প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাস করা সড়ক আইন কাজ করে না

ডেস্ক রিপোর্ট : পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো বা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন যেন এক লুকোচুরি খেলা। যখনই কোনো বড় আন্দোলন গড়ে ওঠে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানামুখী তৎপরতা দৃশ্যমান হয়। আলোচনা থেমে গেলে সব তোড়জোড় হারিয়ে যায়। প্রবলভাবে ফিরে আসে চিরপরিচিত নৈরাজ্য।

২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সড়ক পরিবহন আইন যুগোপযোগী করার পদক্ষেপ নেয়। এর পর খসড়া যাচাইয়ের নামে পেরিয়ে যায় ৮ বছর।

গত বছর শিক্ষার্থীদের অভাবিত আন্দোলনের মুখে তড়িঘড়ি করে প্রস্তুত হয়ে যায় আইনটি। পাসও হয় সংসদে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে গেলেও আইনটি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এটি কার্যকরের পথ খুঁজতে গত মাসে তিন মন্ত্রীকে নিয়ে একটি কমিটি করা হলেও তারা এখনো কোনো বৈঠকই করেননি। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার রাজধানীর সড়কে ঝরে গেছে আরেক শিক্ষার্থীর প্রাণ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নেমে এসেছেন রাস্তায়। আবারও মিলছে আশ্বাস।

গত সংসদে পাসের পর গত বছরের ৮ অক্টোবর সড়ক পরিবহন আইনের গেজেট হয়। কিন্তু বিধিমালা না থাকায় এখনই কার্যকর হচ্ছে না এটি। কবে নাগাদ বিধিমালা হতে পারে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনটির বাস্তবায়নে বড় বাধা পরিবহন নেতাদের আপত্তি। এ জন্য গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬তম সভায় আইনটি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ নির্ধারণ ও বাস্তবসম্মত সমাধানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে তিন মন্ত্রীর সমন্বয়ে কমিটি করা হয়। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও কমিটির একটি বৈঠকও হয়নি।

অনেকেই বলছেন, গত বছর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সারাদেশ উত্তাল না হলে হয়তো দশম সংসদে আইনটি পাসই হতো না। দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত জুলাইয়ে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনের মুখে আট বছর ঝুলে থাকা সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া ওই ঘটনার সাত দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। এর আগে পরিবহন নেতাদের বিরোধিতায় আইনটি পাস করা যাচ্ছিল না। সংসদে পাসের ছয় মাস পরও বহুল আলোচিত ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাস্তবায়নের অনেক ধাপ এখনো বাকি। বিধিমালা প্রণয়নের পর আইনটি প্রয়োগ শুরু হবে। সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ওই বৈঠকে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি করা হয়। এ কমিটি একাধিক বৈঠক করেছে। আজ বিকালেও তাদের বৈঠকে বসার কথা।

সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে সাজা ও জরিমানা আগের তুলনায় কয়েক গুণ বাড়িয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে পাস হয় সড়ক পরিবহন আইন। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সাজা তিন বছরের জেল থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়। ৩০২ ধারায় বিচার, অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত হত্যাÑ প্রমাণ হলে মৃত্যুদ-ের সুযোগ রাখা হয়। বেপরোয়া গাড়ি চালালে দুই বছরের জেল, ভুয়া লাইসেন্সের জন্য এক বছরের জেলের বিধান করা হয়। সড়কে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কর্মকর্তাদেরও শাস্তির আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে আইনে।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান আমাদের সময়কে বলেছেন, সড়ক আইনটি কার্যকর হবে বিধি প্রণয়নের পর। এ জন্য কাজ চলছে। আশা করি, দুমাসের মধ্যে হয়ে যেতে পারে। তিন মন্ত্রীর কমিটির বৈঠক শিগগির হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে একটি সূত্র বলছে, বিধিমালা প্রণয়নে আরও এক থেকে দুবছর লাগতে পারে। আইনের জন্য বিধি আরও বিস্তারিত এবং সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। বিধিতে কোন অপরাধে কী সাজা এবং কত টাকা জরিমানা হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। তা ছাড়া চালকের লাইসেন্সের পয়েন্ট নির্ধারণ করা হবে। কোন অপরাধে কত পয়েন্ট কাটা হবে, তা আইনে নেই। বিধিমালার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

এ রকম আরও বিষয় রয়েছে, যা বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত নতুন আইন কার্যকর হবে না। তার চেয়ে বড় কথা, পরিবহন নেতাদের চাপের কারণে নতুন আইনে সংশোধনীও আসতে পারে। তিন মন্ত্রীর কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া যাবে।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, ২০১০ সালে যুগোপযোগী সড়ক পরিবহন আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আট বছরে চারবার আইনের খসড়া তৈরি করা হয়। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা বেআইনি ধর্মঘটে সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ওই বছরের ২৭ মার্চ মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদন পায় খসড়া। আলোচনা থেমে যাওয়ার পর প্রায় দেড় বছর চলে যায় আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাইয়ে। পরে ছাত্র আন্দোলনের সময় আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। পরিবহন নেতাদের চাপই এ দীর্ঘসূত্রতার মূল কারণ বলে মনে করা হয়।
সূত্র : দৈনিক আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত