প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিরিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরতে চান আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত

ডেস্ক রিপোর্ট : যুক্তরাজ্য ছেড়ে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসে যোগ দেওয়া আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি সিরিয়া থেকে ফিরতে চান। তাঁর নাম মোহাম্মদ আনোয়ার মিয়া। বয়স ৪০ বছর। সিরিয়ায় তিনি আবু ওবায়দা আল ব্রিটানি নাম ধারণ করেন।

বর্তমানে সিরিয়ার কুর্দি বাহিনীর হাতে আটক রয়েছেন আনোয়ার মিয়া। তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, সিরিয়ায় তিনি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন। কোনো অপরাধমূলক কাজে জড়াননি। তিনি জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের প্রতি অনুগত ছিলেন না। স্ত্রী এবং দুই সন্তান নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরে একান্তে জীবন যাপন করতে চান তিনি।

কদিন আগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণী শামীমা বেগম যুক্তরাজ্যে ফেরার আকুতি জানান। ১৫ বছর বয়সে সিরিয়ায় যাওয়া শামীমা এক আইএস-যোদ্ধাকে বিয়ে করেন। বর্তমানে ১৯ বছর বয়সী শামীমার ফিরে আসা ঠেকাতে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করে দেয় যুক্তরাজ্য সরকার। শামীমার মা বাংলাদেশি, সেই সূত্রে শামীমা বাংলাদেশেরও নাগরিক—এমন যুক্তি দেখিয়ে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়।

শামীমার মতো মোহাম্মদ আনোয়ার মিয়ার জন্মও যুক্তরাজ্যে এবং বাবা-মা বাংলাদেশি বলে যুক্তরাজ্যের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়। সিরিয়া থেকে ফিরতে চাওয়া ব্রিটিশ নাগরিকদের নিয়ে দেশটিতে তুমুল বিতর্ক চলছে। আনোয়ার দাবি করেন, তিনি কয়েকবার বাংলাদেশে গিয়েছেন। তবে তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেই। তিনি কেবল যুক্তরাজ্যের নাগরিক।

গত বুধবার প্রকাশিত ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ায় যাওয়ার জন্য অনুতপ্ত আনোয়ার। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাজ্যের জন্য তিনি কোনোভাবেই হুমকি নন। যুক্তরাজ্য সরকার যদি তাঁকে হুমকি মনে করে থাকে, সে জন্য তিনি যেকোনো ধরনের শর্ত মেনে নিতে রাজি এবং যেকোনো তদন্তে সহায়তা করতে প্রস্তুত। যুক্তরাজ্যকে একটি মানবিক দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করে আনোয়ার বলেন, তিনি অতীতে ফিরে যেতে পারলে সিরিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেন না।

বার্মিংহামে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করতেন আনোয়ার মিয়া। ২০১৪ সালে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করেন। মাকে তিন সপ্তাহের জন্য বেড়াতে যাওয়া কথা বলে ঘর ছেড়েছিলেন আনোয়ার। সেই থেকে তাঁর মায়ের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। মানবিক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে তিনি সিরিয়ায় যান বলে দাবি করেন।

আইএস-নিয়ন্ত্রিত সিরিয়ার মায়াদিন এলাকায় ছিলেন জানিয়ে আনোয়ার দাবি করেন, সেখানে তিনি একটি হাসপাতালে সহকারী অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে কাজ করেছেন। আইএস জঙ্গিদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি। তবে তিনি দাবি করেন, আহত হয়ে অনেকেই হাসপাতালে আসতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ আইএস জঙ্গি ছিলেন কি না, তা তিনি জানেন না।

আনোয়ার জানান, ২০১৫ সালে হাসপাতালের এক সিরিয়ান সহকর্মীকে তিনি বিয়ে করেন। গত বছরের আগস্ট মাসে মোটরসাইকেলে করে স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে নিয়ে পালানোর সময় কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের হাতে ধরা পড়েন। তাঁকে কারাগারে বন্দী করা হয়। তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে কোথায় আছে তিনি জানেন না। আনোয়ার বলেন, ধরা পড়ার সময় তাঁর স্ত্রী দ্বিতীয়বারের মতো অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এত দিনে তাঁর দ্বিতীয় সন্তানও জন্ম নিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরতে চান।

তাঁর দাবি, যুক্তরাজ্যে তিনি কখনো সরকারি ভাতা সুবিধা নেননি। সব সময় কাজ করেছেন এবং আয়কর দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে সরকার যদি তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের কোনো সুবিধা দিতে না চায়, তাতে তাঁর কোনো আপত্তি থাকবে না।
সূত্র: প্রথম আলো

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত