো পরিবহনে অনিয়মের তদন্ত করা হবে বলেও মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান।

এদিকে বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে বিমানের মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তাদের ডেকে নিয়ে টিকিট বিক্রিতে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এরপর বিভাগটিকে ঢেলে সাজানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।
পাইলট নিয়োগ অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী চক্রটি নানা চেষ্টা করলেও তাদের আর শেষ রক্ষা হচ্ছে না। যদিও এ সেক্টরের বিভিন্ন পর্যায়ে বড় বড় দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী মহলটি ইতিমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। সূত্র বলছে, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। তাই কেউ অন্যায়-দুর্নীতি করে পার পাবে না। কিছুটা বিলম্বে হলেও এ সেক্টরের অনিয়ম-দুর্নীতি শক্ত হাতে দমনসহ জড়িতদের একে একে আইনের কাঠগড়ায় হাজির করতে জিরো টলারেন্সের নীতি গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়। প্রয়োজনে এ সেক্টরের প্রতিটি ধাপ ঢেলে সাজানো হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, কারও বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পেলে তাকে ছাড়া হবে না। পাইলট নিয়োগে গুরুতর অনিয়মের বিষয়টি ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে এবং কারা দায়ী তা চিহ্নিত করতে ১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট দেয়ার জন্য কমিটিকে সাত কার্যদিবস সময় দেয়া হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই পাইলট নিয়োগের বিজ্ঞাপন সংশোধন করে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, যাতে পছন্দের লোকজনকে সহজে নিয়োগ দেয়া যায়। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে চাকরিতে আবেদনের যোগত্যা হিসেবে বয়সসীমা শিথিল করে ৩০ থেকে ৪০ করা হয়। নিয়ম হল, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নতুন পাইলট সৃষ্টি করবে। জুনিয়র হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলবে। কিন্তু তা না করে তারা বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত পাইলটদের তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগ দিতে এই পথ বেছে নেয়া হয়। এছাড়া এ নিয়োগের ফলে এসব পাইলট যে এয়ারলাইন্সগুলো থেকে এসেছে সেসব প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত বিমানের বোর্ড সভায় অনিয়মের বিষয়টি উপস্থাপন করে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। জানতে চাওয়া হয়, কেন বোর্ডকে না জানিয়ে এভাবে পাইলট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সংশোধন আনা হল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

সূত্র জানায়, বিমানের পাইলট নিয়োগ অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জনেন্দ্র নাথ সরকারকে প্রধান করে ১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বৃহস্পতিবার থেকেই কাজ শুরু করেছে। জানা যায়, শুধু পাইলট নিয়োগ নয়, টিকিট বিক্রি ও কার্গো পণ্য পরিবহনেও বড় ধরনের দুর্নীতির ফাঁদ তৈরি করেছে সংশ্লিষ্ট একটি চক্র। মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্নীতির চিত্র ও দুর্নীতিবাজদের পুরো আমলনামা চলে এসেছে। পর্যায়ক্রমে পুরো দুর্নীতিবাজ চক্রকে ধরা হবে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনও কাজ শুরু করেছে।

পাইলট নিয়োগে অনিয়মের তদন্ত শুরু : অভিযোগ উঠেছে, পাইলট নিয়োগ পরীক্ষায় বিশেষ প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দিতে একাধিকবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পরিবর্তন করা হয়েছে। নানা উপায়ে দুর্বল প্রার্থীকেও পাস করানো হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দক্ষতার চেয়ে স্বজনপ্রীতি বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশেষ কয়েকজন প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় পাস করানোর জন্য বারবার গ্রেস নম্বর বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংস্থার একজন শীর্ষ কর্মকর্তার ভাতিজা ও একজন পাইলটের ছেলেকে পাস করাতে গিয়ে ৫৬ জনকে পাস করাতে হয়েছে। অথচ বিমানের নীতিমালা অনুযায়ী নম্বর দিলে পাসের এই সংখ্যা দাঁড়াত সর্বোচ্চ ৭ থেকে ১০ জন।

জানা গেছে, প্রথম দফায় নির্দিষ্ট গ্রেস নম্বর দিয়েও ১৫ জনের বেশি প্রার্থীকে পাস করানো যায়নি। পরে দ্বিতীয় দফায় গ্রেস নম্বর বাড়ানো হয়।

তাতেও দেখা গেছে পছন্দের প্রার্থীরা পাস করেনি। শেষ পর্যন্ত গ্রেস নম্বরের পরিমাণ এত বেশি দিতে হয়েছে তাতে ৫৬ জনকে পাস করাতে হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন ও গ্রেস নম্বর দিয়ে পাসের হার বাড়িয়ে অদক্ষ ও কম যোগ্যতাসম্পন্ন পরিবারের সদস্যদের নিয়োগের পথ তৈরি করা হয়েছে। এতে বিমান সংস্থাটিতে বেশ কয়েকজন অদক্ষ পাইলট ঢুকে পড়েছে, যা বিমানকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, নিয়ম মেনেই তারা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। তিনি বলেছেন, তার ভাইয়ের ছেলে সব ধরনের নিয়ম মেনেই লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছে। মৌখিক পরীক্ষায় সে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে।

পুরো পরীক্ষার প্রক্রিয়াটি ভিডিও করা আছে বলেও তিনি জানান। এতে কোনো ধরনের লুকোচুরি বা কোনো স্বজনপ্রীতিও নেই। গ্রেস নম্বর দিয়েও কাউকে পাস করানো হয়নি। তৃতীয় একটি কর্তৃপক্ষকে দিয়ে লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। তাদের দেয়া লিস্ট অনুযায়ী পাস করা প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হযেছে। সব ক্ষেত্রে বিমানের নিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিশেষ কয়েকজন প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে একাধিকবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রথম দফায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যে যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিল তাতে বিমানের ওই শীর্ষ কর্মকর্তার ভাইয়ের ছেলে আবেদনের সুযোগ পাননি। পরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি শিথিল করা হয় তার জন্য। এছাড়া দুটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সে কর্মরত এক পাইলটের স্ত্রী ও একাধিক পাইলটের সন্তান নেয়ার জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বি-৭৩৭ ও ড্যাস-৮ উড়োজাহাজ চালানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এজন্য অভিজ্ঞ প্রার্থীদের বয়স ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪০ বছর করা হয়েছে। যার কারণে ৩টি এয়ারলাইন্স থেকে ২০ জন অভিজ্ঞ প্রার্থী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করেন। অপরদিকে সিপিএলধারী (কর্মাশিয়াল পাইলট লাইসেন্স) প্রার্থীদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১০ থেকে ১২ জন। যদিও একটি এয়ারলাইন্সের এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) না পাওয়ায় পাস করা ১০ প্রার্থীকে এখনও নিয়োগ দিতে পারেনি বিমান।

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহম্মেদ যুগান্তরকে বলেন, কোনো বিশেষ প্রার্থীকে গ্রেস নম্বর দিয়ে পাস করানো হয়নি। ৭-৮ জন নয়, সবমিলে ৭৬ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছেন। তাদের মধ্য থেকে ৩২ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে তার আপন ভাইয়ের ছেলে ও অন্য পাইলটের স্ত্রী-সন্তান থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, তারা যোগ্য হওয়ার পাশাপাশি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করেছেন।

জানা গেছে, বিমানের পাইলট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতা হিসেবে এসএসসি অথবা এইচএসসি অথবা অঙ্ক ও পদার্থসহ সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৩ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথমবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘জিইডি (জেনারেল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট) ডিগ্রিধারীরা এতে অংশ নিতে পারবেন না।

সিএএবি থেকে সিপিএল নেয়া অথবা সিএএবি কর্তৃপক্ষ থেকে এনডোর্স করা ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারবেন। এ বিজ্ঞপ্তিতে সিপিএলধারী এবং বি৭৩৭ ও ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ চালানোর অভিজ্ঞদের এক কাতারে দাঁড় করিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পরে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি অথবা গণিত কিংবা পদার্থবিজ্ঞানে গ্রেড বি অথবা জিপিএ ৩ প্রাপ্তরা যোগ্য হবেন।’
প্রাপ্ত অভিযোগ অনুসারে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিমানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা-পাইলটের ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রী সুবিধা পেয়েছেন। বিমানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার পাইলট ভাইয়ের সন্তানও বেশি সুবিধা পেয়েছেন। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে জিইডি ডিগ্রিধারীদের ব্যাপারে কোনো কিছুই বলা হয়নি। ফলে তারাও আবেদনের সুযোগ পেয়েছেন এবং লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। অনেকে পাসও করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘বিমানের প্রথম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কিছু ভুল ছিল। এ কারণে সংশোধন করা হয়েছে। জেনারেল এডুকেশন ডিগ্রিধারীদের (জিইডি) বিমানে পাইলট হিসেবে নেয়া যাবে না এমন কোনো শর্ত অর্গানোগ্রামে নেই।’

অভিযোগ আছে, ২০১৬ সালেও নানাভাবে অনিয়ম করে বেশ কয়েকজন বৈমানিক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিদেশে গিয়ে তাদের অনেকে সিমিউলেটর পরীক্ষায় (ট্রেনিং) পাস করতে পারেনি।

তখন অভিযোগ উঠেছিল স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়ার কারণে তারা ট্রেনিং পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। এতে বারবার ট্রেনিং সিডিউল নিতে গিয়ে বিমানকে কোটি কোটি টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে।

এ প্রশ্নের জবাবে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দিক আহম্মেদ বলেন, এরকম তিনজন পাইলট আছেন। তাদের একাধিকবার সুযোগ দেয়া হয়েছিল কিন্তু তারা পাস করতে পারেনি। এখন তাদের নিজেদের টাকায় সিমুলেটর ট্রেনিং করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে বিমানের লন্ডন-জেদ্দা-রিয়াদসহ কয়েকটি বৈদেশিক স্টেশনের কার্গো কেলেঙ্কারির বিষয়টি পর্যালোচনা করছে মন্ত্রণালয়। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে। লন্ডনের কার্গো ট্রাভেল এজেন্ট জেএমজি ও এজেন্ট এয়ার এক্সপ্রেসের দুর্নীতি নিয়েও তদন্ত করবে মন্ত্রণালয়। এই দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কান্ট্রি ম্যানেজার আতিকুর রহমান চিশতী ও সফিকুর রহমানের বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হবে।

অভিযোগ আছে, এই দুটি এজেন্সির মাধ্যমে বিমানের লন্ডন অফিস সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এয়ার এক্সপ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ১ কোটি টাকার বেশি টিকিট বিক্রির অর্থ বকেয়া রেখে পালিয়ে গেছে। বিমানের তৎকালীন কান্ট্রি ম্যানেজার শফিকুর রহমান ও আতিকুর রহমান চিশতীর সঙ্গে যোগসাজশে এই টাকা হাতিয়ে নেয় এয়ার এক্সপ্রেস।

পরে শফিকুর রহমান বিভিন্ন সাব-ট্রাভেল এজেন্সির কাছ থেকে ওই টাকা আদায় করলেও বিমানের কোষাগারে জমা দেননি। এছাড়া কার্গো ট্রাভেল এজেন্ট নিয়োগ না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে জেএমজির মাধ্যমে যোগসাজশে কোটি কোটি টাকার হাতিয়ে নিয়েছে সিন্ডিকেট।

এখন কার্গো অনিয়ম-দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ওই কান্ট্রি ম্যানেজার সফিকুর রহমানকে বিমানের কেন্দ্রীয় কার্গো শাখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দিক আহম্মেদ বলেন, সফিকুর রহমানকে কেন্দ্রীয় কার্গোর দায়িত্ব দেয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। কার্গো জিএম আরিফুর রহমান বর্তমানে ছুটিতে আছেন। এ কারণে সাময়িকভাবে কয়েকদিনের জন্য সফিকুর রহমানকে কার্গো শাখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সূত্র : যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত