প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারত থেকে আমদানি হবে আরও ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ*মোট বিদ্যুতের ১০ থেকে ১৫ ভাগ থাকবে আমদানি নির্ভর

শাহীন চৌধুরী: ২. দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবেলা করতে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আরও ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করার পরিকল্পনা করছে সরকার। বর্তমানে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের পরিমাণ ১১৬০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে দুই দফায় ৫০০ মেগাওয়াট করে মোট ১ হাজার মেগাওয়াট পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় যুক্ত হয়েছে। বাকি ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে কুমিল্লায় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

৩. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত সেপ্টেম্বর মাসে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে সর্বশেষ আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি উদ্বোধন করেন। নতুন করে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর গ্রিড থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার আন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রিডে যুক্ত হয়। এই ৫০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট আসছে ভারতের সরকারি বিদ্যুৎ খাত ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট (এনটিপিসি) থেকে। অন্য ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছে ভারতের বেসরকারি খাত পাওয়ার ট্রেডিং করপোরেশন (পিটিসি) থেকে।

৪. প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে ভারত থেকে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা দিয়ে। পরের বছর দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি ভেড়ামারা আন্ত সংযোগ গ্রিডের সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ নেয়। এরপর নতুন করে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য সাবস্টেশন নির্মাণ ও এর সঙ্গে ভেড়ামারা-ঈশ্বরদী ২৩০ কিলোভোল্ট (কেভি) ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়।

৫. সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ২০১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে এবং ২০১৬ সালে ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে আমদানি শুরু হয়েছে। বাগেরহাটের রামপালে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও ভারতের এনটিপিসির মধ্যে সমান (৫০/৫০) অংশীদারিতে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

৬. সূত্রমতে, গত বছর এপ্রিল মাসে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ভারতের এনটিপিসি ও পিটিসি থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করে। এর আওতায় চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বল্প মেয়াদে এবং ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ মে পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদে বিদ্যুৎ আমদানির কথা রয়েছে। ৭. এনটিপিসি থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের দাম স্বল্প মেয়াদে ইউনিট প্রতি ৪ টাকা ৭১ পয়সা এবং দীর্ঘ মেয়াদে ৬ টাকা ৪৮ পয়সা ধরা হয়েছে। অন্যদিকে পিটিসি থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের দাম স্বল্প মেয়াদে ইউনিট প্রতি ৪ টাকা ৮৬ পয়সা ও দীর্ঘ মেয়াদে ৬ টাকা ৫৪ পয়সা ধরা হয়েছে।

৮. নতুন করে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রসঙ্গে সম্প্রতি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমাদের টোটাল মাস্টারপ্ল্যানে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিদ্যুত প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে নেব। যদি টেকনোলজি পারমিট করে এটা আমরা বাড়াতেও পারি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে জটিলতার বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, তবে শহরে বাড়ির ছাদের ওপরে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ চলছে। ৯. তিনি বলেন, অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন ৫০ হাজার মেগাওয়াট সোলারে করা সম্ভব আবার কেউ বলেন, ১০ হাজার মেগাওয়াট সোলারে করা যাবে ফলে আমরা নিজেরা কনফিউজড হয়ে যাই। তিনি বলেন, যদি বড় বড় ইকোনমিস্টরা এ ধরনের কথা বলেন সাধারণ মানুষ আরও বেশি কনফিউজড হয়ে যাবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত