প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডাকসু ভবন প্রস্তুত হলেও আসেনি আসবাবপত্র

ডেস্ক রিপোর্ট : দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এবং হল সংসদ নির্বাচন শেষে এখন চলছে নব নির্বাচিতদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার পালা। এরই অংশ হিসেবে জরাজীর্ণ ডাকসু ভবন রং করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। তবে এখনো ভবনে ঢোকেনি নতুন আসবাবপত্র। ডাকসু ভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সপ্তাহ খানেকের মধ্যে নতুন আসবাবপত্র দেয়া হবে ছাত্র প্রতিনিধিদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। সে লক্ষ্যে এখন চলছে প্রস্তুতি।

মঙ্গলবার ডাকসু ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ডাকসু ভবনের দুই তলার জরাজীর্ণ কামরাগুলো (যেখানে প্রতিনিধিদের কক্ষ রয়েছে) রং করা হয়েছে। ভিপি, জিএস, এজিএস সহ সম্পাদক এবং সদস্যদের বসার কক্ষের দেয়ালে কাঠের বোর্ড লাগানো হয়েছে। ভিপি এবং এজিএসের রুমে একটি করে পুরানো টেবিল এবং কিছু চেয়ার দেয়া হলেও জিএসের কামরায় কোনো টেবিল নেই। সাহিত্য সম্পাদকের কামরা সম্পূর্ণ ফাঁকা। এক কোণায় কিছু পত্রিকা জমা করে রাখা হয়েছে। দরজার সামনে এখনো পদবি সংবলিত নেম পেস্নট লাগানো হয়নি। ফলে গিয়ে বোঝার উপায় নেই কোনটি কার রুম। খেলাধুলার রুম, কনফারেন্স রুম এবং সম্পাদক এবং সদস্যদের রুমেও রং করা হয়েছে। এসব রুমেও কিছুকিছু পুরানো চেয়ার এবং টেবিল পাতানো হয়েছে।

এতদিন ডাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলার শুধু পত্রিকা কক্ষটিই খোলা থাকত। বাকি সব রুমের দরজা বন্ধ থাকত। মাঝে মাঝে কনফারেন্স রুমে কিছু সেমিনার হলেও তা ছিল হাতেগোনা। টয়লেটের অবস্থাও ছিল ব্যবহারের অনুপযোগী। পত্রিকা রুমে পত্রিকাগুলো সারাদিনই পড়ে থাকত। খুব কম লোকই তা পড়ার জন্য সেখানে যেত। কিন্তু ডাকসু নির্বাচন হওয়ার পর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এরই মধ্যে ঐতিহাসিক এ ভবনে আসতে শুরু করেছেন। তবে রুমে এখনো আসবাবপত্র ঠিকভাবে সাজিয়ে তুলতে না পারার কারণে তারা গিয়ে পত্রিকা রুমে কিছুক্ষণ পত্রিকা পড়ে চলে যান। কামরাগুলোতে আসবাবপত্র ঠিকভাবে সাজিয়ে দিলে এবং দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হলে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে ডাকসু ভবন। এমনটাই মনে করছেন নির্বাচিতরা।

ডাকসুতে নির্বাচিত পদ ২৫টি হলেও ডাকসু ভবনের দুই তলায় নির্দিষ্ট কামরা আছে চারজনের জন্য। এরা হলেন- ভিপি, জিএস, এজিএস এবং সাহিত্য সম্পাদক। বাকিদের কক্ষগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ছড়ানো ছিটানো। যেমন ক্রীড়া সম্পাদকের কক্ষ কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পাশের ভবনে। অন্যদের তাও সংশ্লিষ্ট কর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবনে। তবে ডাকসুর দুই তলায় সব সদস্য এবং সম্পাদকের জন্য রয়েছে একটি নির্দিষ্ট রুম। যেখানে নির্বাচিত সকলে বসতে পারবেন।

ডাকসু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর নির্বাচিত ভিপি মো. নুরুল হক মাত্র একদিন এখানে এসেছেন। গত শুক্রবার ভিপি নুরুল হক তার কয়েকজন সহযোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে ভবন ঘুরে দেখেন। এছাড়া জিএস গোলাম রাব্বানী, এজিএস সাদ্দাম হোসেনসহ সম্পাদক এবং সদস্যরা প্রায় প্রতিদিনই এখানে পত্রিকা পড়তে আসছেন। তাদের সঙ্গে অন্য নেতাকর্মীরাও আসায় ডাকসু ভবন এরই মধ্যে কিছুটা প্রাণ পেয়েছে। তবে আগামী ২৩ তারিখে উপাচার্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলে পুরোদমে প্রাণ পাবে বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা এ ভবনটি।

এদিকে এরই মধ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে স্ব স্ব কামরার চাবি বুঝিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে রুমের কাজ শেষ না হওয়ায় প্রতিনিধিরা নিজেদের কামরায় না গিয়ে পত্রিকা রুমে গিয়েই আড্ডা দিয়ে সময় পার করছেন।

ডাকসুর দায়িত্বে থাকা সহকারী রেজিস্ট্রার আবুল কালাম আজাদ যায়যায়দিনকে জানান, ‘এরই মধ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আসতে শুরু করেছেন। তাদের বসার জন্য কিছু পুরানো আসবাব আপাতত দেয়া হয়েছে। নতুন আসবাবপত্রের অর্ডার দেয়া হয়েছে। সপ্তাহ খানেকের ভেতরই সেগুলো চলে আসবে। তখন আর এগুলো দেখতে এমন থাকবে না। এরই মধ্যে ভবনে রংচং করে সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। নতুন আসবাবপত্র প্রবেশ করলে এবং প্রতিনিধি ও তাদের অনুসারীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠলে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে ডাকসু। এরই মধ্যে অধিকাংশ ছাত্র প্রতিনিধিকে তার চাবি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা চাইলে যেকোনো সময়ই আসতে পারেন। গেমস রুমটি এখনো ব্যবহার উপযোগী করা যায়নি। তবে খুব শিগগিরই সেটিকেও প্রস্তুত করা হবে।’

কেন্দ্রীয় ২৫টি পদের মধ্যে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ২৩ জন এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন দুজন প্রতিনিধি। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস গোলাম রাব্বানী এরই মধ্যে জানিয়েছেন তারা পূর্ণঙ্গ প্যানেলে দায়িত্ব গ্রহণে প্রস্তুত। তবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্যানেল থেকে যে দুজন নির্বাচিত হয়েছেন তারা কি করবেন সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

নির্বাচিত ভিপি মো. নুরুল হক মঙ্গলবারও জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে শিক্ষার্থী এবং তাদের সহযোদ্ধাদের মতামত গ্রহণ করছেন। শিক্ষার্থীরা চাইলে তিনি এবং তার প্যানেলের আক্তার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। না চাইলে করবেন না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তারা আশা করছেন নির্বাচিত সকলেই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
সূত্র : যায় যায় দিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত