প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্লোগান শুনে বুঝতে পারেন অবতরণ পাকিস্তানে

ডেস্ক রিপোর্ট : পাকিস্তানি বিমানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে ভূপাতিত হওয়ার পর ভারতীয় বৈমানিক অভিনন্দন বর্তমান বুঝতে পারেননি স্থানটি পাকিস্তান না কি ভারতের মধ্যে। প্রশ্ন করলে উপস্থিত পাকিস্তানিরা তাকে ভুল উত্তর দিয়ে বিভ্রান্ত করেছিল। এতে অভিনন্দন ভারতের পক্ষে স্লোগান দেন। আর তারপর স্থানীয় তরুণরা স্লোগান ধরেন পাকিস্তানের পক্ষে! ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আউটলুক ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পরবর্তীতে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে এসে অভিনন্দন একটি ঝর্ণার পানিতে নিজের কাগজপত্র নষ্ট করার চেষ্টা করেন। ওই ঝর্ণার কাছেই অভিনন্দনকে মারধর করে স্থানীয় পাকিস্তানিরা। পরে দেশটির কয়েকজন সেনা সদস্য এসে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতীয় ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের’ গাড়িবহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় বাহিনীটির অন্তত ৪০ সদস্য প্রাণ হারান। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ হামলার দায় শিকার করে। মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় বিমানবাহিনী ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের আকাশসীমায় ঢুকে বিমান হামলা চালায়। তাদের দাবি, পাকিস্তানের ভেতরে থাকা জইশ-ই-মোহাম্মদের ঘাঁটি ধ্বংসের উদ্দেশ্যেই ওই ‘অসামরিক অভিযান’ পরিচালিত হয়েছে, এতে মারা গেছে বহু জঙ্গি।
একদিন পর বুধবারের ঘটনায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর দুইটি বিমান ভূপাতিত করার দাবি করে পাকিস্তান। পাকিস্তানের ভাষ্য, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার থেকেই নিজেদের আকাশসীমায় ভারতীয় বিমান প্রতিহত করেছে তারা। ওই ঘটনাতে পাকিস্তানি এফ সিক্সটিন বিমানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বস্ত হয় অভিনন্দনের মিগ টোয়েন্টি ওয়ান বাইসন বিমান। অভিনন্দন নিজেও একটি পাকিস্তানি এফ সিক্সটিন ভূপাতিত করেছেন।

পাকিস্তানি সংবাদপত্র ডনের সূত্রে আউটলুক ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার আগে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন ভারতীয় উইং কমান্ডার। ভূমি স্পর্শের পর তার পাশে জমায়েত হওয়া স্থানীয়দের কাছে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এটা ভারত না কি পাকিস্তান?’ পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের ওই স্থানে জমায়েত হওয়া স্থানীয়দের মধ্যে এক তরুণ তাকে বিভ্রান্ত করার জন্য জবাব দেয়, ‘ভারত।’ অভিনন্দন তখন ভারতের পক্ষে উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর স্থানীয়রা স্লোগান দেন ‘পাকিস্তান আর্মি জিন্দাবাদ।’ তখন অভিনন্দন বুঝতে পারেন, তিনি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবতরণ করেছেন।
তিনি তার ছোট আগ্নেয়াস্ত্রটি দিয়ে ফাঁকা গুলি করেন। এতে স্থানীয়রা তার ওপর পাথর ছুড়তে শুরু করে। তারা অভিনন্দনকে ধরার চেষ্টাও করে। নিজের ছোট আগ্নেয়াস্ত্রটি দিয়ে অভিনন্দন প্রায় আধা ঘণ্টা তাদের ঠেকিয়ে রাখেন। এর মধ্যে তিনি প্রায় আধা কিলোমিটার দৌড়ে পৌঁছান একটি ঝর্ণার কাছে। আউটলুক ইন্ডিয়ার দাবি, তিনি সেখানে সঙ্গে থাকা নথিপত্র ঝর্ণার পানিতে নষ্ট করেন। আর পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদপত্র ডন বিভিন্ন নথির ছবি দিয়ে দাবি করেছে, সেগুলো ভারতীয় বৈমানিক অভিনন্দন বর্তমানের কাছ থেকে উদ্ধার করা।

ইতোমধ্যে স্থানীয়রা তাকে ঘিরে ধরে এবং মারধর শুরু করে। ডন লিখেছে, তার পায়ে স্থানীয়রা গুলি করে। পরে সেখানে পাকিস্তানি সেনা সদস্যরা উপস্থিত হয়ে অভিন্দনকে উদ্ধার করে। তারা অভিন্দনকে গাড়িতে করে নিয়ে যায় ভিমবারের একটি সেনা স্থাপনায়। পরে আটক ভারতীয় বৈমানিকের চোখ ও হাত বাধা অবস্থায় একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে অভিনন্দন নিজের নাম ও ভারতীয় বিমানের বৈমানিক হওয়ার পরিচয় দেন। এরপর তার স্কোয়াড্রনের তথ্য জানতে চাওয়া হলে, তিনি তা প্রকাশে অস্বীকৃতি জানান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা দিয়েছেন, পয়লা মার্চ অভিনন্দন বর্তমানকে ভারতের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত