প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দূর্যোগে শুটকির সর্বনাশ

নইন আবু নাঈম: টানা ৭২ ঘন্টা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও প্রবল ঝড়ের কারণে দুবলার চরের শুঁটকি পল্লীর সর্বনাশ হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টারা। গত ৩দিনে বৈরি আবহাওয়া ও বৃষ্টি পাতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া দুবলায় অবস্থিত জেলেদের অর্ধশতাধিক অস্থায়ী ঘর বিধ্বস্থ হয়েছে। মৌসুমের শেষ মুহূর্তে এসে এমন বিপর্যয়ে চরম লোকসানে পড়েছেন শুঁটকি ব্যবসায়ী, বহদ্দার ও জেলেরা। পাশাপাশি সরকারি রাজস্বতেও ঘাটতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বনবিভাগ।

দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল আহমেদ জানান, রবিরার থেকে আবহাওয়া খারাপ হতে থাকে। মেঘলা আবহাওয়ায় শুঁটকির মাচানে থাকা মাছে পচন ধরে। সোমবারের বৃষ্টিতে বাকিটা নষ্ট হয়। দুবলার চরের আলোরকোল, মেহেরআলীর চর, নারকেলবাড়িয়া, অফিস কিল্লা ও মাঝের কিল্লার শুঁটকি পল্লীর প্রায় ৫০ লাখ টাকার মাছ নষ্ট হয়েছে। ঝড়ে অর্ধশতাধিক জেলেদের থাকার ঘর এবং শুঁটকির গুদাম বিধ্বস্থ হয়েছে। এতে প্রস্তুতকৃত অনেক শুঁটকিও ভিজে গেছে। এ অবস্থায় বহদ্দার-জেলেরা মারাত্মক লোকসানে পড়বে।

দুবলার চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী চট্রগ্রামের বহাদ্দার লেদু মিয়া বলেন, বৃষ্টিতে বহু জেলেদের দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মাছ নষ্ট হয়েছে। মাছে পানি লাগলে পোকা হয়ে যায়। ওই মাছ দিয়ে আর শুটকি তৈরি করা যায় না। এভাবে পল্লীর পাঁচটি চরের সহস্রাধিক ব্যবসায়ী ও বহদ্দারের প্রত্যেকেরই ক্ষতি হয়েছে। গতবারের চেয়ে এ বছর শুটকিতে বেশি লাভের আশা করেছিলেন । কিন্তু শেষ মুহূর্তের দুর্যোগের মুখে পড়ে সর্বনাশ হতে চলছে।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের আলোরকোল কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. রাফিক জানান, ঝড়ে শুটকি পল্লীর অনেক মাছ নষ্ট হয়েছে। তাছাড়া জেলেদের বহু ঘর উড়িয়ে নিয়ে গেছে। বঙ্গোপসাগরে শুঁটকি তৈরির মাছ আহরণের সময় ঝড়ের কবলে পড়ে দুটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক ও শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, কয়েক দিন ধরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং ঝড়, বৃষ্টিতে শুটকি পল্লীর ক্ষতি হয়। আবহাওয়ার বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে আরো ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার ফলে জেলে-মহাজনদের লোকসানের পাশাপাশি রাজস্ব ঘাটতির আশংকা করা হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত