প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খাদ্যমন্ত্রীর জামাতা ডা. রাজনের যে ছবি সবাইকে কাঁদাচ্ছে

টিবিটি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজন কর্মকারের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত হয়। পরে লাশ স্বজন ও সহকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাজন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের বড় মেয়ে কৃষ্ণা রাণী মজুমদারের স্বামী।

এদিন দুপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রাজনের লাশ নেয়া হয় তার কর্মস্থল বিএসএমএমইউতে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তার লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের কর্মকার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন রাজনের মামা সুজন কর্মকার। সোমবার রাতেই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

ডা. রাজনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌছলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।ছেলের লাশ বুকে জড়িয়ে রেখে তার মা বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন।

এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ডা. রাজনের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের অনেকেই এই ছবি শেয়ার করে লিখছেন’আর কোন সন্তানকে যেন এভাবে মায়ের বুকে ফিরতে না হয়।

ডা. রাজনের স্মৃতিচারন করে তার সহকর্মী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সহকারী অধ্যাপক ডা. মীর নওয়াজেশ আলী বলেন‘বাংলাদেশ আজ বুঝল না, কেমন চিকিৎসককে হারাল। বুঝবে আরও কয়েক বছর পর। মাত্র ৩৯ বছরের একজন চিকিৎসক যে কতটা মেধাবী হতে পারে, কতটা পজিটিভ হতে পারে, সেটা রাজনকে না দেখলে বিশ্বাস করা যেত না। আমরা বোঝাতে পারব না, রাজনকে হারিয়ে কেমন সম্পদকে হারালাম আমরা। বাংলাদেশ কেমন সম্পদকে হারাল।’

ডা. রাজনের পরিবার ও তার সহকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন,এর আগেও রাজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো।তখন রাজনের অসম্মতি থাকায় বিষয়টি নিয়ে কোন পুলিশি অভিযোগ করা হয়নি।

এর আগে রাজনের ময়নাতদন্ত শেষে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সেলিম রেজা সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে ডা. রাজনের মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। মরদেহের হার্ট ও ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনাগুলো হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উল্লেখ্য যে, গত শনিবার রাত পৌনে ৪টার দিকে ডা. রাজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু রাজনের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তার পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা। তাদের দাবি, রাজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। তবে রাজনের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এ কারণে লাশের ময়নাতদন্ত নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল। পরিবার ও সহকর্মীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানায় রাজনের মামা সুজন কর্মকার একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে।

শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। রাজনের মামা সুজন কর্মকার যুগান্তরকে বলেন, ‘আশা করছি ময়নাতদন্তের পর রাজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে। তার মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কারণে আমরা এখন প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করব। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

রাজনের সহকর্মী বিএসএমএমইউর চিকিৎসক শাহনেওয়াজ বারী বলেন, ‘রাজনের মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি বলেই আমাদের মনে হয়েছে।’ ডা. রাজনের স্বজন ও সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তিন বছর আগে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের বড় মেয়ে কৃষ্ণা রাণী মজুমদারের সঙ্গে রাজনের বিয়ে হয়। কৃষ্ণা রাণী মজুমদার বিএসএমএমইউর জেনারেল সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। বিয়ের পর থেকেই ইন্দিরা রোডের একটি ভবনের চারতলায় থাকতেন রাজন ও কৃষ্ণা দম্পতি।

ওই ভবনের নিরাপত্তা কর্মী মো. ইউনুস জানান, শনিবার রাত ১টার দিকে রাজন বাসায় ঢোকেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান। আধা ঘণ্টা পর তিনি আবার বাসায় ফেরেন। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে ওই বাসায় বড় একটি জিপগাড়ি নিয়ে আসেন কৃষ্ণা রাণী মজুমদার। নিচে চালককে রেখে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে যান তিনি। আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে কৃষ্ণা

তার আনা গাড়িটির চালককে ফোন করে দ্রুত আরেকজনকে নিয়ে ওপরে যেতে বলেন। গাড়িচালক চিৎকার করে নিরাপত্তা কর্মীদের ওপরে যেতে বলেন। চালকের সঙ্গে ইউনুস রাজনের ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখেন রাজন চিত হয়ে মেঝে পড়ে রয়েছেন। রাজনকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে তাড়া দিতে থাকেন কৃষ্ণা। ইউনুস ও চালক মিলে চিকিৎসক রাজনের সংজ্ঞাহীন দেহ ধরে লিফটে নামিয়ে গাড়িতে তুলে দেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত