প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিমান ছিনতাই : এই নাটক করার কী দরকার ছিলো?

 

নূরুজ্জামান লাবু

২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার ঘটনা। সাংবাদিক হিসেবে আমার জন্য বা আমাদের সময়কালের সাংবাদিকদের জন্য এইটা একটা বিশাল ব্যাপার। বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা বিভিন্ন সময়ে শুনে আসছি, কিন্তু নিজে কখনো কাভার করিনি। ঢাকা থেকেই কাভার করার চেষ্টা করছি, সহকর্মীদের সঙ্গে।
ঘটনা শুনেই মনে হলো জঙ্গি না তো? যেহেতু জঙ্গিবাদ নিয়ে আমার বিশেষ আগ্রহ আছে। তো ধীরে ধীরে সব বিষয় পরিষ্কার হতে থাকলো। আট মিনিটের কমান্ডো অপারেশন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার, তারপর অস্ত্রধারীর মৃত্যু, সেনাকর্মকর্তার প্রেস ব্রিফিং, ঢাকায় বেবিচকের প্রেস ব্রিফিং এবং পরদিন নিহত ছিনতাই চেষ্টাকারীর পরিচয়, নায়িকা সিমলা প্রসঙ্গ, পরিবারের ভাষ্য নানা বিষয়ে খবর নিতে গিয়ে ব্যাপক চাপ গেছে। অবশ্য এর একটা বড় কারণ আমাদের চট্টগ্রামের সহকর্মীর বিয়ে উপলক্ষে ছুটিতে থাকা।
এর মধ্যে আবার ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত এগারোটার দিকে একটা সুযোগ হাতে পেয়েও তা প্রকাশ করতে না পারার বেদনা ছিলো। কারণ সোর্সের সঙ্গে বিট্রে করে বা তাকে ইগনোর করে কখনো কোনো নিউজ আমি করি না। সোর্স আমার কাছে ঈশ্বরের মতো।
যা হোক, ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি এই দু’দিনে আগের মতো একদল মূর্খের মুখে সেই একই কথা শুনতে থাকলাম। পরিচিত নানাজন, এমনকি সাংবাদিকের মুখেও যে, এই কাজটা আসলে সরকারের নাটক। চকবাজারের আগুন ধামাচাপা দিতে সরকার এই বিমান ছিনতাই চেষ্টার নাটক সাজিয়েছে। এসব শুনে আমি কখনো হাসি, কখনো রাগ হয়, কখনো যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করি। আর মাঝে মাঝে ভাবি এ দেশে এতো আবালের জন্ম হলো কোথা থেকে?
১. বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় বাংলাদেশের এভিয়েশনে কতোবড় নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট পড়লো তার কোনো ধারণা আছে? ২. সরকার নিজের ইমেজ ক্ষতি করে কী লাভ করবে? ৩. বিমান ছিনতাই চেষ্টা দিয়ে চকবাজার থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে নিলে কী আটষট্টি লাশ জিন্দা হবে? না। তাহলে ফোকাস অন্যদিকে নিয়ে লাভ কী? ৪. অস্ত্রধারী বিমানে ওঠা মানে নিরাপত্তার ব্যাপক ঘাটতি। আন্তর্জাতিক অনেক ফ্লাইট এই অজুহাতে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করতে পারে। তো সরকার নিজেই নিজের ক্ষতি করতে যাবে কেন? যারা এটাকে নাটক নাটক বলছেন, তাদের বুদ্ধির প্রশংসাই করতে হয়। এতো বুদ্ধি বা বিশ্লেষণ ক্ষমতা নিয়ে ঘুমায় কেমনে?
আরেক প্রসঙ্গ আলোচনায় আছে। অস্ত্রধারীরে গ্রেফতার না করে মেরে ফেললো কেন? বা খেলনা পিস্তলকে চেজ করতে কামান দাগাতে হলো কেন? এটার সহজ উত্তর হলো, কমান্ডো বা সোয়াটের ট্রেনিংটাই হলো কিল অ্যান্ড ডেস্ট্রয়। জিরো পারসেন্ট ঝুঁকি এনশিউর করে কাজ করে তারা। স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রসিডিউর বা এসওপিটাই এমন। তো বিমান ছিনতাই চেষ্টার মতো একটা ঘটনায় একজন অস্ত্র ও বিস্ফোরক বহনকারীকে কী আদর করে কাছে ডেকে জীবন্ত গ্রেফতারের সুযোগ আছে? নেই। নেই বলেই জায়গায় খতম।
হ্যাঁ, পিস্তলটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এটা পরীক্ষা করতে লাগার কথা এক মিনিট। কিন্তু গভীর রাতে জানতে পারলাম ওইটা খেলনা। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো এটা নিয়ে সে ঢুকলো কেমনে? তার মোটিভ কী ছিলো? শুধুই কী বিচ্ছেদঘটিত? নিরাপত্তা বা তল্লাশির দায়িত্বে থাকারা কী করেছে? ব্যর্থতার দায়ভার স্বীকার করে মন্ত্রী-বেবিচক চেয়ারম্যান বা প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার পদত্যাগ করছে না কেন?
এসব নিয়ে আলোচনা নেই। কথা নেই। তাদের কথা একটাই- ‘ধূর, এই নাটক করার কী দরকার ছিলো?’ যতোসব। তবে হ্যাঁ, সবসময় সত্যকে স্বীকার করে নতুন উদ্যোমে সবকিছু ঢেলে সাজানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত