প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কমলগঞ্জে মাধবপুর-পদ্মছড়া সড়কের কাজের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী তুলে নিচ্ছেন ঠিকাদার

সাদিকুর রহমান সামু,কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) থেকে: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মাধবপুর-পদ্মছড়া সংযোগ সড়কের কাজের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সড়ক থেকে তুলে নিচ্ছেন কাজের ঠিকাদার। মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) নির্দেশে মাধবপুর-পদ্মছড়া সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী সড়ক থেকে এবং কাজের সাইট থেকে তুলে নিচ্ছেন কাজের ঠিকাদার মেসার্স আদিল এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী মো. সুন্দর আলী।

গত দুদিন ধরে প্রচুর শ্রমিক লাগিয়ে নিম্নমানের ইটের খোঁয়া তুলে গাড়ি দিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কমলগঞ্জের মাধবপুর-পদ্মছড়া সড়ক উন্নয়ন চেঃ ২২০০-৪১১৩ মিঃ ও একই সড়কে ৩০৫২ মিঃ ও ৩৭১৭ মিঃ চেইনেজে ২টি ড্রেনেজ কালভার্ট নির্মাণ এবং ৬০ মিঃ প্রোটেকশন কাজ চলছে। ‘এসডিআইআরআইআইপি’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবৎসরে প্রায় এক কোটি ৬৬ লাখ ৭৮ হাজার ৪০৯ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) বিভাগ। সড়ক উন্নয়নের এ কাজ দরপত্রের মাধ্যমে পান ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা মো. সুন্দর আলীর মেসার্স আদিল এন্টারপ্রাইজ। কাজটির কার্যাদেশ পেয়ে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সড়কের কাজ শুরু করেন কাজের ঠিকাদার। স্থানীয়দের অভিযোগ সড়কটির কাজ শুরু থেকেই কাজের শিডিউলের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছা মত সড়কের সাবব্রেইজ ও মেকাডম কাজ করেন। এতে তিনি ব্যবহার করেন নিম্নমানের ইটের খোয়াসহ নির্ণানসামগ্রী। সড়কের ড্রেনেজ কালভাট নির্মাণ সহ সড়কের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করার ফলে সড়কের মূল কাজ শুরুর আগেই নবনির্মিত একটি কালভাট ভেঙ্গে পড়ে। সড়কের কাজ এক নম্বর ইটের খোয়া দিয়ে করার নিয়ম থাকলেও নিম্নমানের ইটের খোয়া (কংক্রিট) ব্যবহার, নিম্নমানের খোয়া ও মাটি-বালু মিশ্রিত বালু দিয়ে সড়কের মেকাডম করা এবং স্পেসিফিকেশন বহির্ভুত অত্যন্ত নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করায় উপজেলা প্রকৌশলী নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী সাইট থেকে সরিয়ে নেয়ার জন্য এক পত্রে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বলেন।

এর পরেই ১২ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আব্দুর রশীদ খান মাধবপুর-পদ্মছড়া সংযোগ সড়কের কাজ সরেজমিন পরিদর্শনকালে সড়কের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী মওজুদ এবং ব্যবহার করার অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দিয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি এক পত্রে কাজের সাইট থেকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী তুলে নেওয়ার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বলেন।

মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিউডি) নির্দেশে কাজের ঠিকাদার কাজের সাইট থেকে নিম্নমানের খোয়াসহ মালামাল অপসারণ কাজ শুরু করেন। সড়কের কাজে প্রচুর শ্রমিক লাগিয়ে তিনি খুব দ্রুতগতিতেই কাজের সাইট থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আপত্তিকৃত মালামাল অপসারণ করে নিচ্ছেন। এদিকে শুক্রবার দুপুরে মাধবপুর-পদ্মছড়া সড়কের উন্নয়ন কাজ সরজমিন তদন্ত করেন এলজিইডি সিলেট অঞ্চলের পিডি মো. আলী হোসেন চৌধুরী। এ সময় তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজের সাইট থেকে নিম্নমানের খোয়াসহ মালামাল অপসারণ করে দরপত্রের শর্তানুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার জন্য কাজের ঠিকাদারকে মৌখিক ভাবে নির্দেশ প্রদান করেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. সুন্দর আলী বলেন,গ্যাসচালিত ব্রিকফিল্ডের ইট হওয়ায় ইটগুলো দেখতে সাদা রংয়ের হলেও ইটের গুণগত মান ভাল ছিল। তারপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরে নির্দেশে আপত্তিকৃত ইটের খোয়াগুলো অপসারন করে নিচ্ছি।

মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিউডি) মো. আব্দুর রশীদ খান বলেন, কাজের সাইট থেকে নিম্নমানের সকল মালামাল অপসারন পূর্বক দরপত্রের শর্তাবলীঅনুযায়ী মালামাল সাইটে মওজুদ করার জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে। পরে তিনি কাজের সাইট পরিদর্শন করার পর সড়কের উন্নয়ন কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেন। এতে ব্যত্যয় হলে ঠিকাদারসহ তদারকি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ