প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গহনা… সে শুধু আমার একার নয়

স্বপ্না দে : গয়না পরাটা আমার কোনো সময়ই ভালো লাগে না। শখ করে কাচের চুড়ি কোনোদিনই পরিনি। বরং এই জিনিসগুলোকে আমার অপ্রয়োজনীয় এবং কেমন এক যন্ত্রণাদায়ক বলেই মনে হয়। আমার নাক-কান ফোঁড়ানো হয়ে যায় একদম আঁতুড় ঘরেই। তাই নিজের চেহারা যখন থেকে আয়নায় দেখতে শুরু করেছি তখন থেকেই দু’ কানে সোনার রিং দেখে দেখেই বড় হয়েছি। তবুও কেন জানি না এই জিনিসগুলোর প্রতি কোনো আকর্ষণ বোধ করি না। গলায় চেন কিংবা হার পরা, পায়ে নূপুর দেয়া এগুলোর কোনোটাতেই সৌন্দর্য বৃদ্ধি হয় এ রকম ধারণা আমি পোষণ করি না। তাই নিজেকে অলংকারবিহীন দেখতে পছন্দ করি। কিন্তু আমার চেনাজানা পরিবেশে অলংকারবিহীন থাকা অনেক অসম্মানের এবং অকল্যাণেরও বটে। প্রচলন আছে মেয়েদের হাত, গলা খালি থাকতে নেই, তাতে স্বামী-সন্তানের অমঙ্গল হয়। কানে দুল না থাকলে দেখতে ভালো লাগে না। বিবাহিতাদের নাকে ফুল থাকতে হবে। হিন্দু হলে শাঁখাপলা, মাথায় সিঁদুর এগুলোও থাকতেই হবে।
কিন্তু কথা হচ্ছে, কেন এগুলো থাকতে হবে? আমি অন্যের গোয়ালের প্রাণী বলে? যদি বলেন বিবাহিত এইটা প্রমাণের জন্য। তাহলে বলতে চাই, পুরুষ মানুষ কী বিয়ে করে না? তাদের কেন চিহ্ন থাকবে না?
পুরুষের কী স্ত্রী-সন্তানের প্রতি কোনো দায়িত্ব নেই? কেন একজন পুরুষের স্ত্রী বিয়োগের চিহ্ন ধারণ করতে হবে না? আমি বলতে চাই একজন মানুষ যেভাবে জন্ম নিয়েছে তাতে যদি তার অপূর্ণতা থেকেই যায়, আর সেটা পূরণ করার জন্য রাশি রাশি গহনা পরতেই হয়, তো সেটা কেবল নারীরাই পরবেন কেন?
দামি দামি গহনা, কাঠের, মাটির কিংবা কাচের, যাই হোক কেবল নারীরা একা পরবো কেন, আসুন আজ থেকে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই গহনা পরি।
প্রাচীন যুগের রাজা-বাদশাদের তো দেখতে মোটেই খারাপ লাগতো না, আজও আমরা নারীরা আপনাদের সেভাবেই দেখতে চাই। একজন রাণীর সাথে একজন মহারাজাকেই মানায়। আপনি মুক্ত পুরুষ অথচ আমি বন্দিনী! তাকে কী সমতার রাজ্য বলা যায়? আসুন সবাই মিলে গহনা গ্রহণ কিংবা বর্জন করি। লেখক:কবি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত