প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বিতর্ক

তাসমিয়া নুহিয়া আহমেদ : উনিশ বছর বয়স্কা শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শামীমার পরিবারকে এক চিঠিতে জানিয়েছে, তার নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এখন সে ইচ্ছা করলে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারে। শামীমার মাতা-পিতা দু’জনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ। কিন্তু শামীমার জন্ম হয়েছে বৃটেনেই। পূর্ব লন্ডন থেকে ২০১৫ সালে শামীমা সিরিয়া চলে যায় আইএসে যোগ দিতে। সেখানে সে একজন আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করে। এখন সেখান থেকে ব্রিটেনে ফিরে আসতে চাইলে যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ তার নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
২০ ফেব্রুয়ারি শামীমার পরিবারের আইনজীবী সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, বৃটেন এমন অনেককেই দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে যারা আইএসের পক্ষে লড়াই করেছিলো বলে ধারণা করা হয়। আর এই কিশোরী তো আইএসের হয়ে যুদ্ধ করেনি, বরং এ রকম একজন যোদ্ধার সে ছিলো গৃহবধূ।
দি স্পেকটেটরে এ বিষয়ে ডেভিড বার্গম্যান বলেন, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের পর শামীমা বেগমের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করবে একটি বিষয়ের ওপর, সেটি হচ্ছে- তার কী দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে? যদি থাকে, তাহলে ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তকে আইনানুগ বলা যাবে। আর তা না হলে কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রবিহীন রাখা যাবে না। এরই মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে বলেছে, শামীমা বেগম বাংলাদেশি নাগরিক নয়, সে জন্মগতভাবেই ব্রিটিশ নাগরিক এবং সে কখনোই দ্বৈত নাগরিকত্বের জন্য বাংলাদেশের কাছে আবেদন করেনি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন বিবৃতি আসলেই আইনসম্মত কিনা।
বাংলাদেশে নাগরিকত্ব বিষয়ে ‘নাগরিকত্ব আইন ১৯৫১’ নামে একটা আইন আছে। তার সংশোধিত ৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি পিতা অথবা মাতার সন্তান যদি বিদেশে জন্ম নেয়, সে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বিবেচ্য হবে। আইন অবশ্য দ্বৈত নাগরিকত্বকে অনুমোদন দেয়নি। আরও একটা কথা বলা হয়েছে, কারও বয়স একুশ বছর না হলে সে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এ থেকে এটা স্পষ্ট যে, বৃটেনে বাংলাদেশির সন্তান জন্মের পর থেকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তার বয়স একুশ হওয়ার আগে পর্যন্ত এই নাগরিকত্বই থাকবে।
এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. রিদওয়ানুল হক বলেন, শামীমার জন্মের সময় তার মাতা-পিতা কোন দেশের নাগরিক ছিলেন তার ওপরই নির্ভর করছে শামীমার নাগরিকত্বের বিষয়টি। যদি তার মাতা-পিতা বাংলাদেশের নাগরিক থেকে থাকেন তাহলে জন্মগতভাবেই শামীমাকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তার বয়স ২১ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের নাগরিকই থাকবেন।
এর মধ্যে গত মাসে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাতে শামীমার নাগরিকত্ব বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের বিষয় ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এটা এখন বলা যায় যে, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী শামীমা বেগম চাইলে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য সরকার যে তার নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করে নিয়েছে এতে শামীমার রাষ্ট্রহীন হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকবে না।
(লেখক : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ডেইলি আওয়ার টাইমের নির্বাহী সম্পাদক।)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত