প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভয়াবহ অগুনে মানুষ পুড়ে, সাজা হয় না কারোই!

নিউজ ডেস্ক : গত ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ আগুনে ৬৯ জন পুড়ে নিহত হওয়ার পর থেকে আলোচনায় এসেছে পূর্বে এ ধরণের ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়গুলো। সেসব ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৯০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোট ১৫টি ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এসব আগুনের ঘটনায় কারোই সাজা হয়নি।

এর মধ্যে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ছাড়া আর কোনো ঘটনায় মামলা হয়নি। আর আশুলিয়ার মামলা হলেও সাক্ষীর অভাবে বিচার শেষ হয়নি। ফলে দৃশ্যত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো আসামির বা দোষীদের সাজা হয়নি।

নিমতলী ট্র্যাজেডি
২০১০ সালের ৩ জুন। রাজধানীর পুরান ঢাকার নিমতলী এলাকার নবাব কাটারার ৪৩ নম্বর বাড়ির একতলার কেমিক্যাল ফ্যাক্টরিতে আগুনের সৃষ্টি। সে আগুনে ১২৫ জন নিহত হন। অনেকে তাঁদের প্রিয়জনকে হারান, আবার অনেককে করে দেয় সহায়-সম্বলহীন। তখন দেশব্যাপী এ ঘটনা সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। সারা দেশে শোকের মাতম শুরু হয়। কিন্তু নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের পরও কোনো মামলা হয়নি। দোষী করা হয়নি কাউকে।

তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড
২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন নিহত এবং দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হন।

ঘটনার পরের দিন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় নাশকতার পাশাপাশি অবহেলাজনিত মৃত্যুর দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারা যুক্ত করা হয়।

পরবর্তী সময়ে একই বছরের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক এ কে এম মহসিনুজ্জামান খান তাজরীনের চেয়ারম্যান ও এমডিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রের বাকি আসামিরা হলেন তাজরীন ফ্যাশনসের এমডি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান মাহমুদা আকতার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুলাল, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনারুল, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল-আমিন, স্টোর ইনচার্জ আল-আমিন ও লোডার শামীম মিয়া।

মামলার পরে ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। এর পরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেলোয়ার হোসেনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হওয়ার পর ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকি সাক্ষীরা আদালতে না আসায় মামলাটি স্থবির হয়ে আছে।

মামলাটি বর্তমানে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রদীপ কুমার রায়ের আদালতে বিচারাধীন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি কাজী শাহানারা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগপত্রে সাক্ষীদের যে ঠিকানা দেওয়া আছে, সেখানে সমন ও ওয়ারেন্ট পাঠানো হলেও পুলিশ তাদের পাচ্ছে না। তাই সাক্ষী হাজির করা যাচ্ছে না।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুখ আহম্মেদ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, মামলায় সাক্ষী না আসায় বিচারকাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া এ মামলায় এ পর্যন্ত আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

মিরপুরের সারেকা গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ড
১৯৯০ সালের ১৭ ডিসেম্বর মিরপুরের সারেকা গার্মেন্টে আগুনে পুড়ে মারা যান ২৭ জন। এ ঘটনায়ও কোনো মামলা করা হয়নি বা দোষীদের শাস্তি দেওয়া যায়নি।

ইব্রাহিমপুর ট্র্যাজেডি
১৯৯৫ সালে রাজধানীর ইব্রাহিমপুরের লুসাকা অ্যাপারেলসে নিহত হন ১০ কর্মী। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। কোনো দোষী চিহ্নিতও করা যায়নি।

তাহিদুল ফ্যাশন ও সিনটেক্সে অগ্নিকাণ্ড
১৯৯৬ সালে ঢাকার তাহিদুল ফ্যাশনে ১৪ এবং সিনটেক্স লিমিটেডের কারখানায় ১৪ জন আগুনে পুড়ে মারা যান। এসব ঘটনায় কোনো ধরনের মামলা বা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মিরপুর ট্র্যাজেডি
১৯৯৭ সালে ঢাকার মিরপুরের তামান্না গার্মেন্টে ২৭ ও মিরপুর ১ নম্বরের মাজার রোডের রহমান অ্যান্ড রহমান অ্যাপারেলস কারখানায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হন ২২ শ্রমিক। এসব ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। দোষীদের শাস্তির মুখোমুখি করা যায়নি।

নরসিংদীতে অগ্নিকাণ্ড
২০০০ সালের ২৫ নভেম্বর নরসিংদীর চৌধুরী নিটওয়্যার লিমিটেডে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান ৫৩ শ্রমিক। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

বনানী ট্র্যাজেডি
রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ীতে ২০০০ সালে গ্লোব নিটিং ফ্যাশন লিমিটেডে আগুন লেগে মারা যান ১২ শ্রমিক। এ ঘটনায় কোনো ধরনের মামলা হয়নি।

মিকো সোয়েটারে গুজবে পদদলিত
২০০১ সালের ৮ আগস্ট ঢাকার মিরপুরের মিকো সোয়েটার লিমিটেডে আগুন লাগার গুজবে ভিড়ে পায়ের নিচে চাপা পড়ে নিহত হন ২৪ শ্রমিক। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

শিবপুর ট্র্যাজেডি
নরসিংদীর শিবপুরে গার্মেন্ট কারখানায় ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে অগ্নিকাণ্ডে ৪৮ শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় কোনো ধরনের মামলার ঘটনা ঘটেনি।

নারায়ণগঞ্জ ট্র্যাজেডি
নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি সান নিটিং নামে একটি গার্মেন্ট কারখানায় আগুনে ২০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বা কোনো বিচার হয়নি।

চট্টগ্রামে গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ড
২০০৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের কেটিএস অ্যাপারেলস মিলে অগ্নিকাণ্ডে ৬৫ শ্রমিক পুড়ে মারা যান। এ ঘটনায় কোনো মামলা বা সাজা হয়নি।

গাজীপুরে অগ্নিকাণ্ড
২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুর সদরের গরিব অ্যান্ড গরিব সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডে মারা যান ২১ শ্রমিক। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

হা-মীমে অগ্নিকাণ্ড
২০১০ সালের ১৪ ডিসেম্বর আশুলিয়ায় হা-মীম গ্রুপের গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডে ৩০ শ্রমিক মারা যান। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

টঙ্গী ট্র্যাজেডি
২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর টঙ্গীর ট্যাম্পাকো ফয়েলস নামে একটি প্যাকেজিং কারখানার বয়লার বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে ৪০ বছরের পুরোনো ভবনটি ধসে পড়ে। এতে নিহত হন ৩৫ জন। এ ঘটনাও কোনো মামলা হয়নি। নয়া দিগন্ত

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত