প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হন্যে হয়ে স্পনসর খুঁজছে মোহনবাগান, বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের আশ্বাস সচিব টুটু বোসের

রাশিদ রিয়াজ : ২. অর্থ সংকটে পড়েছে ভারতের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব মোহনবাগান। এমনিতে আই লিগে হতাশ করেছে দল। স্পনসরের নাম এখনও ঘোষণা করেনি মোহনবাগান। এই পরিস্থিতিতে রীতিমতো অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে মোহনবাগান সমর্থকদের একাংশ। সোশ্যাল মিডিয়ার বিক্ষোভের জের ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে ক্লাব তাঁবুতে। ৩.মোহনবাগানের একাধিক হোম ম্যাচে দেখা গিয়েছে শাসক শিবির বিরোধী পোস্টার, যার কোনও কোনওটা শালীনতার মাত্রাও ছাড়িয়েছে। এমনকী ক্লাব তাঁবুর সামনেও একাধিকবার বিক্ষোভ দেখিয়েছে একদল সমর্থক। মোহন সমর্থকদের এই অসহিষ্ণুতার মধ্যেই মুখ খুললেন ক্লাব সচিব টুটু বোস। জানালেন, অন্যদের মতো মোহনবাগান সমর্থক হিসেবে তিনিও ব্যথিত। একটি প্রেস বিবৃতিতে মোহন সমর্থকদের আবেগকে সম্মান জানিয়েই টুটু বোস জানান, কোনওভাবেই মাতৃসম মোহনবাগানের সম্মান ক্ষুন্ন করে কোনও সমঝোতা তিনি করবেন না।

৪. মোহনবাগান সচিব বলেন, ‘কয়েকটি ঘটনায় কয়েকদিন ধরে আমার মন ভারাক্রান্ত, অস্থির। এই পরিস্থিতিতে আমার মতো অনেকেই মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন। সহিষ্ণুতার বাঁধ ভেঙে নানাভাবে প্রকাশও করে ফেলছেন কেউ কেউ। নানা মাধ্যমে সে খবর আমার কাছে এসে পৌঁছেছে। ভাবছি একজন, মোহনবাগান সমর্থক হিসেবে এই বক্তব্যগুলি তো আমারও। দুঃখ, যন্ত্রণায় আছি আমিও। ভারতীয় ফুটবলে উদ্ভুত বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মোহনবাগান সচিব বলেন, ভারতীয় ফুটবল একটা সন্ধিক্ষণের সামনে দাঁড়িয়ে। আইএসএল বা আই লিগ নাকি যৌথ লিগ-কোনটা যাবে, সে সময় বলবে। আমি যৌথ লিগের পক্ষে, এই কারণেই যে তৃণমূল স্তর থেকে ফুটবলের উন্নতিতে এটাই একমাত্র সহায়ক পথ। ভারতের ফুটবলের স্বার্থে এই লড়াইটা আমাদের একসঙ্গে লড়তে হবে।’

৫. টুটু বোস বলেন, এই পরিস্থিতিতে কী করা উচিত, কয়েকদিন ধরে আমি বিস্তর ভেবেছি। কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনাও করেছি। আর এসবের মধ্যে একটা বিষয়ে আমি অনড় থেকেছি, যে পরিস্থিতিই আসুক প্রাণের চেয়ে প্রিয় মোহনবাগানের অস্তিত্ব এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে সামান্যতম আপসও করব না। মোহনবাগান আমাদের মা। মায়ের আবার আলাদা পরিচিতি হয় নাকি? ‘মা’ চিরন্তন মা’ই থাকে।

এরপরই মোহনবাগান সচিব আত্মবিশ্বাসেরর সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, আজ হোক বা কাল, স্পন্সর আসবেই। তিনি বলেন, সম্প্রতি আশেপাশের ঘটনাবলীতে আমি আতঙ্কিত। মোহনবাগানকে আমি ওই জায়গায় নিয়ে যেতে পারব না যাতে কিছুতেই ক্লাবের অস্তিত্ব এবং ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মোহনবাগান একটি সোসাইটি নথিভুক্ত ক্লাব। বহু চেষ্টার পর প্রিয় ক্লাবকে একটা সুরক্ষা দেওয়া গিয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে একটা ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। আমাদের সঙ্গে এখন যেই আসতে চাক মোহনবাগানের অস্তিত্বকে স্বীকার করে আসতে হবে। তাড়াহুড়ো করে এমন কোনও হটকারী সিদ্ধান্ত নিতে পারব না যাতে ইতিহাসের কাছে আমাদের অপরাধী হয়ে থাকতে হয়। অনেকে ভাবতে পারেন স্পনসর নেই বলে আমি এই কথাগুলো বলছি। ব্যপারটা তা নয়। আজ হোক বা কাল স্পনসর আসবেই। কিন্তু ক্লাবের অস্তিত্ব বিপন্ন করে মোহনবাগান কাউকেই গ্রহণ করবে না। এটাও একটা লড়াই। আমি জানি, এই লড়াইয়ে আপনারাও আমার সঙ্গে আছেন। সম্প্রতি কিছু সমর্থকের আচরণে তিনি যে ব্যথিত সে কথাও গোপন করেননি টুটুবাবু। তিনি বলেন, কয়েকজনের অশ্লীল মন্তব্য, মোহনবাগানের সংস্কৃতিবিরুদ্ধ কথাবার্তা দুঃখ দেয়, খারাপ লাগে। আর তখনই আপনাদের সঙ্গে, কাছের মানুষদের সঙ্গে কথা বলি। সুখে-দুঃখে আমরা একসঙ্গে থেকেছি। পেরিয়েছি অনেক বাধা-বিপত্তিও। এই লড়াইয়ে আমরা একসঙ্গে থাকব। জয় আমাদের হবে। সংবাদ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত