প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কবিতায় (!) ভাষার ব্যবহার

আবুল কাইয়ুম : এক ভদ্রলোক অসাধারণ শব্দসম্ভার ও চিত্রকল্প দিয়ে আবেগদীপ্ত কবিতা (!) সাজিয়ে পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। নেরুদাকে টেনে আনলেন এক পঙক্তিতে এবং শেক্সপিয়রের ওথেলোকে নামালেন আর একটিতে। লাইক আর সাধুবাদের বন্যায় ছেয়ে গেলো তার স্ট্যাটাস। এমন কবিতা না পড়ে পারা যায়! পড়লাম এবং সাদা চোখেই দেখলাম তার ভাষার বহর। ক্ষুদ্র এই রচনায় ‘ঘামভেজা’ শব্দটিই এনেছেন চারবার, সমাপিকা ক্রিয়াপদের স্থলে অসমাপিকা ক্রিয়াপদ ব্যবহার করেছেন দু’তিন জায়গায় এবং বানানে ভুল ছিলো দু’ডজনের মতো।

তার ভাষাবন্ধের কিছু নমুনা দেখুন। কবিতার (!) দুটো লাইন ছিলো এ রকম : “লোভের খিদায় দোজগের বড়শি গিলে/নর্দমায় নিমগ্ন সব বিধবা ভাবনা”
মন্তব্য : ‘খিদা’ নয় ‘ক্ষুধা’ হবে। অবশ্য চলিত ভাষায় ‘খিদে’ বলার প্রচল আছে, তা বললেও হতো। ‘দোজগ’ নয়, ‘দোজখ’। শব্দের ভুল বাদ দিলাম, কিন্তু ‘লোভের ক্ষুধা’ হবে কেন? লোভ কী কেউ খায়? আর বুঝলাম না ‘বিধবা ভাবনা’ নর্দমায় ডুবে যায় কী দুঃখে? হে ভাবনা, বিধবা হওয়ার জন্য তুই মরবি তো মর, নর্দমায় পড়ে কেন জীবন দিলি?

দুটো পঙক্তির অর্থ দাঁড়ায় এমন, “ভাবনারা লোভের ক্ষুধায় দোজখের বড়শি গিলে নর্দমায় নিমজ্জিত’। এবার বুঝুন।
আরো কয়েকটি লাইন দেখুন : “মেঘের প্লাবনে জোছনা লোকে গেলে/দূর থেকে বহুদূরে শুনি বিদ্যুতের সুর/কারণবিহীন ভুরু কুচকে ঝড়বাদল”
মন্তব্য : ‘জোছনা লোকে’ নয়, হবে ‘জোছনার আলোয়’ অথবা ‘জ্যোৎস্নালোকে’। ‘দূর থেকে’-এর পরে ‘বহুদূরে’ হবে না। ‘বহুদূরে শুনি’ একটি অসম্ভব কথা; বহুদূরে দেখা যায়, বহু দূরে শোনা যায় না, ‘বহু দূর থেকে শুনি’ বললে ঠিক হতো। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় লাইনের মধ্যে কোনও সম্বন্ধ খুঁজে পেলাম না।

ফেসবুকে সবাই লিখবেন। ফেসবুক দুনিয়াটি সব শ্রেণির মানুষের জন্য। সে ব্যাপারে কোনও কিছু বলার নেই। কিন্তু আলোচ্য লোকটি যে সাধারণ মানুষ নন, তিনি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন এবং নিজের নামের সাথে ‘কবি’ পদবি সেঁটে দিয়েছেন!

ফেসবুকে প্রায়শ এমন সব কবি (!) দেখা যায়, যারা নিজেরাই বোঝেন না কী লিখছেন এবং কতোটা ভাষাদূষণ ছড়াচ্ছেন। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত