প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাশ্মীর; যে ভূস্বর্গে নরকের বাস

লিহান লিমা: ব্রিটেন থেকে ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতার পূর্বেই অস্থির ছিলো ভূস্বর্গ কাশ্মীর। দশকব্যাপী বিদেশি আগ্রাসনের শিকার হওয়া কাশ্মীর ১৫৮৬ সালে স¤্রাট আকবর তার সা¤্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর আসে আফগান, শিখ, ডোগরা ও এখন ভারতীয়রা। অন্যের দ্বারা শাসিত হওয়ার ৫ হাজার বছরের ইতিহাস রয়েছে কাশ্মীরের। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা নীতি অনুযায়ী কাশ্মীর তার পছন্দমতো ভারত বা পাকিস্তান যে কোন অংশে যোগ দিতে পারত। পাকিস্তান ১৯৪৭ সালের অক্টোবরে জম্মু কাশ্মীরে হামলার পর তখন স্থানীয় শাসক মহারাজা হারি সিং ভারতকে বেছে নেন। এর পূর্ব পর্যন্ত তিনি চেয়েছিলেন ভারত-পাকিস্তানের মাঝামাঝি স্বাধীন কাশ্মীর রাষ্ট্র। বর্তমানের কাশ্মীরিরা ভারতের শাসনে সন্তুষ্ট নন। এর বদলে তারা স্বাধীনতা কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে থাকতেই স্বস্তি বোধ করেন। বিবিসি, গ্রেটার কাশ্মীর, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

দ্য জিওন জানার্লে ওমানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক অধ্যাপক মৌসুমি রয় বলেন, প্রকৃতঅর্থে কাশ্মীর ভারত, পাকিস্তান ও চীনের কাছে কৌশলগতভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কাশ্মীরিরা নয়। কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে মোদির মতো ব্যর্থ হয়েছেন গান্ধী, নেহেরু, সষ্ঠি, আয়ুব, শেখ এবং ইন্দিরা। পাকিস্তানিদের কাছে কাশ্মীর অপূর্ণ স্বপ্ন, আর ভারতের কাছে চিরস্থায়ী রক্তপাত। ভারতের গণতন্ত্র ভয় পায় কাশ্মীরের স্বাধীনতায় আর পাকিস্তানের রাজনীতি এটি নিয়ে মোটেই মাথা ঘামায় না। আজকের কাশ্মীর বিশ্বের সবচেয়ে সামরিক এলাকা। ৫০০ জঙ্গীর জন্য মোতায়েন করা হয়েছে ৬ লাখ সেনা, যেখানে ইরাকে মার্কিন সৈন্য ১ লাখ ৫০ হাজার। গত দুই দশকের ভারতীয় শাসনে ৮০ হাজারেরও বেশি কাশ্মীরি নিহত ও গুম হয়েছেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে লেখা কলামে রাম মাধব বলেন, ‘কাশ্মীর আমাদের মানে সব কাশ্মীরিই আমাদের।’ এদিকে বাস্তবতা বলে, উচ্চবেকারত্ব, দারিদ্র, বিদ্রোহ, হামলা-পাল্টা হামলা, সমরাস্ত্র সজ্জিত কঠোর নিরাপত্তা কাশ্মীরিদের জীবনের সঙ্গে মিশে রয়েছে। সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তারক্ষীদের নিশ্চিদ্র কঠোরতার বেড়াজালে বাস করতে হয় কাশ্মীরের সাধারণ মানুষদের । ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বসবাস করা ৬০ ভাগ মুসলিম ভারতের অন্য রাজ্যগুলোতে এতটুকু নিরাপত্তা বোধ করেন না। কাশ্মীরি তরুণদের ভারতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিয়ে বিজেপি ও আরএসএস কট্টর প্রচরণা, সব কাশ্মীরিদের গণহারে সন্ত্রাসী বলে অপবাদ ছড়ানো তাদের ভারতীয়দের থেকে আলাদা করে রাখে।

শীতে শুভ্র তুষারপাতের নয়নভিরাম সৌন্দর্য ও বসন্তে ড্যাফোডিলের নৃত্যে আলোড়িত হওয়া কাশ্মীরিদের প্রকৃতি অপার আর্শিবাদ ঢেলে দিলেও বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির কূটকৌশল তাদের শান্তির জীবন-যাপনের সীমারেখা টেনে রেখেছে। লাইন অব কন্ট্রোলের মতো কাশ্মীরের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও নির্ভরতাও কঠোর মাত্রায় নিয়ন্ত্রাধীন। সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও আতিথেয়তার কাশ্মীর কথিত ভূস্বর্গের আড়ালে এক টুকরো নরক, যেখানে কিশোরারা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভয় নিয়ে বাঁচে, তরুণীরা ধর্ষণের শিকার হয়, ঘুমপাড়ানির গানের বদলে গোলা-গুলির আতঙ্ক নিস্তদ্ধ রাতের নিরবতা ভাঙায়। আঞ্চলিক রাজনীতির পরিবর্তন ও নেতৃত্বের পালা-বদল হলেও কাশ্মীরের দুর্ভোগ ফুরোয় না, এ ভূস্বর্গে যে নরকের বাস….

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত