প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারত-পাকিস্তানকে যুদ্ধ-সংঘাতের পথ ছাড়তেই হবে, এটা আত্মঘাতী হবে, যুদ্ধ অবশ্যই পরিত্যাজ্য : হুমায়ুন কবির

স্মৃতি খানম : সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেছেন, পাকিস্তানের মাটিতে মিরাজ-২০০০ বিমান ব্যবহার করে বোমা হামলা চালানোর পর নরেন্দ্র মোদি রাজস্থানে এক নির্বাচনী সমাবেশে বলেছেন, দেশ নিরাপদ থাকবে। কারণ নেতৃত্ব রয়েছে যোগ্য হাতে। বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, কংগ্রেস নয় বরং বিজেপির হাতেই ভারত নিরাপদ। সূত্র : সমকাল
তিনি আরও বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়ার সর্বত্রই শঙ্কা। উভয় দেশের হাতেই পারমাণবিক বোমা রয়েছে। দুদেশের শাসকদলের মধ্যেও উগ্র চিন্তার লোক সক্রিয়, এমনটিও অনেকে বলছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পারমাণবিক বোমা সংক্রান্ত প্যানেলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নরেন্দ্র মোদি আলোচনা করেছেন তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে। পাকিস্তান ও ভারত সার্কভুক্ত দেশ। কিন্তু প্রায় চার দশকেও আঞ্চলিক সহযোগিতার লক্ষ্য সামনে রেখে গঠিত এ সংস্থা কার্যকর হতে পারেনি প্রধানত এ দু’টি দেশের বিরোধের কারণে। এমনকি নিয়মিত শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানও করা যায় না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দু’দেশের উপস্থিতিতে সার্ক কিংবা আঞ্চলিক অন্য ফোরামের কার্যক্রম পরিচালনাও সম্ভবত অসম্ভব হয়ে উঠবে। এমনকি খেলাধুলাতেও পরস্পরের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা, শান্তি- এসব যেন কেবল মুখের কথায় পরিণত হতে না পারে। সামরিক উত্তেজনার পারদ যতো ওপরে উঠবে, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতা ততো কঠিন হয়ে পড়বে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও বিরূপ প্রভাব পড়বে। আমরা জানি, দক্ষিণ এশিয়া ভৌগোলিকভাবে পরস্পর জড়িত। এক স্থানে সংঘাত দেখা দিলে, উত্তেজনা বিরাজ করলে তার প্রভাব পড়ে সর্বত্র। এসবের নিষ্পত্তির কাজে সহায়তার জন্য আঞ্চলিক কোনো ফোরাম বস্তুত অনুপস্থিত।
আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, শুভবুদ্ধির জয় হবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য ভারত ও পাকিস্তানসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো এগিয়ে আসবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকেও ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করি। দু’দেশে উগ্র জাত্যভিমান যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে অনেকেই উদ্বিগ্ন। সংঘাত, যুদ্ধকে মহিমান্বিত করার চেষ্টা প্রবল। কেউ যেন কারও কাছ থেকে পিছিয়ে পড়তে চায় না। রাজনৈতিক সুবিধার জন্য এ ইস্যুকে ব্যবহারের চেষ্টা পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলতে পারে- এমন শঙ্কা প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। উভয় দেশ বলছে, হামলা হলে পাল্টা হামলা হবে। কেউবা বলছে, একটা হামলার বদলা নেয়া হবে দুটি হামলা দিয়ে। আমাদের শঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এটা রুখতে পারে রাজনৈতিক শক্তি। নাগরিক সমাজের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। অশান্তি-অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ূক, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যুদ্ধ-সংঘাতের পথ ছাড়তেই হবে। এটা আত্মঘাতী হবে, তাই অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত