প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘খেলনা পিস্তল’ নিয়েই বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে মাহাদী!

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৭ নম্বর ফ্লাইটটি ছিনতাইচেষ্টার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার জব্দ তালিকায় রয়েছে ‘খেলনা পিস্তল’। কমান্ডো অভিযানে ছিনতাই চেষ্টাকারী মাহাদী ওরফে মাহী ওরফে পলাশ নিহত হওয়ার পর তার কাছ থেকে এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী।

গত রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এই ‘খেলনা পিস্তল’ নিয়েই ঢাকা থেকে দুবাইগামী ফ্লাইটটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে মাহাদী। এর জেরে বিমানটিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

তবে এই ছিনতাইচেষ্টার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘দুষ্কৃতিকারী বোমাসদৃশ বস্তু ও অস্ত্র’ দেখিয়ে বিমানটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। আবার দুষ্কৃতিকারীর কাছে ‘বোমা ও অস্ত্রসদৃশ বস্তু’ দেখা যায় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

স্পর্শকাতর এই মামলার তদন্ত স্থানান্তর করা হয়েছে চট্টগ্রামের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কাছে। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়াকে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মামলাটির তদন্তভার আজ (মঙ্গলবার) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি।’
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ওই ঘটনার আলামতগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জব্দ তালিকায় থাকা পিস্তলটি ‘খেলনা পিস্তল’ ছিল। এখন এসব আলামত আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াও ছিনতাই চেষ্টাকারী মাহাদী ওরফে মাহিবী ওরফে পলাশের মোটিভ কী ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত সাবেক স্ত্রী চিত্রনায়িকা সিমলার সঙ্গে বিচ্ছেদের কারণে হতাশা ছাড়া আমলে নেওয়ার মতো কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তভার হাতে পাওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা শাহ আমানত বিমানবন্দর এলাকায় গিয়ে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইটটি পরিদর্শন করেন। ফ্লাইটটি বর্তমানে সিভিল এভিয়েশনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। কাগজে-কলমে এটি এখনও জব্দ দেখানো হয়নি। জব্দ দেখানো হলেও এটি সিভিল এভিয়েশনের তত্ত্বাবধানেই রাখা হবে বলে সিএমপির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

আলোচিত এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রযুক্তি সহকারী দেবব্রত সরকার বলেন, ‘আমি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শাহ আমানত বিমানবন্দরে দায়িত্বরত ছিলাম। একই দিন বিকাল আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে কন্ট্রোলার মনছুর উদ্দিন ও এরোড্রাম সহকারী (ফায়ার) শংকর দাশ ওয়াকিটকির মাধ্যমে জানান যে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাঁচটা ১৩ মিনিটে ছেড়ে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের বিজি-১৪৭ বিমানটি ওড়ার অনুমানিক ১৫ মিনিট পর অজ্ঞাতনামা একজন দুষ্কৃতিকারী বোমাসদৃশ বস্তু ও অস্ত্র দেখিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় বিমানের পাইলট ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের কথোপকথন ইসিআর-এ স্থাপিত রিসিভারের মনিটরিং করি। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ওয়াকিটকির মাধ্যমে জানাই। তখন এয়ারপোর্ট ম্যানেজার বিমানবন্দরে নিয়োজিত সিভিল এভিয়েশন নিরাপত্তাকর্মী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং আনসার সদস্যদের বিমানবন্দর রানওয়ে এবং অ্যাপ্রোনে যাওয়ার জন্য নিদের্শ দেন।’

এজাহারে দেবব্রত সরকার আরও বলেন, ‘তাৎক্ষণিক এয়ারপোর্টে ম্যানেজারের নেতৃত্বে আমিসহ বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত লোকজন বিমানবন্দর রানওয়ে ও অ্যাপ্রোন-এ উপস্থিত হই। একই তারিখ পাঁচটা ৪১ মিনিটে আক্রান্ত বিমানটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই বিমানের ইমার্জেন্সি ডোর দিয়ে বিমানের যাত্রী ও কেবিন ক্রুরা দ্রুত বিমান থেকে বের হয়ে বিমানের পাখার ওপর অবস্থান করেন। তখন বাংলাদেশ বিমানের জিএসই’র (গ্রাউন্ড সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ারিং) সদস্যরা দ্রুত বিমানে সিঁড়ি লাগিয়ে যাত্রী ও কেবিন ক্রুদের বিমান থেকে নামিয়ে আনেন। এরপর বিমানের পাইলটও বিমান থেকে নেমে আসেন। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে বিমান বাহিনীর জহুরুল হক ঘাঁটির এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে বিমান বাহিনীর সদস্যরা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারাকমান্ডো টিম, র্যা ব-৭-এর কর্মকর্তারা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও সিআইডির ক্রাইম সিন টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।’

এজাহারে বলা হয়, ‘এরপর সেনাবাহিনীর প্যারাকমান্ডো টিম আক্রান্ত বিমানটির অভ্যন্তরে অভিযান চালিয়ে অজ্ঞাতনামা একজন দুষ্কৃতিকারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বিমানের বাইরে অ্যাপ্রোনে নামিয়ে আনে। পরে জানা যায়, অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারী মৃত্যুবরণ করে। আক্রান্ত বিমানে থাকা কেবিন ক্রু সাগর ও বিমানের যাত্রীদের থেকে জানা যায়, ওই বিমানটি ওড়ার অনুমানিক ১৫ মিনিট পর একজন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারী বিমানের মাঝখান থেকে দৌড় দিয়ে সামনে ককপিটে ঢুকতে চেষ্টা করে। তার কাছে বোমা ও অস্ত্রসদৃশ বস্তু দেখা যায়। দুষ্কৃতিকারী তার কিছু দাবিদাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে শুনতে হবে চিৎকার করে বলতে থাকে। অন্যথায় সে বিমানটি তার কাছে থাকা বিস্ফোরকদ্রব্য দিয়ে ধ্বংস করে দেবে বলে বিমানের ক্রু ও যাত্রীদের হুমকি দেয়। বিমানে থাকা পাইলট, কেবিন ক্রু এবং যাত্রীদের মধ্যে মৃত্যু-আতঙ্ক সৃষ্টি করে। দুষ্কৃতিকারী ওই সময় দুটি পটকা জাতীয় বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটায়।’

এজাহারে আরও বলা হয়, ‘এমন পরিস্থিতিতে বিমানটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে ওই দুষ্কৃতিকারীর নাম পলাশ আহমেদ (২৮), বাবার নাম পিয়ার জাহান, মা রেনু আক্তার, সাং দুধঘাটা, সরদার বাড়ি, থানা সোনারগাঁও, জেলা নারায়ণগঞ্জ। তার সহযোগী অন্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহায়তায় ওই অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করেছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।’সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত