প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পড়াশোনার চাপে ঘর ছাড়ছে শিশুরা

সাজিয়া আক্তার : গত (২৭ ফেব্রুয়ারি) বুধবার মধ্যরাতে নেত্রকোনা শহরে স্কুলের প্রাথমিক শাখায় পড়ুয়া চার শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপহরণের খবর হিসেবে ছড়িয়ে পড়লে জেলাবাসীর মধ্যে চরম আতংকের সৃষ্টি হয়। যমুনা টিভি

বুধবার মধ্যরাতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সামিউল আলম ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র নাফিজ তানভীর নাফিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার করে।

কিন্তু উদ্ধারের পর স্কুল পড়ুয়া শিশুরা জানায়, বিদ্যালয়-প্রাইভেটে অতিরিক্ত পড়ার চাপ ও মা-বাবার বকুনিতে ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা অজানার উদ্দেশ বেরিয়েছিলো।

সামিউল নেত্রকোনা শহরের সাতপাই পশ্চিমপাড়ার মৃত আব্দুল্লাহর ছেলে এবং নাফিজ মোক্তারপাড়া মসজিদ কোয়াটার এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে। অপরদিকে একই দিনগত রাত ৮টার দিকে নেত্রকোনা শহরের সাতপাই স্টেশন থেকে ক্রিয়েশান কিন্ডারগার্টেনের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রিফাত হাসান জয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। জয় জেলা শহরের কাটলি এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

নেত্রকোনা জেলা সুজনের সভাপতি শ্যামলেন্দু পাল জানান, শিক্ষার্থীদের পড়ার চাপে শৈশব নষ্ট হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে, শিক্ষক অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। মা-বাবাকে অবশ্যই শিশুদের শৈশব উপভোগ করতে দিতে হবে। পড়াশুনার নামে শিশুদের অধিকার হরণ করা চলবে না। তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী প্রত্যেক শিশুদের বাবা-মাকে তাদের সন্তানের প্রতি যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, অতিরিক্ত কোনও কিছু কারও জন্য মঙ্গল ডেকে আনে না। এ ঘটনাগুলো থেকে সবাইকে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুল আলম বলেন, ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন থেকে রাত পর্যন্ত ভিন্ন সময়ের মধ্যে শিশু নিখোঁজের ঘটনাগুলো ঘটে। এগুলো নিয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় পৃথক পৃথক সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে। পরবর্তীতে খবরগুলো জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশু অপহরণের গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত