প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সেই পলাশের ২২ মাসে ৯ বার বিদেশ ভ্রমণ!

ডেস্ক রিপোর্ট: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ ছিনতাই চেষ্টাকারী পলাশ গত ২২ মাসে অন্তত ৯ বার বিদেশ ভ্রমণ করেছিল। তবে বেশিরভাগ সময় সে দুই-তিন দিনের বেশি কোনও দেশে থাকেনি। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হয়েও তার এতবার বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা, পলাশ ওরফে মাহিবী ওরফে মাহাদী চোরাকারবারি কোনও সিন্ডিকেটের হয়েও কাজ করে থাকতে পারে। তার আয়ের উৎস ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা খাতুন বলেন, ‘পলাশের বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় আমরা এটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। তার ব্যক্তিগত সব বিষয়েই খতিয়ে দেখছি। এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

পলাশের পাসপোর্টসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পলাশের পাসপোর্ট ঘেঁটে দেখা গেছে, গত ২২ মাসে সে দুবাই, মালয়েশিয়া, ভারত, নেপাল ও ভুটান ভ্রমণ করেছে। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই দুই-তিন দিনের বেশি কোনও দেশে থাকেনি সে। তার পাসপোর্ট ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে ইস্যু করা হয়। পাসপোর্ট নম্বর বিএন-০৯৫০৮৮২। পুরানো পাসপোর্টের (নম্বর এই-৭৯৫৫৫৩০) মেয়াদ শেষ হওয়া, না কি হারিয়ে যাওয়ার কারণে নতুন পাসপোর্ট নিয়েছে সে বিষয়ে জানা যায়নি। কর্মকর্তারা বলছেন, আগের পাসপোর্ট দিয়েও সে বিদেশ ভ্রমণ করে থাকতে পারে। এ কারণে পুরানো পাসপোর্টের তথ্যও সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, নতুন পাসপোর্ট ব্যবহার করে পলাশ প্রথমে মালয়েশিয়ায় যায়। ২০১৭ সালের ২৬ এপ্রিল সে মালয়েশিয়ায় এক মাসের স্যোশাল ভিজিট ভিসা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ২ মে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করে। মাঝে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে দুই মাসের বেশি সময় থাকার পর ৫ জুলাই দেশে ফিরে আসে। স্যোশাল ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সাধারণত ব্যাংক ব্যালেন্স থাকতে হয় অনেক বেশি।

পলাশের ভিসাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের শুরুতেই পলাশ ১৮ জানুয়ারি নেপালে যায়। ২৫ জানুয়ারি নেপাল থেকে দেশে ফিরে আসে। এর দেড় মাসের মাথায় ১০ মার্চ ভুটানে যায়। দুই দিন সেখানে অবস্থানের পর ১২ মার্চ আবার দেশে ফিরে আসে। ভুটান থেকে ফিরে আসার পাঁচ দিনের মাথায় ১৭ মার্চ ভারতে যায়। ভারতে মাত্র তিন দিন অবস্থান করে ২০ মার্চ দেশে ফিরে আসে সে। এরপর ১১ মে আবারও ভারতে যায়। সেবার ছয়দিন পর দেশে ফিরে আসে ১৭ মার্চ।

পাসপোর্ট ঘেঁটে দেখা গেছে, গত বছরের ১১ মে সে দুবাই যায়। ছয় দিনপর ১৭ মে আবার দেশে ফিরে আসে। দুবাই থেকে ফিরে আসার ১৫ দিনের মাথায় ২ জুন ভারতে যায় এবং ৯ জুন ঢাকায় ফিরে আসে। মাঝে একমাস বিরতি দিয়ে গত বছরের ১৯ আগস্ট আবারও ভারতে গিয়ে ২১ আগস্ট ফিরে আসে। যাওয়ার সময় বিমানে ভ্রমণ করলেও ফেরার সময় বেনাপোল স্থলপথ ব্যবহার করে। সর্বশেষ ২৬ নভেম্বর পুনরায় ভারতে গিয়ে ২৮ নভেম্বর দেশে ফিরে আসে পলাশ।

পলাশের ভিসাতদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন পাসপোর্টে পলাশের ২২ মাসে ৯ বার বিদেশ ভ্রমণ সন্দেহজনক। এ সময়ে সে পাঁচ বার ভারত, একবার করে নেপাল, ভুটান, মালোয়েশিয়া ও দুবাই ভ্রমণ করে। তার অবস্থানের ধরণ দেখে মনে হচ্ছে, সে অবৈধ কোনও কিছু বহন করার উদ্দেশ্যেই বিদেশ ভ্রমণ করেছিল। এই পাসপোর্ট ছাড়াও তার আগের একটি পাসপোর্ট রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগের পাসপোর্ট দিয়েও সে একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণ করে থাকতে পারে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সদস্যরা এ রকম দুই-তিন দিন অবস্থান করে অবৈধ জিনিসপত্র আনা-নেওয়া করে। সেক্ষেত্রে পলাশ বড় কোনও চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সদস্য ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে পলাশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আয়ের উৎসগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, মুদি দোকানদারের ছেলে হয়ে সে বিলাসবহুল জীবন-যাপন কীভাবে করতো এবং কীভাবে ঘনঘন বিদেশ ঘুরতো তা জানার চেষ্টা চলছে। এ সব তথ্য যাচাই-বাছাই করতে প্রয়োজনে পলাশের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সাবেক দুই স্ত্রী মেঘলা ও চিত্রনায়িকা সিমলাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

পলাশের ভিসাপ্রসঙ্গত, গত রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিমান ছিনতাইচেষ্টার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ১৪৭ ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের শাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। বিমানে থাকা যাত্রীরা নিরাপদে নেমে আসার পর সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে কথিত অস্ত্রধারী নিহত হয়। পুলিশের দাবি, অভিযানের পর তার কাছ থেকে খেলনা পিস্তল ও কিছু পাইপ উদ্ধার করা হয়, যেগুলো দিয়ে সে বোমা তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। প্রথমে তার নাম মাহাদী বলা হলেও পরদিন জানা যায়, সে নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা পিয়ার জাহানের ছেলে পলাশ আহমেদ। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট তদন্ত করছে। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত