প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভিডিও বার্তায় আরসার উপস্থিতির ইঙ্গিত!

ডেস্ক রিপোর্ট : কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়ানো সদস্যদের সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সতর্ক করেছে কথিত রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। ওই ভিডিও বার্তাকে রোহিঙ্গা শিবিরে আরসার উপস্থিতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ব্যাংককভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফোরটিফাই রাইটস গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘আরসা তার ভিডিও বার্তায় শিবিরগুলোতে অপরাধ সংঘটনের কথা স্বীকার করলেও দায় অস্বীকার করেছে। আরসা শুধু বলেছে যে যারা অপরাধ করছে, তারা শুধু বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধেই কাজ করছে না বরং তাদের কাজের জন্য আরসার ওপর দায় চাপছে।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আরসার (সাবেক আল ইয়াকিন) সঙ্গে সম্পৃক্ত জঙ্গিরা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে অন্তত পাঁচজন রোহিঙ্গাকে অপহরণ ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত বলে মনে করা হয়।

গত মঙ্গলবার আরসা এক ভিডিও বার্তায় তার সদস্যদের ও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরগুলোতে ‘লড়াই, হত্যাসহ অপরাধমূলক কাজ’ থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানায়।

ফোরটিফাই রাইটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথু স্মিথ বলেন, ‘রোহিঙ্গা জঙ্গিরা যখন সাধারণ রোহিঙ্গাদের অপহরণ, নির্যাতন ও হুমকি-ধমকি দেয় তখন তাদের আচরণে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডই প্রতিফলিত হয়।’ তিনি বলেন, ‘এসব অপরাধের হোতাদের ন্যায্য ও নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’

ফোরটিফাই রাইটস বলেছে, জঙ্গিরা রোহিঙ্গা নারী ত্রাণকর্মী ও তাদের স্বজনদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইমাম, আরসার সমালোচক এবং বাংলাদেশ বা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে সন্দেহভাজন ‘তথ্যদাতাদের’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ফোরটিফাই রাইটসের প্রতিবেদনে এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনার তথ্য স্থান পেয়েছে।

ত্রাণকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত দুজন রোহিঙ্গা ফোরটিফাই রাইটসকে বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে ত্রাণ সংস্থাগুলোর হয়ে কাজ করার জন্য তাদের বা তাদের পরিবারের সদস্যদের অপহরণ করা হয়েছিল। একজন রোহিঙ্গা নারী বলেন, “আমাকে পাহাড়ের ওপরের ঘর থেকে অস্থায়ী একটি মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অপরিচিত লোকজন আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। পথে আমি কাঁদছিলাম। মসজিদে গিয়ে দেখি, আমার স্বামী ও আরো অনেককে নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদের লাথি ও ঘুষি মারা হচ্ছিল। তাদের (নির্যাতনকারীদের) একজন আমাকে বলেছে, ‘দেখ, আমরা কিভাবে পুরুষদের নির্যাতন করি।’ তুই যদি কাজ করিস (বাড়ির বাইরে) তাহলে তোকেও আমরা এমনটি করব।’’

ওই রোহিঙ্গা নারী ফোরটিফাই রাইটসকে বলেছেন, যারা তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল তাদের তিনি আরসা/আল ইয়াকিনের সদস্য বলেই মনে করেন। তিনি বলেন, ‘ওরা আল ইয়াকিন। আমাদের ব্লকে অনেক আল ইয়াকিন সদস্য আছে। তারা পুরুষদের নির্যাতন করে ও নারীদের হুমকি দেয়। আশ্রয়শিবিরের ভেতর তাদেরই রাজত্ব। তারা যা খুশি তা-ই করে।’

আরসা সদস্যদের নিপীড়নের ভয়ে ওই রোহিঙ্গা নারী বাইরে কাজ করা ছেড়ে দেওয়ার কথাও ফোরটিফাই রাইটসকে জানিয়েছেন।

মিয়ানমারের মংডু থেকে আসা আরেকজন রোহিঙ্গা নারী বলেছেন, ঘরের বাইরে কাজ করেন বলে তাঁর আত্মীয়কে আরসার সদস্য হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে গিয়ে হুমকি দিয়েছে। এরপর তিনিও ঘরের বাইরে কাজ করা ছেড়ে দিয়েছেন। ওই নারী বলেন, ‘আরসার সদস্যরা আমার আত্মীয়কে তুলে নিয়ে বলেছিল আমাকে চাকরি থেকে ছাড়াতে না পারলে তাকে পেটানো হবে।’

ফোরটিফাই রাইটস রোহিঙ্গা শিবিরে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের দুটি অপহরণের তথ্যও লিপিবদ্ধ করেছে। সংস্থাটি বলছে, ২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে সন্দেহভাজন আরসা সদস্যরা বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে অপহরণ করেছে বলে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে।

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি অপহরণের শিকার হওয়ার তথ্য জানিয়ে একজন রোহিঙ্গা বলেন, ‘তারা (অপহরণকারীরা) আমাকে বাংলাদেশ নিরাপত্তা বাহিনীর চর বলে অভিযোগ করেছে এবং তারা বলছিল আমিই নাকি তাদের একজন নেতাকে ধরিয়ে দিয়েছি।’

জঙ্গিদের কাছে ছয় দিন আটক থাকার বিষয়ে ওই রোহিঙ্গা বলেন, “ওরা আমাকে পিটিয়েছে। আমার মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল। এরপর আমাকে পেছন দিক থেকে লাথি মেরেছে। এখনো শরীরে এত ব্যথা যে নামাজে বসতে পারি না। ওরা আমাকে মাটির দিকে তাকাতে বাধ্য করে লাথি মেরেছে। নির্যাতন ছিল অসহনীয়। তারা আমার কাছে কখনো টাকা দাবি করেনি। শুধু ‘চর’ হওয়ার অভিযোগ তুলে আমার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।’’ তিনি বলেন, জঙ্গিরা তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেছে, ‘তোর জিহ্বা কেটে ফেলব। আমরা তোকে মেরে ফেলব।’
সুত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত