প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাউন্সিলের মেয়াদ পূর্ণ হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট : ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল করে সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। ৩ বছর মেয়াদ পূর্ণ হলেও সব পদ পূরণ করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি দলটি। এই সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে তো পারেইনি বরং শীর্ষ নেত্রীর সাজা নিয়ে কারাগারে যাওয়ায় এবং একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অভাবিত ফলে আরও বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে বিএনপি।

কাউন্সিলের মেয়াদ পূর্ণ করলেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিএনপি। কাউন্সিলে দলকে শক্তিশালী করতে এক নেতার এক পদের বিধান রেখে খসড়া গঠনতন্ত্র অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রণালয় ভিত্তিক ২৬টি উপকমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। দলের সদস্য ফি ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা, মাসিক চাঁদা ৬ মাস না দিলে পদ স্থগিত, এক বছর না দিলে পদ বাতিল, টানা দুই বছর চাঁদা না দিলে তার প্রাথমিক সদস্য পদ স্থগিত, তিন বছর না দিলে প্রাথমিক সদস্য পদ বাতিল করাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয় কাউন্সিলে। এছাড়া স্বল্পসময়ের মধ্যে তৃণমূল বিএনপিকে শক্তিশালী করতে নেয়া হয় নানামুখী পদক্ষেপ। অঙ্গ দলগুলোকে পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

কাউন্সিলের নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের খোঁজ নিযে জানা গেছে, কাউন্সিলের পরে ৫০২ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, ১৭ সদস্যের স্থায়ী কমিটি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের ৭৩ জন

সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়। শুরুতে স্থায়ী কমিটির দুটি পদ ফাঁকা থাকলেও পরে তিন সদস্যের মৃতু্যতে নীতি নির্ধারণী ফেরামের ৫টি পদ শূন্য হয়। ছাত্র ও সহ ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও যুববিষয়ক সম্পাদক পূর্ণ মেয়াদে ঠিক করতে পারেনি। নানামুখী পদক্ষেপ নেয়ার পরেও এক নেতার এক পদের বিধান কার্যকর করতে পারেনি বিএনপি। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ৬১ নেতা একাধিক পদ ধরে রেখেছিলেন। ‘এক নেতার এক পদ’ বিধানের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ৩০ জন নেতা একাধিক পদ ছেড়ে দেন। কিন্তু বাকি পদের অনেকেই এই বিধানের প্রতি সম্মান দেখায়নি।

কাউন্সিলে বিষয়ভিত্তিক অর্থ ও পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি, আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, গবেষণা, শিল্প ও বাণিজ্য, স্থানীয় সরকার ও পলস্নী উন্নয়ন, নারী ও শিশু, যুব উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ, যোগাযোগ ও গণপরিবহন, এনার্জি ও খনিজ সম্পদ, মানবাধিকার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মুক্তিযুদ্ধ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মুত্তিযুদ্ধ, ক্ষুদ্র ঋণ, সুশাসন ও জনপ্রশাসন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় সংহতি ও এথনিক মাইনরিটি নামে ২৬টি উপকমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত ছিল। এক একটি কমিটিতে ১২ সদস্য রাখারও সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এই কমিটি গঠন হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিন বছরে বিভিন্ন সময়ে দেশের সাংগঠনিক সব জেলা কমিটি পূনর্গঠনের কাজ হয়েছে। কিন্তু শতভাগ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও এক নেতা একাধিক পদে থাকার আগ্রহের কারণে কমিটি গঠনে নানা সমস্যাও হয়েছে। এছাড়া গত তিন বছরে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠন হলেও বেশি ভাগ ক্ষেত্রে আংশিক কমিটি দিয়েই চলছে। কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার জন্য যে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে তা নিয়ে সুপার ফাইভ বা সেভেনের নেতারা তেমন কার্যকরী ভূমিকা নিচ্ছে না। ফলে বেঁধে দেয়া সময় পার হওয়ার পরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে না।

কাউন্সিলের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর বিএনপির কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে দলের সিনিয়র এক নেতা বলেন, পদ নেয়ার ব্যাপারে নেতারা যতটা আন্তরিকভাবে কাজ করে। পদের যে কাজ তা যদি আন্তরিকভাবে করত তাহলে হয়তো কাউন্সিলে নেয়া সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হতো। এছাড়া ১ বছরের বেশি সময় ধরে দলীয় চেয়ারপারসন কারাগারে থাকায় সাংগঠনিক কর্মকান্ডের গতি মন্থর হয়েছে। এর প্রমাণ হচ্ছে, চেয়ারপারসনকে কমিটি করার দায়িত্ব দিয়েছিল কাউন্সিলররা। তার প্রায় পুরোটাই দলীয় প্রধান করেছেন। কিন্তু এরপরে এক পদের বিধান কার্যকর করাসহ যেসব গুরুত্ব পূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা উচিত ছিল তা দায়িত্বপ্রাপ্তরা যদি করত তাহলে সাংগঠনিকভাবে কিছুটা হলেও এগিয়ে যাওয়া যেত।

দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব যোগ্যতার সঙ্গে পালন করায় কাউন্সিলের পরে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্বপান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সে সময় জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে আবার বিএনপি ‘ফিনিক্স পাখি’র মতোই ঘুরে দাঁড়াবে বলে ঘোষণা দেন মহাসচিব। আর কাউন্সিলের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর গতকাল সন্ধ্যায় গত তিন বছরে বিএনপির কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল যায়যায়দিনকে বলেন, কাউন্সিল হওয়ার পর দল সংগঠিত হয়েছে। যে সমস্ত কর্মসূচি ছিল পালন করেছে। নির্বাচনের মতো একটা বিশাল কর্মকান্ডে দল অংশ নিয়েছে। প্রতিকূলতা ভয়াবহ রকমের ছিল। এই সময়ের মধ্যে দলের শীর্ষ নেত্রী খালেদা জিয়াকে বেআইনি ও অন্যভাবে কারাগারে নেয়া হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গায়েবী মামলা দিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এরপরেও বিএনপি এখন পর্যন্ত সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবেই আছে। অটুট ও ভালো আছে। কাউন্সিলের সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। এক নেতার একপদের বিধান কার্যকরকরা সহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব ছোটখাটো বিষয়। সার্বিকভাবে বলা যায়, কাউন্সিলের পরে গত তিন বছরে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে নিঃসন্দেহে সফল হয়েছে বিএনপি।
সূত্র : যায় যায় দিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত