প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আমরা লজ্জিত আবরার’

আশরাফুল গনি সেতু, ফেসবুক থেকে, ‘আমরা লজ্জিত, আবরার। আমরা সত্যিই লজ্জিত বাবা। তোমাকে একটা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখালেও রাস্তায় তোমার নিরাপত্তা দিতে পারিনি। আবরারের কবরে মাটি দেওয়ার সময় ভাবছিলাম সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল থামবে কবে? এই স্বাধীন দেশে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই। পাব কি আমরা? আর কোনো আবরারের কবরে মাটি দিতে চাই না।’ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে এমন মর্মস্পর্শী স্ট্যাটাস দিয়েছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আশরাফুল গনি সেতু।

এই ঘটনাকে নিতান্ত দুর্ঘটনা বলে মানতে নারাজ সবাই। বরং নির্মম এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করছেন তারা। এমন এক সময়ে পরিবহন নৈরাজ্যের শিকার হলেন আবরার; যখন রাজধানীর সড়কে চলছে ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ। গতকাল মঙ্গলবার ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহের তৃতীয় দিনে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে দুই বাসের প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে বেঘোরে প্রাণ হারান আবরার। নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত বছর দেশব্যাপী যে উত্তাল আন্দোলন হয়েছে, সেই কর্মসূচির সক্রিয় কর্মী ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আরও একবার প্রমাণ হলো- রাজধানীর রাজপথে পরিবহন সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য কমেনি আজও।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নর্দ্দা এলাকার প্রগতি সরণির যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের রাস্তা পার হওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েন আবরার। রাস্তার উল্টো পাশে ছিল আবরারের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস। জেব্রা ক্রসিং পার হয়ে সেই বাসের কাছে যাচ্ছিলেন তিনি। ঠিক তখন ওই রাস্তায় দুটি বাসের প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে সুপ্রভাত পরিবহনের একটির ধাক্কায় ছিটকে পড়েন আবরার। এরপর সেই বাসটি তাকে চাপা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার নিথর দেহ টেনেও নিয়ে যায় খানিকটা। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আবরারের।

আবরার ছিলেন বিইউপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আরিফ আহমেদ চৌধুরী, গৃহিণী মা ফরিদা ফাতেমী ও একমাত্র ছোট ভাই আবিদ আহমেদ চৌধুরীকে নিয়ে থাকতেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায়। সমকাল

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত