প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে জিতবে না কেউ

জাকির তালুকদার : জাতীয়তাবাদ যখন তীব্র এবং উগ্র রূপ ধারণ করে, তখন তা পরিণত হয় ফ্যাসিবাদে। দেশপ্রেমের একমাত্র পরিচয় হিসেবে তখন বিবেচনা করা হয় অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উন্মাদনা। অর্থাৎ যুদ্ধের পক্ষে যে যতোটা ভূমিকা রাখবে সে ততোটা দেশপ্রেমিক। অদ্ভুত এক অন্ধত্ব স্বেচ্ছায় বরণ করে তখন দুই দেশের মানুষ। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে কার সমরশক্তি কতো, তা নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই। যে দুই দেশের কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধা নিয়ে রাত্রিযাপন করে, মানবিক সূচকে যারা অনেক পিছিয়ে, সেই দুই দেশ তাদের বাজেটের সবচাইতে বেশি অংশ ব্যয় করে সামরিক খাতে। আমাদের দেশেও ভারতপ্রেমী এবং পাকপ্রেমীরা ব্যস্ত সামরিক শক্তির হিসাব-নিকাশে। কিন্তু কারোই সম্ভবত মনে নেই যে পারমাণবিক বোমার অধিকারী দুইটি দেশের যুদ্ধে কেউ জেতে না। জেতে কেবল ধ্বংস এবং মৃত্যু। আর সেই মৃত্যু এবং ধ্বংসের কালোগ্রাস আমাদের দেশসহ পার্শ্ববর্তী সবগুলো দেশকেই আচ্ছাদিত করবে। আমরা ভুলে যাই, পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ কোনো ক্রিকেট ম্যাচের উত্তেজনা নয়। যুদ্ধ কী নিয়ে? প্রধানত কাশ্মির নিয়ে। কাশ্মিরের মানুষ স্বাধীনতার জন্য নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রাম শুরু করেছিলো। কিন্তু ভারতের দমননীতি আর পাকিস্তানের উস্কানির কারণে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন দুর্বল হয়ে তার জায়গা দখল করেছে জঙ্গিবাদ। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার শুনতে চায় ভারত কী বলছে বা পাকিস্তান কী বলছে। তারা আগ্রহী এটা জানতে যে ভারত কী চায় বা পাকিস্তান কী চায়। কিন্তু সমাধানসূত্র নিহিত আছে সেই প্রশ্নের মধ্যে কাশ্মিরের মানুষ কী চায়।লেখক : কথাসাহিত্যিক। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত