প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ও কোটা পদ্ধতি

স্পোর্টস ডেস্ক : ক্রিকেট বা রাগবিতে বরাবরই দক্ষিণ আফ্রিকা ‘মেধার খনি’। তবে সেসব মেধা আটকে যাচ্ছে আরেকটা ফিল্টারে- ‘কোটা পদ্ধতি’। একসময় ‘সাদা-আধিপত্যে’র কারণে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা এবার পড়ছে ‘কালো’দের অধিকার সুরক্ষায় করা তৈরি নিয়মের বেড়াজালে।

টেমবা বাভুমা প্রথম ‘ব্ল্যাক আফ্রিকান’ হিসেবে টেস্ট সেঞ্চুরি করলে বা কাগিসো রাবাদা টেস্টের এক নম্বর বোলার হলে যেমন এ নিয়মের ‘সুফল’টা সামনে আনতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা, তেমনই কোলপ্যাকের পেছনে রাখা ভূমিকা সেটাকে দেখায় বুড়ো আঙুল।

‘কালো ক্রিকেটার’দের অধিকার সুরক্ষায় ‘টার্গেট’ নামে একটা কোটা পদ্ধতি আছে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে। এ নিয়ম মানা হয় স্বীকৃত যে কোনও পর্যায়ের ক্রিকেটেই। এটি অনুযায়ী, ‘প্রাদেশিক’ পর্যায়ে প্রতি একাদশে সাতজন ‘নন-হোয়াইট’ বা ‘অশ্বেতাঙ্গ’ ক্রিকেটারকে খেলাতে হয়, যাদের মধ্যে তিনজনকে হতে হবে ‘ব্ল্যাক আফ্রিকান’ বা আফ্রিকান ‘কৃষ্ণাঙ্গ’। প্রথম শ্রেণিতে এ সংখ্যা যথাক্রমে ছয় ও দুই। আর জাতীয় দলের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু শিথিলযোগ্য- প্রথম শ্রেণির মতো সংখ্যাটা হলেও সেটা মাপা হয় বছরজুড়ে গড়ের ভিত্তিতে। সেক্ষেত্রে ‘কম গুরুত্বপূর্ণ’ ম্যাচে সংখ্যাগুলো পূরণ করার সুযোগ থাকে তাদের। আগে এই ‘কোটা পদ্ধতি’ ছিল ‘আন-অফিশিয়াল’। ২০১৫ সালে এটিকে দেওয়া হয়েছে ‘আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি’।

২০১৫ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ভারনন ফিল্যান্ডারকে খেলানো নিয়ে বিতর্কটা তো ছিল প্রকাশ্যেই। দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যানেজমেন্ট খেলাতে চেয়েছিল ইন-ফর্ম অ্যাবটকে, তবে তাদের ওপর ‘চাপ ছিল’ কোয়ার্টার ফাইনালে চোট পাওয়া ফিল্যান্ডারকে খেলানোর। তখনকার দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্স নিজের হতাশাটাও জানিয়েছিলেন সেমিফাইনালে হারের পর। আর অ্যাবট তো পরে চলেই গিয়েছিলেন কোলপ্যাকে (অন্যান্য দেশের ক্রিকেটারদের যে নিয়মে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক দলে খেলার সুযোগ দেয়া হয়)।

নিজের হতাশা লুকোতে পারেননা একসময় ‘গাত্রবর্ণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা’র অন্যপ্রান্তে থাকা ব্যারি রিচার্ডস। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট যাকে নিয়ে আক্ষেপ করে, যে ‘বর্ণবাদ’-এর কঠিন জালে আটকা পড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা বিকশিত হতে পারেনি যার, সেই রিচার্ডসের মতে, খেলা-রাজনীতির মিশ্রণে এখনকার নিয়মটা ঠিক সমাধান নয়।

এই ‘কোটা পদ্ধতি’র কারণে শুধু যে জাতীয় দলে একটা জটিল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তাও নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটেও ‘সাদা’ ক্রিকেটারদের সংখ্যাটা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে কঠিন এক শৃঙ্খলে। ১৩টি প্রাদেশিক দলে তাই ৬৫ জনের বেশি ‘সাদা’ ক্রিকেটার খেলতে পারবেন না, ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক দলে নেই ৩০ জনের বেশি ক্রিকেটার। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো এতো ক্রিকেট-মেধার দেশে খেলার সুযোগ পাওয়া ‘সাদা’ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও সংখ্যাটা তাই ঠিক যেন মানানসই নয়। (প্যাভিলিয়ন থেকে)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত