প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিমান ছিনতাই কি শুধুই নাটক নাকি অন্য কোনো ষড়যন্ত্র?

অসীম সাহা : চট্টগ্রাম শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমান-ছিনতাই-নাটকের যে মহড়া হয়ে গেলো, সে কি শুধুই নাটকের মহড়া নাকি এর পেছনে আছে বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলার কূট ষড়যন্ত্র?

বিমান প্রতিমন্ত্রী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যারাই কথা বলছেন, তাদের প্রত্যেকের কথার মধ্যে কেমন যেন একটি রহস্যময় ধাঁধার গন্ধ টের পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, “বিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ‘লিকেজ’ ছিলো না।” স্বভাবতই প্রশ্ন আসবে, তা হলে ছিনতাইকারী বিমানের ভেতর পিস্তল কিংবা খেলনা পিস্তল নিয়ে ঢুকলো কী করে? হাওয়ার ভেতর দিয়ে মাছি বা মশার মতন উড়ে এসে? বিমানবন্দরের মতো এমন একটি সেনসিটিভ ও কঠিন নিরাপত্তা-বলয়ের ভেতর দিয়ে সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে কোন্ জাদুমন্ত্র বলে সে ঢুকে গেলো, যদি না তাতে বড় রকমের লিকেজ থাকে? বলতে হয় বলে কথার কথা বলে দেয়া রোগের সূচনা কি তবে এই মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদেরও শুরু হয়ে গেলো? প্রত্যেক কর্মকর্তা মিডিয়ার সামনে এক এক সময় এক-এক কথা বলেছেন!

এ সম্পর্কে পত্রপত্রিকায় বিস্তৃত ছাপাও হয়েছে। তাই এর পুনরুল্লেখ না করে শুধু একটি প্রশ্ন করি, কথিত ছিনতাইকারী তো আগে থেকেই বহু দুষ্কর্মের হোতা। নারায়ণগঞ্জের কথিত পলাশ  তো মজনু, ফরহাদ বা দেবদাস নয়। সে নারীখেকো এক বখাটে লম্পট। এর আগে নারী অপহরণের দায়ে তাকে ২০ দিন জেলও খাটতে হয়েছে! তার  ন্যে মাত্র ২০ দিনের জেল? তারপর জামিন? কী চমৎকার বিচার? শুরু তো সেখান থেকেই। সে বুঝে গিয়েছিলো, এদেশে অপরাধ করেও পার পাওয়ার পথ কোন্টা? কাদের কাদের ম্যানেজ করলে তার মতো বদমাশ আইনেরা ফাঁক-ফোঁকর গলে মুক্তি নিতে পারে, প্রেম করতে পারে, বিয়ে করতে পারে, বাচ্চা পয়দা করতে পারে; আবার ডিভোর্স দিয়ে নতুন করে চলচ্চিত্রজগতে, সস্তা নারীদের জগতে নিজেকে হিরো হিশেবে প্রতিষ্ঠিত করে পারে! এমনকি শিমলার মতো জাতীয় চলচ্চিত্র নায়িকাকেও বিয়ে করে ফেলতে পারে! যারা তাকে মানসিক রুগী বানিয়ে নানা ঘটনাকে আড়াল করবার চেষ্টা করেছেন এবং এখনো করছেন, তারা আসলে সেয়ানা পাপী।

নির্মলেন্দু গুণের কবিতা অবলম্বনে  ড. মাসুদ পথিক পরিচালিত ‘নেকাব্বরের  মহাপ্রয়াণ’ ছবিতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করে শিমলা সকলে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছিলো! দুর্ভাগ্য বা সৌভাগ্যক্রমে আমি এই ছবির গীতিকার, সুরকার ও অভিনেতাও ছিলাম। সেই সূত্রে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিলো। মনে হয়েছিলো, সুন্দরী, রুচিশীল, স্মার্ট একজন মেয়ে। তার মতো একজন মেয়ে যে এমন একটা ‘ভাদাইম্যাকে’ বিয়ে করতে পারে, এ-আমার কল্পনারও অতীত! কিন্তু ক্যারিশমা আছে বটে পলাশের! শিমলাকে যে ছেলে পরাভূত করে বিয়ে করে ফেলতে পারে, তার পক্ষে জগজ্জয় করা যে অনায়াসে সম্ভব, তার সব কর্মকা- মিলিয়ে দেখলে তা অনায়াসে শনাক্ত করা সম্ভব! মানসিক রোগী হিশেবে চিহ্নিত করে শিমলা পলাশকে ৬ মাস আগে ডিভোর্স দেয় বলে সে মিডিয়াকে জানিয়েছে। যে ছেলে মানসিক রুগী হওয়ার কারণে স্ত্রী মাত্র ৬ মাস আগে স্বামী পলাশকে ডিভোর্স দিয়ে দিলো, সে কি ডিভোর্স পেয়েই সুস্থ ও সবল হয়ে তার পুরনো রহস্যময় কীর্তিকলাপে তৎপর হয়ে উঠেছিলো? কিছুই জানতো না আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা? আর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তো দুধের শিশু। তারা সবকিছু ঠিকমতো করেছেন।

বিমান প্রতিমন্ত্রী, সচিব, মহাপরিচালক প্রমুখ হোমড়াচোমড়াদের সার্টিফিকেট পেয়েছেন, তা হলে আর যায় কোথায়? সকলেই স্ববিরোধী কথা বলে চলেছেন। প্রতিমন্ত্রীর কথা মারাত্মক। একজন মন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন উক্তির নিকৃষ্ট প্রমাণ! তার কথায় নিরাপত্তাব্যবস্থায় যদি লিকেজ না থাকে, তা হলে ছিনতাইকারী বিমানে উঠলো কী করে? যদি মন্ত্রীর কথা সত্যি হয়, তা হলে তো সন্দেহ আরো ঘনীভূত হতে বাধ্য। তবে কি নিরাপত্তা-ব্যবস্থার দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে কেউ না কেউ পলাশকে বিমান-ছিনতাই করার সুযোগ করে দিয়েছিলো? তা হলে তো শর্ষের মধ্যেই ভূতের অবস্থানকে স্বীকার করা ছাড়া উপায় নেই। তা হলে প্রশ্ন হলো, সেই ভূতটি কে বা কারা? কী উদ্দেশ্য ছিলো তাদের?  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরের সময় এ-ধরনের একটি ছিনতাই-উদ্যোগকে যারা ছোট করে দেখছেন, তাদের দিকেই সন্দেহের তিরটি নিক্ষেপ করা জরুরি। এটিকে নাটকের অভিনয়-দৃশ্য হিশেবে যারা তুলে ধরার চেষ্টা করবেন, তাদেরকেই সন্দেহের আওতায় নিয়ে আসতে হবে!

যে যেভাবেই বলুন, প্রতিমন্ত্রীই হোন, সচিব, মহাপরিচালক কিংবা বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থায় দায়িত্বে যার ছিলেন, তাদের প্রত্যেককে নজরদারির মধ্যে এনে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সত্য আবিষ্কার করতে না পারলে ভবিষ্যতে এর চেয়েও ভয়াবহ ঘটনা ঘটতেই থাকবে। যারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়, তারা কিন্তু চুপ করে বসে নেই। বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র চলছে ও চলবে। এই বিমান-ছিনতাইয়ের ঘটনা তারই একটি পরীক্ষামূলক প্রথম উদ্যোগ কিনা, তা জানার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত গোয়েন্দাদের দিয়ে জোর অনুসন্ধান করা অত্যন্ত জরুরি। অতএব বিষয়টি নিয়ে যারা গোলকধাঁধার সৃষ্টি করছেন, তারা যে জল ঘোলা করার একটি অপপ্রয়াস থেকে এটা করছেন, তা বুঝতে বেশি বুদ্ধি খরচের দরকার হয় না। এটা স্পষ্ট, কমান্ডো অপারেশনে পলাশকে মেরে ফেলার মধ্য দিয়ে সঠিক তথ্য উন্মোচনের পথ রুদ্ধ করার জন্যই যে একটি মহল তড়িঘড়ি করে কাজটি সম্পন্ন করিয়েছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই! বিমানবন্দরের নিরাপত্তাবলয়ের মধ্য দিয়ে পলাশকে নির্বিঘেœ বিমান-ছিনতাই করার সুযোগ করে দিয়েছে ঐ বলয়েরই লোকজন। তারা কারা, তা শনাক্ত করা জরুরি। অতএব মন্ত্রী, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কমকর্তারা একটু কম কথা বললে তদন্তে সুবিধা হবে বলেই মনে করি। আর যদি এরপরও তারা এলোমেলো কথা বলে মূল ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করেন, তা হলে এই কাজে তারা নিজেরাও সম্পৃক্ত আছেন বলে জনগণ তাদের সন্দেহ করলে জনগণকে কি দোষ দেয়া যাবে?

অতএব রহস্য-উন্মোচিত হবার আগে আপনারা বাকসংযম করুন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আমাদের একমাত্র ভরসার স্থলকে নিঃশেষ করে দেয়ার আর কোনো ষড়যন্ত্র জনগণ কিছুতেই বরদাস্ত করবেন না। গোলকধাঁধা সৃষ্টি করে মূল ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করলে জনগণ সন্দেহ থেকে চোখ ফিরিয়ে সরাসরি আপনাদের আসামি হিশেবে চিহ্নিত করতে বাধ্য হবে। তার আগেই ষড়যন্ত্রকারীরা সাবধান ও সতর্ক হয়ে যান!

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, দৈনিক আমাদের নতুন সময়!

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত