প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আদালতে ৪ জনের স্বীকারোক্তি
গ্রুপিং ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শাহেদ খুন

আশরাফ চৌধুরী রাজু: দলীয় গ্রুপিং ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুন করা হয় ছাত্রলীগ কর্মী ও স্কুল ছাত্র শাহেদকে। এ খুনের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে পুলিশের কাছে গ্রেফতার হওয়া ৪ জন।

মঙ্গলবার বিকালে সিলেট মেট্রোপলিটন ১ম আদালতের বিচারক রিয়াদুল ইসলাম তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এর পূর্বে সোমবার রাতে স্কুল ছাত্র হত্যা ঘটনায় এসএমপির বিমান বন্দর থানায় (মামলা নম্বর ২০(০২)১৯ ইং) দাখিল করা হয়। এ মামলায় মঙ্গলবার আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে ফারুক, রাফাত আহমেদ, মিজানুর রহমান সুমন, নাঈম আহমেদ। হত্যাকান্ডে সবাই জড়িত ছিল মর্মে আদালতকে জানায় এই ৪ জন। এর আগে রবিবার থেকে অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদের সকলই শাহেদ হত্যায় জড়িত রয়েছে বলে জানান সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুছা। তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে সকলের নাম ঠিকানা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

তিনি আরো জানান, ঘটনার পরই রবিবার রাতে সন্দেহভাজনভাবে দর্শনদেউড়ি এলাকার খছরু আহমদের ছেলে কাওসার আহমদ রাহি (১৫), হাউজিং এস্টেটের তজব আলীর ছেলে ফারুক আহমদ (২০)। এই দুইজনকে আটক করে পুলিশ।

সূত্র জানায়, গত রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে সিলেট নগরের হাউজিং এস্টেট আম্বরখানা গালর্স স্কুলের সামনে স্কুলছাত্র শাহেদকে ছুরিকাঘাত করে খুন করে তার সহপাঠীরা। নগরের রংধনু আবাসিক এলাকার মৃত আবদুল খালিকের ছেলে নিহত শাহেদ ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণিতে পড়তেন। বেড়াতে এসে বন্ধুদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির জেরে মদন মোহন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র মামুন খানকে মারধর করে শাহেদের সঙ্গীরা। এর জেরে কলেজছাত্র মামুন খানসহ তার সহপাঠীরা নগরের পায়রা এলাকার ওসামা বিন কাদের, লিমন, রাহিসহ পাঁচজন মিলে শাহেদকে খুন করে। পরবর্তিতে নিহত শাহেদের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। আর সোমবার এ ঘটনায় এসএমপি’র বিমান বন্দর থানায় নিহতেরে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে রাতভর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে গতকাল মঙ্গলবার আদালতে প্রেরণ করেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুছা জানান, সাহেদ হত্যা ঘটনায় পুলিশের অভিযানে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে ৪ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। অর্ন্তদ্বন্দ্ব নিয়ে শাহেদকে খুন করা হয় মর্মে এই ৪ জন স্বীকারোক্তি দেয়। তাছাড়া তারা জবানবন্দিতে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তাই তদন্তের স্বার্থে সকল কিছু বলা যাচ্ছে না।

এসএমপি’র বিমান বন্দর থানার ওসি শাহদাত হোসেন জানান, শাহেদ খুনের ঘটনায় সোমবার রাতে থানায় মামরা দাখিল করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশি অভিযানে ৭ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে ৪ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত