প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এবার ফেঁসে যাচ্ছেন চিত্রনায়িকা শিমলা

ডেস্ক রিপোর্ট: নিজের ছেলেকে ‘অবাধ্য সন্তান’ বলেই মন্তব্য করেছেন দুবাইগামী বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় নিহত পলাশ আহমেদ ওরফে মাহাবুব পলাশের বাবা পিয়ার জাহান সরদার। ছেলেকে আলেম বানানোর ইচ্ছায় মাদ্রাসায় ভর্তি করালেও একাদশ শ্রেণিতে উঠার পরেই পলাশ প্রবেশ করেন মিডিয়া জগতে।পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করতো উচ্চাভিলাষী পলাশ। তাই পলাশকে খুব একটা পছন্দ করতেন না তার বাবা। অপরদিকে নিজ এলাকাতেও পলাশের এই উচ্ছৃঙ্খলতা ও বেপরোয়ার কথা জানতেন এলাকাবাসী।

তবে, বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় কিভাবে পলাশ জড়িত সে বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে স্থানীয়দের। কোনোভাবেই তারা এ বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করছেন না।সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রাম ঘুরে নিহত পলাশ সম্পর্কে এসব নানা তথ্য জানা গেছে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার বলছেন, পলাশের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো মামলার তথ্য না থাকলেও বিদেশে পাঠানোর নামে স্থানীয় লোকজনের সাথে প্রতারণার তথ্য প্রমাণ মিলেছে তার বিরুদ্ধে।

রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংবাদমাধ্যমে প্রচার হওয়া ছবি থেকে পলাশের লাশ ছেলের বলে শনাক্ত করেন বাবা পিয়ার জাহান সরদার। সোমবার দুপুরে নিহত পলাশের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর মানুষের ভিড়। পলাশের অসুস্থ মা রেণু বেগম রোববার হাসপাতাল থেকে বাড়ি এসেছেন। তার স্ট্রোক হয়েছিল। বাড়ি এসে ছেলের কথা শোনার পর বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।সোনারাগাঁও উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা এলাকার সরদার বাড়ির ছেলে পলাশ। ৪ ভাই বোনের মধ্যে পলাশ সবার ছোট। বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে হওয়ার সুবাদে পলাশ ছিল সবার আদরের। মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সোনারগাঁও ডিগ্রি কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তি হবার পরও সে লেখাপড়ায় এগোতে পারেনি। মাত্র ২২ বছর বয়সী এই যুবক সংগীত এবং সিনেমার দিকে আকৃষ্ট হয়ে উচ্চাভিলাষী হয়ে পড়ে।

বাবা পিয়ার জাহান সরকার বলেন, তার ছেলে কোনো কাজকর্ম করতো না। সে বাড়ি ছেড়ে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করতো এবং ঢাকায় বসবাস করতো। তার ঠিকানাও কেউ জানতো না। বাড়িতে খুব একটা আসত না। চিত্রনায়িকা শিমলাকে বিয়ে করেছিল। তার আগে বগুড়ার এক মেয়েকে বিয়ে করে। কিন্তু সংসার টেকেনি। সবশেষ গত শুক্রবার বাবার সাথে পলাশের শেষ দেখা। পলাশ তখন বলেছিল এ সপ্তাহে সে দুবাই যাবে।পলাশের বাবা পিয়ার জাহান সরকার জানিয়েছেন, পলাশ কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেনি। স্থানীয় তাহেরপুর আলিম মাদ্রাসা থেকে ২০১২ সালে দাখিল পাস করার পর সোনারগাঁও ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। কিন্তু পড়াশোনা আর এগোয়নি। টাকার প্রয়োজন ছাড়া বাড়িতে যেত না সে। প্রায় ১ বছর আগে চিত্রনায়িকা সিমলাকে সে বাড়িতে নিয়ে এসে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেয়।

নিহত পলাশের বাবা পিয়ার জাহান সরদার আরো জানান, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পলাশের সাথে তার শেষ দেখা হয়। দুবাই যাবে বলে তার কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা (দুবাই ১১শ’ দেরহাম) নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।পলাশের বাবা আরো বলেন, পলাশকে মালয়েশিয়া ও দুবাই পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে না থেকে দেশে ফেরত চলে আসে। সে প্রচুর টাকা পয়সা নষ্ট করে। পলাশ বগুড়ার মেঘলা নামে এক মেয়েকে বিয়ে করে। সেই ঘরে তার সন্তানও আছে। পরে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়।সিমলার সাথে পলাশের বয়সের পার্থক্য বেশি হওয়ায় পলাশের পরিবার আপত্তি করেন। সেবারই শুধু পলাশ বাড়িতে এসে একটানা ২০ দিন বাড়িতে ছিল। সে বাড়িতে আসার পর তার আচরণে অনেক পরিবর্তন দেখা যায়। সে নামাজ পড়ত এবং মসজিদের আযান দিত। এর আগে সে কখনো এত সময় বাড়িতে থাকেনি।

পলাশের ফুফুতো ভাই ফরহাদ প্রধান বলেন, পলাশ শর্টফিল্ম ও গানের ক্যাসেট বের করেছিল। সে চলচ্চিত্র নায়িকা সিমলাকে বিয়ে করেছিল। তবে তার বিরুদ্ধে খারাপ কোনো কিছু শুনিনি।নিহত পলাশের চাচা দ্বীন ইসলাম বলেন, পলাশ তার বাবা-মায়ের অবাধ্য সন্তান হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো রাজনীতি ও মামলা মোকদ্দমা নেই। সে এমন একটি ঘটনা ঘটাতে পারে সেটা আমাদের বিশ্বাস হচ্ছে না। কারণ সে কখনো রাজনীতি ও কোনো উগ্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল না। এছাড়া সে কখনো কারো সাথে ঝগড়া করছে এমন কোনো রেকর্ড নেই।এলাকাবাসী জানিয়েছে, পলাশ আহম্মেদ তার নাম হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার নাম ‘মাহিবি জাহান’ নামে একাউন্ট রয়েছে। ঢাকায় মিডিয়া জগতে এ নামেই সে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলে। ফেসবুকে পলাশ নিয়মিত সময় কাটাতো এবং নানা ধরনের ছবি পোস্ট দিতো। সেখানে চলচ্চিত্র নায়িকা সিমলার সাথে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের বেশ কিছু ছবি আপলোড রয়েছে। এমনকি পিস্তল হাতে নিয়েও একটি ছবি রয়েছে পলাশের ফেসবুক আইডিতে। পলাশের সেই আইডি দেখে এসব তথ্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তবে ফেসবুক আইডিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশার ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া এবং ব্রিটিশ এয়ারলাইন্সের আইটি বিভাগে কর্মরত বলে পলাশ যে তথ্য দিয়ে রেখেছে, সে ব্যাপারে তার পরিবার ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।এলাকাবাসীর ধারণা, বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনার পেছনে চিত্রনায়িকা সিমলার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। কারণ ঘটনার দিন ফেসবুকে তার ফেসবুক আইডিতে পলাশের শেষ পোস্টটি ছিল রহস্যজনক। তাতে পলাশ লিখেছিল, ‘ঘৃণা নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে’। অর্থাৎ এই স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বোঝা যায়, পলাশ কোনো কারণে মানসিক অশান্তিতে ছিল এবং বিষয়টি সিমলা জানতো। তাই সিমলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ রহস্যের জট খুলবে বলে তারা দাবি করেন। তারা দ্রুত চিত্রনায়িকা সিমলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সহ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

এদিকে, সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পলাশ নারায়ণগঞ্জের ছেলে এটা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব ছিল। ছবি পাওয়ার পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পলাশের বাবা-মার সাথে কথা বলেছি। তাদেরকে সেই ছবি দেখানোর পর তারা লাশ শনাক্ত করেছেন। তিনি বলেন, পলাশের ব্যাপারে মামলা হবে ঘটনাস্থলে। তার বিষয়টি সেখানকার মামলার তদন্তকারী সংস্থা আমলে নিয়ে দেখবে। আমাদের কাছে যদি আরো কোনো তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে বলা হয় আমরা সেটা করব।

পুলিশ সুপার বলেন, পলাশের বাবা-চাচারা সবাই বিদেশে থাকতো। তার খোঁজ খবর নেয়ার মতো কেউ ছিল না। সে বাবা-মায়ের অবাধ্য সন্তান ছিল। সে এলাকার মানুষের কাছ থেকে বিদেশ যাওয়ার কথা বলে টাকা পয়সা নিয়ে প্রতারণা করতো। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার এ ধরনের অভিযোগ ছিল। সে বহুদিন ধরে নিজের কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করতো না। বাসায় এলে সে তার বোনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতো। তার বিরুদ্ধে যতটুকু জানা গেছে, এবার সে কিছু লোকের কাছ থেকে বিদেশে নেয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা বা প্রতারণার কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। তবে, ঢাকায় সে কারো সাথে কোনো কিছু করেছে কিনা সেটা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবেন। সূত্র: সময় টিভি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত