প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জেনেভা চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবন্দী উইং কমান্ডার ‘অভিনন্দনে’র অধিকার

মারুফুল আলম : বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক সীমা লঙ্ঘন করে ভারতীয় আকাশসীমায় হামলার চেষ্টা করে পাক যুদ্ধবিমান। পাক যুদ্ধ বিমানের পাল্টা জবাব দেয় ভারতীয় বায়ুসেনাও। কিন্তু ওই ঘটনার পরই ভারতীয় মিগ-২১ বাইসন বিমান ধ্বংস ও তার পাইলটকে আটক করে পাকিস্তান। ১৯৪৯-এর জেনেভা কনভেনশনে পরিষ্কার বলা আছে, দুটি দেশের মধ্যে এ রকম সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষের সদস্য যদি অন্য পক্ষের এলাকায় সেখানকার বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে, তবে তাকে যুদ্ধবন্দির মর্যাদা দিতে হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবন্দীদের অধিকার নির্ণয় এবং যুদ্ধক্ষেত্র ও সংলগ্ন এলাকার অসুস্থ ও অসামরিক ব্যক্তিদের সুরক্ষাও দেয় এই চুক্তি। বিশ্বের ১৯৬টি দেশ এই চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে স্বাক্ষর করেছে।

জেনেভা চুক্তি হলো এমন এক চুক্তি যা, ১৯৪৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তিতে স্বাক্ষরিত হয়েছিলো। এই চুক্তি যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।

এই চুক্তি আহত এবং আটক সৈন্যদের রক্ষা করে। চুক্তি অনুযায়ী জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, ধর্ম, বিশ্বাস, নাগরিকত্ব ও ধন-সম্পদ নির্বিশেষে মানবিক আচরণ পাওয়া নিশ্চিত করে। এছাড়া এই চুক্তি নির্যাতন, আক্রমণ এবং বিচার ছাড়াই মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাকেও নিষিদ্ধ করে। সেই সঙ্গে সঠিক চিকিৎসা এবং যত্ন পাওয়ারও অধিকার দেয়।

চুক্তিতে বলা আছে, যুদ্ধবন্দীরা শুধুমাত্র তাদের নাম, পদ ও পরিচয় জানতে বাধ্য থাকবে। অন্য কোনো রকম তথ্য আদায়ের জন্য তাদের নির্যাতন করা যাবে না। তাকে পর্যাপ্ত খাদ্য-পানীয় দিতে হবে। এ রকম একাধিক অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে জেনেভা কনভেনশনে।

এ বিষয়ে বলে রাখা ভালো, ১৯৭১-এর যুদ্ধ চলাকালীন একটি পাক ফাইটার ভেঙে পড়ে ভারতে। পাইলট নিজের প্রাণ বাঁচাতে প্যারাশুটে করে নামলে তাকে ঘিরে ধরেন ভারতীয় জওয়ানরা। ওই পাক পাইলটকে উদ্ধার করে জেনেভা কনভেনশনের নিয়ম অনুযায়ী তাকে নিয়ে যায় বাহিনীর সদর দফতরে। চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানের হাতে তুলে দেয়া হয় সেই পাইলট পারভেজ কুরেশি মেহেদিকে। সেই পাইলট পরবর্তীতে পাক বায়ুসেনার প্রধান হয়েছিলেন।

কার্গিল যুদ্ধ চলাকালীন একইভাবে পাকিস্তানের মাটিতে ধরা পড়েন ভারতের আরো এক বায়ুসেনা পাইলট কমবমপতি নচিকেতা। তাকে আট দিন পরে রেড ক্রসের মাধ্যমে ভারতের হাতে ফেরত দেয়া হয়েছিলো। যদিও তাকে অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে।

পাকিস্তান প্রকাশিত ভিডিওতে অভিনন্দনের মুখে রক্ত দেখে ভারত অসন্তোষ প্রকাশ করলে পাক সেনার মুখপাত্র আসিফ গফুর ফের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে অভিনন্দনসহ একসঙ্গে চা খাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। বলা হয়, সামরিক রীতি মেনেই রাখা হয়েছে ভারতীয় পাইলটকে। উইং কমান্ডার অভিনন্দনসহ চা খাওয়ার দৃশ্য দেখা যায় ওই ভিডিওতে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত