প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পরাশক্তি চীনের কারণে রোহিঙ্গাসমস্যা সমাধানের ব্যাপারে কিছুই হচ্ছে না : মোহাম্মদ আলী শিকদার

নাঈমা জাবীন : নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী তার নিজ দেশের মানুষ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে সেটি বিশ্বের সব দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বীকার এবং তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট হইচই করলেও পরাশক্তি চীনের কারণে কিছুই হচ্ছে না। সূত্র : ইত্তেফাক
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সময়ে চলমান অশান্তির দিকে একটু নজর দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। শুরু করি দক্ষিণ আমেরিকা থেকে। গত কয়েক সপ্তাহ যাবৎ বিশ্বের তাবৎ মিডিয়া এবং ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি পড়ে আছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলার ওপর। ১৮২৯ সালে কলম্বিয়া থেকে পৃথক হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৯৯ সালে বামপন্থি নেতা হুগো শ্যাভেজ প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরে কখনোই স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং অর্থনৈতিকভাবেও সমৃদ্ধশালী হতে পারেনি, যদিও গত শতকের সত্তর দশক থেকে ভেনিজুয়েলা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ। ১৯৯৯ সালে হুগো শ্যাভেজ ক্ষমতায় এসে তেল শিল্প জাতীয়করণ এবং অর্থনীতিতে ব্যাপক সংস্কার আনেন। তাতে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হতে শুরু করে। কিন্তু হুগো শ্যাভেজের বামপন্থি নীতি এবং কিউবার নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে আমেরিকা ক্ষুব্ধ হয়। ২০০২ সালে সেনাবাহিনীর ক্ষুদ্র একটি অংশের আকস্মিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হলেও বিশাল জনসমর্থন ও সেনাবাহিনীর বৃহত্তর অংশের সহযোগিতায় শ্যাভেজ স্বল্প সময়ের ভেতরে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসেন। শ্যাভেজ এবার সব ঘাট বেঁধে শক্তভাবে নবযাত্রা শুরু করেন। আমেরিকার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শ্যাভেজ এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০১৩ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শ্যাভেজের মৃত্যু হলে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় তারই একান্ত শিষ্য নিকোলা মাদুরে। কিন্তু শ্যাভেজের মতো ক্যারিশমা মাদুরের মধ্যে নেই।
মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, সুযোগটিই নিয়ে বসে আমেরিকা। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে দেশের অভ্যন্তরে শুরু হয় ব্যাপক সহিংসতা। একের পর এক আমেরিকার নিষেধাজ্ঞায় ভেনিজুয়েলার অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। চরম মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্য মূল্যের সীমাহীন বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। ভেনিজুয়েলা থেকে প্রায় অর্ধ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পাশের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে বিরোধী পক্ষের এক অচ্ছুত অজানা স্বল্প বয়সী নেতা জুয়ান গোয়াইদুর নেতৃত্বে শুরু হয় ব্যাপক দাঙ্গা হাঙ্গামা ও সহিংসতা। এসবের সূত্র ধরে আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরকে অবৈধ ঘোষণা করে বিরোধী নেতা জুয়ান গোয়াইদুকে বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমেরিকা হুমকি দিয়েছে প্রয়োজন হলে সেনা অভিযান চালিয়ে মাদুরকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে। দেখা যাক অশান্তির দাবানল কতো দূর উঠে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ