প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জিদান ফিরলেন ৩০০ মিলিয়ন ইউরোতে, পরিবর্তন কি মিলবে রিয়ালে?

আশরাফ রাসেল : রিয়াল মাদ্রিদের জাদুকর ফিরলেন তার সম্রাজ্যে। জিনেদিন জিদান সান্তিয়াগো বার্নাব্যু থেকে প্রস্থানের আগে যে ইতিহাস রচনা করে গেছেন, তা শুধু একজন জাদুকরের পক্ষেই সম্ভব। যেখানে কোন ক্লাব কখনও পরপর দু’বার চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ঘরের তুলতে পারেনি, সেখানে প্রথমবারের মতো বড় ক্লাবের দায়িত্ব পেয়ে জিদান টানা তিনবার জিতলেন। দ্বিতীয় দফায় জিদানকে ফেরাতে রিয়াল খরচ করেছে ৩০০ মিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশি প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকা!

বিশ্বকাপের কিছুদিন আগে জিদানের আকস্মিত বিদায়ের পর পরিবর্তন কী কী হয়েছে, তার যদি একটা তালিকা বানানো হয়, তাতে অনেক প্রসঙ্গ উঠে আসবে। তবে মুখ্য বিষয় হলো, তার বিদায়ের পর মাদ্রিদ প্রায় সবকিছু হারিয়েছে। তাদের সেরা খেলোয়াড়, দুইবার কোচ বিপর্যয়, এক সপ্তাহের মধ্যে সম্ভাব্য তিনটি প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাওয়া। সব মিলিয়ে ভালো নেই রিয়াল।

জিদান কেনো বিদায় নিয়েছিলেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। ক্লাবের সব থেকে স্বস্তির সময়ে জিদানের বিদায়কে বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। অনেকের ধারণা সভাপতি পেরেজের সাথে তার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিলো না। তিনি বুঝে ফেলেছিলেন, বুড়ো রোনালদোকে বিক্রি করে দেবার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে রিয়াল বোর্ড। তবে জিদানের পরামর্শ ছিল, বেলকে বিক্রি করে দিয়ে যেভাবে সম্ভব রোনালদোকে রেখে দেওয়া। তার কথা পাত্তা দেননি পেরেজ। রোনালদোহীন দলের দায়িত্ব নেবার কোন ইচ্ছা ছিলো না তার। তাই সম্মানের সাথেই বিদায় নিতে চেয়েছিলেন জিদান।

ফিরে এসে সংবাদ সম্মেলনে প্রায় একই বক্তব্য ছিল তার। তিনি বলেছেন, ‘আমি ক্লাব ছেড়েছিলাম ক্লাবের ভালোর জন্য। সবকিছু জয় করতে একাদশে একটি পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমি মাদ্রিদেই ছিলাম, ব্যস্ত ছিলাম আমার কাজ নিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদ আমাকে ডেকেছে, তাই আমি আবার হাজির।’

তবে যে জিদান বনিবনা না হবার কারণে হুট করে বিদায় নিলেন, পেরেজের এক ডাকে তিনি ফিরে আসলেন? এ প্রশ্নের জবাব মার্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, পেরেজ নাকি কিছু শর্তসহ ৩০০ মিলিয়ন ইউরো খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে প্রস্তাব দিয়েছেন।

কিছু শর্তের কথা ও শোনা যায় যেমন :
যেসব খেলোয়াড় জিদানের প্রয়োজন নেই, তাদের বিক্রি করে দেওয়া হবে। ইসকো এবং মার্সেলো দলে থাকবেন। নেইমারের মতো খেলোয়াড় এবং লোনে হামেস রদ্রিগেজকে ফেরানোর কোনো দরকার নেই। কিলিয়ান এমবাপের মত খেলোয়াড় কেনার চেষ্টা করা হবে।

এসব শর্ত বা প্রস্তাব সব উড়োখবর হলেও এমন পরিবর্তন কিন্তু মাদ্রিদের জন্য খুবই জরুরি। হুলেন লোপেতেগি বা সান্তিয়াগো সোলারির ব্যর্থতার দায় তাদের ট্যাকটিক্স নয়। তাই জিদান যে দলের দায়িত্ব নিয়েই রিয়াল মাদ্রিদকে বদলে দেবেন, তা ভেবে নেওয়াটাও যুক্তিসঙ্গত হবে না। এমনটা হয়তো জিদান নিজেও জানেন। তাই তার ফেরাতে প্রথমে পরিবর্তন আসবে দলের একাদশে। জিদানের ফিরে আসায় ক্লাবের খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই পুরনো শক্তি মুহূর্তে ফিরে আসবে! সেটা ভাবাটা কতটা যুক্তিক। রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়েরা কখনও সোলারি বা লোপেতেগি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল না, যেমনটা ঘটেছিলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাবের খেলোয়াড়দের মধ্যে মরিনহোর বিবাদের ঘটনায়। এদিকে জিদানের সাথে প্রাায় সকল খেলোয়াড়দের সম্পর্ক ভালো।

জিদান পেয়েছিলেন একটি সাজানো-গোছানো দল, যেটি নিজের মত সাজিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানের মাদ্রিদ আর পুরনো মাদ্রিদ এক নয়। এমন একটি দলকে জিদান কীভাবে সামলে নেবেন, সেটা বর্তমানে দেখবার বিষয়। ৯ মাস আগে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন জিদান, পেরেজের তা মনে না ধরলেও এ মৌসুমের প্রতিটা ম্যাচে বুঝেছেন তিনি। তবে ভুল থেকেই মানুষ শিক্ষা নেয়। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তাই বুঝেলেন, এই ভয়াল সময়ে জিদানকে আবারও তাদের প্রয়োজন। তাই পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফিরিয়ে আনলেন জিদানকে। হয়তো এই পরিবর্তনই আবার রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে যাবে নতুন ইতিহাসে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত