প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এই প্রথম একে অপরের ভূখন্ডে বিমান হামলা চালিয়েছে পরমাণু শক্তিধর দুটি দেশ

নূর মাজিদ : বিশ্বে মোট স্বাধীন দেশের সংখ্যা ১৯৫, যার মধ্যে ১৯৩টি দেশ জাতিসংঘের সদস্য। এদের মাঝে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫ সদস্য দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এই পাঁচটি দেশের বাহিরে ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরাইল পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী। পারমাণবিক শক্তি বর্তমান বিশ্বে কোন রাষ্ট্রের সামরিক পরাভব এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থের অন্যতম প্রধান সংরক্ষক। পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ভয়াবহতা এতোই বেশি যে এই শক্তির অধিকারী রাষ্ট্রগুলো একে-অপরকে অনেকটা সমঝেই চলে। দুই পক্ষের মাঝে যেকোন প্রকার বড় আকারের সামরিক সংঘাত এড়িয়ে চলে। কারণ ছোট্ট একটি স্ফুলিঙ্গের মতোই একটি প্রচলিত অস্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ সহসা পরমাণু যুদ্ধে রুপ নিতে পারে।তথ্যসূত্র: রয়টার্স,বিবিসি, ইকোনমিক টাইমস

তবে চলতি সপ্তাহে এই রীতি ভেঙ্গেছে দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ ভারত এবং পাকিস্তান। চলতি সপ্তাহেই তারা একে-অপরের ভূখ-ে যুদ্ধবিমান যোগে হামলা চালিয়েছে। ফলে পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে এই প্রথম দুটি রাষ্ট্র একে-অপরের ভূমিতে এই ধরনের হামলা চালালো। যা বিশ্বের কাছে প্রতিবেশী দেশদুটির মাঝে বিদ্যমান উগ্র-জাতীয়তাবাদী মনোভাব, প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণকে তুলে ধরেছে।

ভারত এবং পাকিস্তান অতীতের মতো এবারও কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। পূর্ণযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে পশ্চিম রণাঙ্গনে ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারী অস্ত্রের সমাবেশ ঘটিয়েছে। জবাবে গত বুধবার পাকিস্তান দিনের আলোতে ভারতের রাজস্থান সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে তাদের ট্যাংক বহর মোতায়েন করে।

সাধারণত গোপনীয়তার স্বার্থেই রাতের আঁধারে ট্যাংকের মতো ভারী যুদ্ধযান মুভমেন্ট করে, তবে এদিন কোন রাখঢাকের চেষ্টা করেনি দেশটির সেনাবাহিনী। গত বুধবার ভারতের আকাশে পাকিস্তানী বিমানের অনুপ্রবেশ, দুটি ভারতীয় যুদ্ধ বিমান ধবংস এবং এক ভারতীয় পাইলটকে গ্রেফতারের উত্তেজনার মাঝেই এই ট্যাংক মোতায়েনের ঘটনা ঘটে।

ইতোপূর্বে, ১৯৭১ সালের পর প্রথমবার পাকিস্তানের আকাশসীমা পেরিয়ে দেশটির একাধিক জঙ্গিঘাটিতে বিমান হামলা চালানোর দাবী করে ভারত। বুধবার পাকিস্তান ওই হামলার জবাব দেয়ার চেষ্টা করে। তবে ভারতের দাবী, এই হামলায় পাকিস্তান নিজেও একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান হারিয়েছে।

দুটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র যখন এভাবে প্রকাশ্যে আকাশযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তখন পরমাণুযুদ্ধের সম্ভাবনা খুবই নিকটে এমনটাই মনে করেন মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান। ইতোপূর্বে, পরমাণু শক্তিধর দুই রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মাঝে কিছু খ-যুদ্ধের ঘটনা ছাড়া এমন ঘটনা কখনোই ঘটেনি বলেই জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে তিনি সিরিয়ায় রাশিয়ার ভাড়াটে সৈন্য এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ ইউনিটের একটি খ-যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন। তবে এই ঘটনা ঘটে বিদেশের মাটিতে। তিনি বলেন, খোদ রাশিয়া বা আমেরিকা কোন পরিস্থিতিতেই একে-অপরের দেশে বিমান হামলা চালানোর ইচ্ছে বা সাহস করবেনা। কারণ তারা জানে পরমাণু অস্ত্রের হুমকির চাইতেও এর বিষাক্ত থাবার ছোবল সর্বনাশী ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা করে। যা থেকে কোন দেশই রক্ষা পাবেনা।

পর¯পরের পরমাণু অস্ত্রসজ্জার প্রতি এই শ্রদ্ধা এবং ভয়ের কারণেই ¯œায়ুযুদ্ধের চরম উত্তেজনার মাঝেও এই দুই দেশ পর¯পরের প্রতি এমন হামলা চালানো থেকে বিরত থাকে। কারণ, তারা জানতো প্রতিপক্ষের ভূখ-ে বিমান হামলা চালালে তা ওই দেশের জাতীয় মর্যাদা এবং সার্বভৌমত্বে আঘাত হানবে। ফলে প্রতিপক্ষ বাধ্য হয়েই পাল্টা আঘাত করবে তাদের দেশে। যা থেকে জন্ম নিতে পারে পারমাণবিক যুদ্ধ। অথচ গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বিমানবাহিনী এই সত্য জেনেও হামলা করে। ফলে পাকিস্তানও পাল্টা প্রতিহিংসার পথ বেছে নিয়েছে। এই সংঘাত সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া তথা সমগ্র বিশ্বের জন্য এক বিপদজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন কুগেলম্যান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত