প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আস্থার সংকট ও অবিশ্বাসের প্রতিফলন পড়েছে ডাকসু নির্বাচনে, বললেন আফসান চৌধুরী

রাশিদ রিয়াজ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুরু জয়লাভ করার বিষয়টি বিশ্লেষণ করে লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আফসান চৌধুরী বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রদের যখন মারধর করা হয়েছিল তখন ভিসি নির্যাতনকারীদের পক্ষে ছিলেন এবং তার এধরনের রাজনৈতিক অবস্থান ছাড়াও জাতীয় নির্বাচন সহ অন্যান্য নির্বাচনে স্বাভাবিকভাবে যে আস্থাহীনতা ও অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে তারই প্রতিফলন পড়েছে ডাকসু নির্বাচনে। তিনি বলেন, এমনিতে সাধারণ মানুষ রাজনীতি বিমুখ হয়ে আছে। যেটুকু রাজনৈতিক সচেতনতা রয়েছে তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। আর তাও যদি অবশিষ্ট না থাকে তাহলে বাংলাদেশে আর রাজনীতি থাকবে না।

বিবিসি বাংলাকে আফসান চৌধুরী বলেন, মানুষ রাজনীতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে সেটাই দুশ্চিন্তার বিষয়। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় অশান্ত হচ্ছে গত দেড় দুই বছরে রাজনৈতিক কারণে নয়। কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আর এখন রাজনৈতিক কারণেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সেটা হচ্ছে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে। একটা হলে, দুইটা হলে বা কয়টি হলে তা হচ্ছে সেটা বড় কথা নয়, রাজনৈতিক কারণেও মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা যায় তারা মূলত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। এধরনের মানুষ লেখাপড়া শিখবে এবং চাকরি করবে। এসময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোটা বিরুদ্ধ আন্দোলন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। সরকার অনেক উন্নয়ন কাজ করেছে কিন্তু মধ্যবিত্ত শ্রেণী এটিকে ভাগ কম দিয়েছে এবং এ কারণে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন হলে কতটা অনিয়ম হয়েছে তারচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে স্বাভাবিকভাবে একটা অনাস্থা বিরাজ করছে। জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একধরনের আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই আস্থাহীনতার কারণেই মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ যদি সেটিকে শুধরিয়ে নেয় তাহলে খুব ভাল কথা, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কর্তৃপক্ষের ওপর অনেক ছাত্রের অবিশ্বাস রয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর তো বটেই। ছাত্রলীগের কর্মীরা যখন সাধারণ ছাত্রদের মেরেছিল তখন বর্তমান ভিসি অনেক সাফাই গেয়েছিলেন। ভিসি যখন একটি পক্ষ নিয়ে ফেলেন তখন বিষয়টি একটু ঝামেলার হয়ে যায়।

আফসান চৌধুরী বলেন, ভোটের রাজনীতিতে যে অবিশ্বাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অতিমাত্রায় রাজনীতি করার বিষয়টি পরিস্কারভাবে এধরনের অনাস্থা সৃষ্টি করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সক্রিয়, অন্যান্য বিষয় থেকে অনেক বেশি রাজনীতিতে তারা আগ্রহী। পূর্বের ভিসিকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল যেভাবে তা দুঃখজনক ছিল এবং সে পটভূমিতে বর্তমান ভিসি পুরোপুরি রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছিলেন। এটা বোঝা যায় সরকার কেন চিন্তিত। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র। এ বিশ্ববিদ্যালয় যদি একবার রাজনৈতিকভাবে গরম হয়ে যায়, প্রথম তাকে মেরে পেটে শান্ত করার চেষ্টা করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যারা নিয়ন্ত্রণে থাকবে সেই রাজনীতি করবে এমন অবস্থা নেই তবে আর কোথাও তো রাজনীতিও নেই। প্রকৃতপক্ষে আমরা অনুধাবন করছি না যে, মানুষ রাজনৈতিক বিমুখ হয়ে গেছে। জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতি নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহ কম। ৬৬ বছর বয়সে রাজনীতি নিয়ে এত কম আগ্রহ বাংলাদেশে কখনো দেখিনি। যতটুকু আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আছে। এরাও যদি রাজনীতি বিমুখ হয়, অনাগ্রহী হয় তাহলে গোটা দেশে রাজনীতি আছে বলতে পারব না। দুটি বা পাঁচটি হলে বড় কথা নয়, মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলছে এটাই দুশ্চিন্তার বিষয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত