প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, ১০ ঘণ্টা পর যানচলাচল শুরু

মাসুদ আলম : ২) আজ মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৭টায় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের জ্রেবা ক্রসিংয়ে সু-প্রভাব পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলে আবরার আহমেদ চৌধুরী (২০) নিহত হয়েছে। তিনি মিরপুর বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

৩) এ ঘটনায় আবরারের বাবা অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আরিফুর আহমেদ চৌধুরীও আহত হয়েছে। সকালে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে আবরারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে দেওয়ার জন্য বসুন্ধরা গেটে আসেন আরিফ। রাস্তা পারাপারের সময় পশ্চিম পাশের জেব্রা ক্রসিংয়ে এ ঘটনা ঘটে।

৪) পথচারিরা বাসটি আটক করে। তার কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছেলে বাসে থাকা শিক্ষার্থীরা কয়েকটি বাস ভাংচুর করে। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। নিহতের খবর সহপার্ঠীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে রাস্তার দু’পাশে অবস্থান নেয়। আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নেয়। এতে প্রগতি সরণি সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সাদা কাপড়ে রক্ত লাগিয়ে অনেকে রাস্তার মাঝে শুয়ে পড়ে অনেকে। প্রথমে স্থানীয়রাও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নেয়।

৫) শিক্ষার্থীরা বলেন,আগামী বুধবার সকাল ৮টা থেকে আবারও আন্দোলন শুরু করা হবে। একই সঙ্গে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ এলাকা থেকে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহবান জানান তারা।

৬) ওই দিন বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ, ওই এলাকার কাউন্সিলর ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা। পরে যানচলাচল শুরু হয়।

৭) প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী গোলাম কিবরিয়া বলেন, তিনি আবরারদের পেছনে ছিলেন। বাসটি পাল্লাপাল্লি করতে গিয়ে আবরারকে চাপা দেয়। তার পেছনে ছিল আবরারের বাবা অল্পের জন্য বেঁচে যান। বাসটি থামানোর সংকেত দিলেও থামেনি।

৮) যানচলাচল বন্ধ থাকায় চড়ম দুর্ভোগে পড়েন পথচারিরা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

৯) দুর্ঘটনার আগে নিশাদ নামে এক শিক্ষার্থীকে ফোন করে আবরার বলে বসুন্ধরা গেটে পৌঁছানোর ৫মিনিট আগে যেন তাকে ফোন দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দিয়ে প্রতিদিন ক্যাম্পাসে যেত আবরার।

১০) শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। তাদের স্লোগানের মধ্যে মধ্যে ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, আবিরের বুকে রক্ত কেন, নিরাপদ সড়ক চাই, ভাইয়ের বুকে রক্ত কেন, প্রশাসনের প্রহসন মানি না মানব না, জেগেছে রে জেগেছে ছাত্রসমাজ জেগেছে, ও আমার ভাইয়ের বুকের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত