প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাপায় এমপি প্রার্থীদের তোপের মুখে কেন্দ্রীয় নেতারা

ডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা। বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান-এর বনানী অফিসে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া এমপি প্রার্থীদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এখানেই এমপি প্রার্থীদের তোপের মুখে পড়েন দলটির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাসহ কয়েকজন নেতা।

দলের মহাসচিব ও সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি। এ সময় নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে পরামর্শ দেন। মতবিনিময় সভায় সবাই প্রাণ খুলে কথা বলেন।

জ্যেষ্ঠ এমপি প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন- মো. হাফিজ উদ্দিন (সংসদীয় আসন-ঠাকুরগাঁও-৩), মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৬), এটিইউ তাজ রহমান (সিলেট-০৪), শফিকুল ইসলাম সেন্টু (ঢাকা-১৩)0, সৈয়দ দিদার বখত ( সাতক্ষীরা-৩), অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-০২), জাফর ইকবাল সিদ্দিকী ( নীলফামারী-০১), কাজী মামুনুর রশীদ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-০৪), জহিরুল ইসলাম জহির (টাঙ্গাইল-০৭), গোলাম মো. রাজু (মুন্সীগঞ্জ-০৩) ও জহিরুল ইসলাম রুবেল (মানিকগঞ্জ-০৩)।

এ মতবিনিময় সভায় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ১৭২ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৫৮ জন। সভা থেকে বের হয়ে উপস্থিত প্রার্থীরাও এ স্বল্পসংখ্যক উপস্থিতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সভা চলে। মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে অনেক প্রার্থী পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার প্রতি বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পঞ্চগড়-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী আবু সালেহ তার বক্তব্যে বলেন, বিগত নির্বাচনে দলের শীর্ষনেতারা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন, তাদের এ দায়িত্বহীনতার জন্য আমি ব্যথিত হয়েছি। এ অবস্থায় হয়তো আমি এ পার্টি আর করবো না। তিনি জাপার বর্তমান নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী জহিরুল আলম রুবেল বলেন, প্রতিটি নির্বাচনের সময়ই নেতৃত্ব নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়। স্বার্থান্বেষী মহলরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এসব ষড়যন্ত্রের কারণেই তৃণমূল ধ্বংস হচ্ছে। এ অবস্থায় আগামীতে ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি করাও কঠিন হবে।

হবিগঞ্জ জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক শংকর পাল পার্টির মহাসচিব রাঙ্গাকে উদ্দেশ করে বলেন, মহাজোট থেকে আমাদের ৪৫টি আসন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, আপনি মহাসচিব হওয়ার পর এ আসন ২০ থেকে ২৫টিতে নেমে এসেছে।

এসময় রাঙ্গা তার বক্তব্যের জবাবে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমি মহাসচিব হওয়ার আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল মির্জাপুর থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী জহিরুল ইসলাম জহির বলেন, মনোনয়ন ও পদ বাণিজ্যে আমরা আজ দিশেহারা। সামাজিক মর্যাদা ও দলে কোনও রকমের অবদান না থাকলেও টাকার বিনিময়ে নমিনেশন ও বড় বড় পদ দেওয়া হয়। এ ধারা থেকে বের হওয়ার নিশ্চয়তা না পেলে আগামীতে জাতীয় পার্টির রাজনীতি থেকে আমরা সরে দাঁড়াবো।

সাতক্ষীরা থেকে আবু মতলুব লিয়ন উপস্থিত প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কোমর সোজা হয়ে দাঁড়ান। ভয় পেলে চলবে না। সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। তখন জিএম কাদের তাকে বলেন, ‘তুমি তোমার কথা বলো।’ জবাবে লিয়ন বলেন, ‘আমার কথা যদি পছন্দ না হয় তাহলে বলেন, পার্টি ছেড়ে চলে যাই।’

জাপার যুগ্ম-মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু বলেন, আমাদেরকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে আবার প্রত্যাহার করানো হলো। নির্বাচনের পূর্ব মুহুর্তে ফরম বিক্রয় ও পার্টির চাঁদা বাবদ ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা আয় হয়েছে। সেখান থেকেও আমরা যারা পার্টির ত্যাগী নেতারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি তাদের কিছু কিছু করে টাকা দিতে পারতো। রাজু বলেন, যেখানে এরশাদ সাহেব অসুস্থ, সেখানে কোন প্রয়োজনে দলের মাঝে বড় বড় প্রমোশন দেওয়া হচ্ছে। দলের মাঝে কোনও শৃঙ্খলা না থাকার কারণেই এগুলো হচ্ছে বলে মনে করি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ৫ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীকারী কাজী মামুন বলেন, যা হওয়ার হয়েছে। এখন দলকে উজ্জীবিত করার প্রশ্নে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদসহ বিভিন্নস্থানে পার্টির ত্যাগী নেতাদের কীভাবে মূল্যায়িত করা যায় সে বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের ভূমিকা নিতে হবে।

সভার শেষ পর্যায়ে পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, সকলের মাঝেই কিছু রাগ-ক্ষোভ থাকতেই পারে। আগামীতে সবাইকে নিয়ে দল গুছিয়ে পার্টিকে ক্ষমতায় নিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।

মতবিনিময় সভা শেষে এ বিষয়ে জানতে চাইলে জিএম কাদের বলেন, ‘আমাদের ক্লোজডোর ( রুদ্ধ দ্বার) মিটিং ছিল। দলের নেতারা তাদের মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। এটা আমাদের দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত