প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সঠিক তথ্য না পেলেই ছড়ায় গুজবের ডালপালা

প্রভাষ আমিন : ২৪ ফেব্রুয়ারি, রোববার রাতের বিমান ছিনতাই চেষ্টাটি খুব বেশিদূর এগোনোর আগেই শেষ হয়ে গেছে। দুই ঘণ্টার টানটান উত্তেজনা শেষ হয় মাত্র ৮ মিনিটের কমান্ডো অভিযানে। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য বড় সাফল্যের এবং স্বস্তির। কিন্তু ছিনতাই নাটক শেষ হলেও রেখে গেছে অনেকগুলো প্রশ্ন, যার উত্তর জানা নেই। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পলাশ খেলনা হোক বা আসল হোক, অস্ত্র নিয়ে বিমানে উঠলো কিভাবে? এই প্রশ্ন নিয়ে গতকাল লিখেছি। আজ আলোচনা করছি অন্য প্রশ্নগুলো নিয়ে। এগুলো আসলে প্রশ্ন নয়, বিভ্রান্তি। আর এই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে সরকারের নানা জনের নানা রকম তথ্যে। আর সময়মতো সঠিক তথ্য না পেলেই ছড়ায় নানা রকম বিভ্রান্তি আর গুজব ডালপালা মেলে দ্রুত। গণমাধ্যমে সব প্রশ্নের জবাব না পেয়েই, সামাজিক মাধ্যমে নানান জিজ্ঞাসা আর নানান ষড়যন্ত্রতত্ত্ব। তথ্য প্রযুক্তি আইনের ভয়ে সব প্রশ্ন অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আসছে না। কিন্তু মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। ছিনতাই চেষ্টাকারী মরে যাওয়ায়, সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো, শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা হয়নি তো? প্রথম বিভ্রান্তি ছিনতাই চেষ্টাকারীর নাম নিয়ে। প্রথমে জানানো হয়, তার নাম মাহাদী। পরদিন র‌্যাব তার আঙ্গুলের ছাপ নিজেদের ক্রিমিনাল ডাটাবেজে মিলিয়ে জানায়, তার নাম পলাশ মাহমুদ এবং নারী অপহরণের অভিযোগে একবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। অথচ একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীর নাম, ঠিকানা, পরিচয় জানাটা এক মিনিটের ব্যাপার। যাত্রী তালিকা পরীক্ষা করে তার পাসপোর্ট চেক করলেই সব তথ্য পাওয়া সম্ভব। অথচ সেই সহজ কাজটি র‌্যাবকে করতে হয়েছে মৃত ব্যক্তির আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে। আমরা সহজ কাজ জটিল করে করতে ভালোবাসি। প্রথমে তার নাম জানা গেলো মাহাদী, পরে পলাশ মাহমুদ। আর তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মাহিবি জাহান নামে। বিভ্রান্তি আর বিভ্রান্তি।

তারপরের বিভ্রান্তি অস্ত্র নিয়ে। প্রথমে জানা গেলো, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে একজন ককপিটের দিকে যেতে চেয়েছিলো। যাত্রীদের কেউ কেউ বলেছেন, তারা গুলির আওয়াজ শুনেছেন। পরে কমান্ডো অভিযানের সময়ও গোলাগুলির কথা বলা হয়েছে। পরে জানা যাচ্ছে, পিস্তলটি আসল নয়, খেলনা। পিস্তল যদি খেলনাই হবে, তবে যাত্রীরা গুলির আওয়াজ পেলেন কোত্থেকে? আর খেলনা পিস্তলধারী একজনকে মেরে ফেলতে হলো কেন? আর মারার ব্যাপারেও বিভ্রান্তি। প্রথমে জানা গেলো, তাকে আহত অবস্থায় ধরা হয়েছে। পরে জানা গেলো, কমান্ডোদের সাথে গোলাগুলিতে সে মারা গেছে। এখন বলা হচ্ছে, খেলনা বা আসল কোনো অস্ত্রই ছিলো না তার কাছে। মামলায় পিস্তল প্রসঙ্গ নেই।

তাকে জীবিত ধরা গেলে অনেক প্রশ্নের জবাব পাওয়া যেতো। জানা যেতো, সে কি নিছকই ব্যর্থ প্রেমিক নাকি সন্ত্রাসীদের সাথে তার কোনো যোগসাজশ আছে? তবে নারী সংক্রান্ত অপরাধ ছাড়া কোনো সন্ত্রাসী অতীত নেই তার। এই নারী সংক্রান্ত বিষয়েই আমাদের মিডিয়া সবচেয়ে অসংবেদনশীল আচরণ করেছে। বিমান প্রতিমন্ত্রী প্রথম জানিয়েছেন, ছিনতাই চেষ্টাকারী এক নায়িকাকে তার স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছে। ব্যস, তারপর থেকে গণমাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই নায়িকাকে নিয়ে নানান কেচ্ছা। এমনকি টেলিভিশন টকশোতে সেই নায়িকাকে রীতিমতো জেরা করা হলো। একজন ছিনতাইকারী নাম বললেই একজন নারীকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করাটা আমার কাছে দায়িত্বশীল মনে হয়নি।

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত