প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষার মান খারাপ হলে জ্ঞানী গুণী মানুষ কীভাবে তৈরি হবেন?

মরুল হাসান মামুন : আমাদের ৭০-৮০’র দশকের মানুষ যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে খ্যাতিমান ছিলেন তাদের কী আজকের খ্যাতিমানরা ছাড়াতে পেরেছেন বা পারছি? ৭০-৮০’র ‘যদি কিছু মনে না করেন’ অনুষ্ঠাটির প্রাণপুরুষ ছিলেন ফজলে লোহানী যার কথা আজও ভুলতে পারি না। সেই মানুষটি হানিফ সংকেতকে কিছুটা তৈরি করে যেতে পেরেছিলেন। হানিফ সংকেত কিন্তু নিজেকে বিকিয়ে দেননি। তিনি নিজেকে না দলের কাছে বিকিয়েছেন, না টাকার কাছে বিকিয়েছেন। গত নির্বাচনের সময় কতো ব্যক্তিত্বকেই তো দেখলাম সেই মিছিলে হানিফ সংকেত কিন্তু শামিল হননি। তিনি এখনো বিটিভিতে পড়েই আছেন। ইচ্ছে করলে ব্যক্তিমালিকানাধীন কোনো টিভিতে অনুষ্ঠান করতে পারতেন, কিন্তু করেননি। ৭০-৮০’র দশকের সিরিয়াস উপস্থাপনায় আরেক ব্যক্তিত্ব হলেন আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনিও নিজেকে বিকিয়ে দেননি।
৭০-৮০’র দশকের সিনেমা জগতেও কিছু আলোকিত মানুষ ছিলো। এর মধ্যে অন্যতম ছিলেন আলমগীর কবির। ৭০-৮০’র দশকে অভিনয় ও সংগীতেও কিছু মানুষ ছিলেন যেমন রাইসুল ইসলাম আসাদ, আমাদের গুরু আজম খান। এরা সাদা মনের মানুষ। ওই সময় অনেক শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, চিত্রশিল্পীও ছিলেন তাদের কাজকর্মে সমাজে একটি ধনাত্বক ইমপ্যাক্ট ফেলতে পেরেছিলেন। সেসময়কার এসব মানুষদের সাথে আজকের মানুষদের মেলালে কী পাই? হ তা শা – হ তা শা – হ তা শা।
সেই মানের কবি নেই, নাট্যকার নেই, বুদ্ধিজীবী নেই, শিক্ষক নেই, শিল্পী নেই। অল্পবিস্তর দুয়েকজন যাওবা আছে আগামী কয়েক বছর পর এরা যখন চলে যাবে তখন খারাপের মহামারী ঘটবে। অনেক খুঁজেও ভালো মানুষ পাওয়া যাবে না। পড়াশোনা একটু বেশি জানলেই ভালো মানুষ বলবো না। ভালো মানুষ একটি প্যাকেজ। এখন হয়তো কিছু ভালো ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক আছে, কিন্তু অধিকাংশই ধুরন্ধর, ধান্ধাবাজ। এ থেকে উত্তরণের কোনো পদক্ষেপ দেখছি না, কিন্তু আরো খারাপ হওয়ার পদক্ষেপ আছে প্রায় সকল ফ্রন্টে। ওই যে শিক্ষার মান। সকল ইনডেক্সে আমরা এমনকি দক্ষিণ এশিয়াতে আমাদের শিক্ষার মান সর্বনিম্নে। এ রকম খারাপ মান দিয়ে ভালো গুণী-জ্ঞানী মানুষ কীভাবে তৈরি হবে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত