প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারত-পাকিস্তানে সামরিক পদক্ষেপের পুনরাবৃত্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে, যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি

সান্দ্রা নন্দিনী : ভারত ও পাকিস্তানে নতুন করে সামরিক অভিযান হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ভারত এবং পাকিস্তানকে তৈরি হওয়া উত্তেজনা প্রশমিত করতে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। এনডিটিভি, রয়টার্স, ইয়ন

ট্রাম্প প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানান, ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতে যে কায়দায় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে তা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এমতাবস্থায় আমরা চাইব নিরাপত্তা পরিষদের সাধারণ নিয়ম মনে রাখুক পাকিস্তান। যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নিজেদের দেশের মাটিকে সন্ত্রাসবাদীরা যাতে কোনওভাবেই কাজে লাগাতে না পারে তার জন্য অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্রর পক্ষ থেকে আসা এটি ছিলো দ্বিতীয় বার্তা। এর আগে, মঙ্গলবার ভারত ও পাকিস্তানকে পরস্পরের প্রতি সংযম দেখাতে অনুরোধ জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। পরমাণুঅস্ত্রসমৃদ্ধ প্রতিবেশী দেশ দু’টিকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ধৈর্যের পরিচয় দিতে আহ্বান জানান তিনি।

দুইদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর এক বিবৃতিতে পম্পেও বলেন, ‘আমরা ভারত ও পাকিস্তানকে পরস্পরের প্রতি সংযম প্রদর্শনের জন্য উৎসাহিত করছি। আমরা যেকোনও মূল্যে সংঘাত এড়াতে চাই।’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশির সঙ্গে আলোচনায় পম্পেও বলেন, তিনি চান কোনভাবেই যেন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া না হয়। এর পাশাপাশি পাকিস্তানকে দেশটির মাটিতে পরিচালিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান পম্পেও।

অন্যদিকে, বুধবার পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে কালো তালিকাভুক্ত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক কমিটির কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে, আজহারের অস্ত্র বহন ও বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং ব্যাংকে থাকা সম্পদ জব্দ হয়ে যাবে। এর আগে, ২০১৭ সালে নিরাপত্তা পরিষদ আজহারের নাম কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় এনেছিলো। তবে তখন চীনের পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়।

গত সপ্তাহে পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় ভারতের ৪০ প্যারামিলিটারি সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে নিরাপত্তা পরিষদ। চীনের বিরোধিতার কারণে কয়েকদিন টানা আলোচনার পর তাতে সর্বসম্মতি পাওয়া যায়। বিবৃতি থেকে জেইএম’র নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলো চীন।

এদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের কাছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি অন্তত দু’টি চিঠি লিখেছেন এবং মঙ্গলবার গুতেরেসের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছেন কুরেশি। রয়টার্সের দেখা কুরেশির ২৬ ফেব্রুয়ারির চিঠিতে, গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদকে কুরেশি ভারতকে ‘আগ্রাসন’ বন্ধের আহ্বান জানাতে অনুরোধ করেন।

এদিকে, জাতিসংঘে ভারতের দূত সৈয়দ আকবারুদ্দিন বুধবার রয়টার্স’কে জানান, ‘আমাদের একমাত্র লক্ষ্য সন্ত্রাস দমন। আর ভারত তার একাধিক মিত্রদেশকে সঙ্গে নিয়ে সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে।

আবার, বুধবার জাতিসংঘ মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে একাধিক পর্যায়ে জাতিসংঘের যোগাযোগ চলছে। জাতিসংঘ মহাসচিব মধ্যস্ততায় আগ্রহী যদি দুইপক্ষই এতে সম্মতি থাকে।’

অন্যদিকে, কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানকে ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানিয়েছে চীন। বুধবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং উই বলেন, ‘কোনও দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখ-তার প্রতি সকলেরই শ্রদ্ধা দেখানো উচিৎ।’

বুধবার গভীর রাতে জরুরি ফোনালাপে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ কুরেশিকে ওয়াং বলেন, তিনি আশা করেন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা নিরসনে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনের লঙ্ঘনও দেখতে চায় না চীন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত