প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বন্দিদের ক্যান্টিনে বিক্রিত খাবার থেকে ভ্যাট দাবি
কারা কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস মুখোমুখি অবস্থানে

জাহিদুল কবীর মিল্টন: যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিদের ক্যান্টিনে বিক্রিত খাবার থেকে ভ্যাট দাবি করে চিঠি দিয়েছে কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট যশোর অফিস। গত ২৫ ফেরুয়ারি এই চিঠি দেয়া হয়। এতে কারা কর্তৃপক্ষ ও কাস্টম মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। কাস্টমের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে কারাগারে বন্দিদের মধ্যে।

কাস্টমের রাজস্ব কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন হাওলাদার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয় মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১ এর ১৫ ধারা অনুযায়ী যেকোন করযোগ্য পন্যের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যাট দেবার বিধান রয়েছে। কারাগারের ক্যান্টিন চালুর মাস থেকে বিক্রির সমুদয় অর্থের উপর ভ্যাট দিতে হবে। কাস্টমের হঠাৎ চিঠিতে হতবাক হয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, কারাগারের ক্যান্টিন থেকে বন্দিরা শুকনা খাবার কিনে খান। সরকারের কোন নির্দেমণা না থাকায় তারা বন্দিদের কাছ থেকে কোন ভ্যাটের টাকাও আদায় করেননা। আবার দেশের ৬৮টি কারাগারের কোথাও এই নিয়ম চালু নেই। অথচ যশোর কাস্টম ভ্যাট দাবি করছে।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কারাগারে বন্দির সংখ্যা এক হাজার ৬৮৫ জন। এর মধ্যে ফাঁসির আসামি রয়েছে ৮১জন, মহিলা বন্দি ৭১জন এবং পুরুষ বন্দি রয়েছে এক হাজার ৬১৪ জন। গত এক বছর আগে যশোর কারাগারে বন্দিদের খাবার সুধিার জন্য একটি পূণাঙ্গ ক্যান্টিন চালু করা হয়েছে। মানবিক কারণে সরকার উৎপাদন বিভাগ থেকে বন্দিদের টাকাও প্রদান করছেন। ক্যান্টিনে শুধুমাত্র রুটি, ডাল, বিস্কুট, ভাজা, পাউরুটিসহ শুকনা খাবার বিক্রি করা হয়। বাজারদর অনুযায়ী স্বচ্ছল বন্দিরা এই খাবার কিনে খান। অস্বচ্ছলরা সরকার নির্ধারিত খাবার খেয়ে থাকেন। অথচ কাস্টমের এই সিদ্ধান্তে হতবাক হয়েছেন বন্দিরা। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া আক্কাস আলী নামে একজন জানান, কারাগারের ক্যান্টিন থেকে বন্দিরা যে খাবার কেনেন তা থেকে কেউ ভ্যাট নেননা। অস্বচ্ছল বন্দিদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করা হলে তা হবে অমানবিক।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর আবু তালেন কাস্টমের চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সারাদেশে ৬৮টি কারাগার রয়েছে। সরকারের নির্দেশনা না থাকায় কোথাও বন্দিদের খাবার বিক্রির ক্যান্টিন থেকে ভ্যাট আদায় করা হয়না। শুধুমাত্র স্বচ্ছল বন্দিরা ক্যান্টিন থেকে শুকনা খাবার কিনে খেয়ে থাকেন। কাস্টমের এখানও থেকে ভ্যাট আদায়ের চিঠিতে আমরা হতবাক হয়েছি। বিষয়টি জানাজানি হলে বন্দিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এব্যাপারে কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট যশোর অফিসের সহকারী কমিশনার এইচ এম কবির জানান, আমরা সরেজমিন কারাগারের ক্যান্টিন থেকে খাবার বিক্রির চিত্র দেখেছি। সেখানে শুধুমাত্র শুকনা খাবার বিক্রি হয়। তবে আমরা বলেছি সরকারের যা রাজস্ব আসে তাই আমাদের দেয়া হোক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত