প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

#হ্যানয় সম্মেলন
দাদা কিম ইল সাংয়ের পর এই প্রথম ভিয়েতনামে কিম জন উন, রেলষ্টেশনে জনতার উষ্ণ অভ্যর্থনা

নূর মাজিদ : আজ থেকে শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের বৈঠক। যা প্রেসিডেণ্ট ট্রা¤প এবং কিম জন উনের মাঝে দ্বিতীয় সম্মেলন হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে বিশ্ব কূটনৈতিক মহলে। এই সম্মেলনে অংশ নিতে গতকাল মঙ্গলবার ভিয়েতনাম পৌঁছেছেন কিম জন উন। তাকে বহনকারী সুরক্ষিত ট্রেনটি এদিন চীনা সীমান্ত অতিক্রম করে ভিয়েতনামের সীমান্ত শহর ডংডং-এর রেলস্টেশনে এসে থামে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে। এসময় তাকে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। এমনকি কিমকে স্বাগত জানাতে ডংডং ষ্টেশনে ছিলো হাজারো জনতার উপস্থিতি। তারা ঠা-া আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে কিমের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। রয়টার্স , আল জাজিরা, সিএনএন, টাইমস, ডেইলি সাবাহ

১৯৬৪ সালে কিম ইল সাংয়ের পর এই প্রথম কোন উত্তর কোরিয় রাষ্ট্রনেতা ভিয়েতনাম সফরে এলেন। ইল সাং ছিলেন কিমের দাদা এবং উত্তর কোরিয়ার প্রথম সমাজতন্ত্রী রাষ্ট্রনেতা। মার্কিন সমর্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী যখন ভিয়েতনামের স্বাধীনতাকামীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলো তখন ইল সাং দেশটির মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দেন। ফলে কিমের জন্য ভিয়েতনামি জনতার উষ্ণ অভ্যর্থনা প্রায় নিশ্চিতই ছিলো। ট্রেন থেকে কিম তার কালো রঙয়ের মাও কোট পরেই নেমে আসেন। তার ট্রেন কেবিনের স্যামনেই বিছানো হয় লাল গালিচা। ট্রেন থেকে নেমেই কিম সাদা ইউনিফর্ম এবং কালো বুট পরা ভিয়েতনামি সেনাদের সঙ্গে করমর্দন করেন। পুরো ডংডং স্টেশন ভিয়েতনাম এবং উত্তর কোরিয়ার পতাকায় সজ্জিত করা হয়। তবে হ্যানয়ে গাড়িতে করেই পৌঁছেছেন কিম। এসময় হাজার হাজার কিন্ডারগার্ডেন পড়–য়া শিশু তাকে ভিয়েতনামের ঐতিহ্যবাহী হানবুক পোশাক পরে অভ্যর্থনা জানায়।কিমকে স্বাগত জানাতে সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে তারা এই অভ্যর্থনায় অংশ নেয়।

মূলত, পরমাণু অস্ত্রবর্জন করে যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। ট্রা¤প ও কিমের মাঝে এই আলোচনা সফল হলে কোরিয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির ঘোষণাও দেয়া হতে পারে । হ্যানয় সম্মেলনেই ১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়যুদ্ধের অবসান হবে বলে আশা করছে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার। এই বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ব্লু-হাউজের মুখপাত্র কিম ই-কিয়োম বলেন, আমরা ধারনা করছি এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে হ্যানয় সম্মেলন উত্তর কোরিয়ার জন্য যতোটা গুরুত্বপূর্ণ তার চাইতেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভিয়েতনামের জন্যে। হ্যানয় শহর থেকে সড়কপথে মাত্র ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের দূরত্বে দানাং। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় এখানেই ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ সামরিক ঘাঁটি। যুদ্ধের সময় যে হ্যানয়কে মার্কিন জেনারেলরা বোমা ফেলে সমুদ্রে মিশিয়ে দিতে চেয়েছিলেন সেই হ্যানয়তেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের এক কট্টর জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণের আলোচনায় অংশ নিতে চলেছেন। অন্যদিকে, কিমও ইঙ্গিত দিয়েছেন কম্যুনিস্ট ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়নের পথে তিনি নিজ দেশকে এগিয়ে নিতে চান। ফলে হ্যানয় সম্মেলন ভিয়েতনামের আদর্শিক ও অর্থনৈতিক জয়ের বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বের কাছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত