প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৩৪ বছর পর অফশোর ব্যাংকিংয়ের পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা ঘোষনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

রমজান আলী : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন ব্যাংকের অফশোর ইউনিটের মাধ্যমে অর্থ পাচারসহ নানা অভিযোগ ওঠার পর নীতিমালা তৈরি করার উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯৮৫ সালে ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা জারি করে। ৩৪ বছর পর এই অফশোর ব্যাংকিংয়ের পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা ঘোষনা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুরুতে বিদেশি ব্যাংকগুলো এই সেবায় থাকলেও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ব্যাংক যুক্ত হচ্ছে অফশোর ব্যাংকিং সেবায়।

অফশোর ব্যাংকিং হলো ব্যাংকের ভেতরে বিদেশি ব্যাংকের কার্যক্রম। অফশোর ইউনিটের ব্যবস্থাপনা, হিসাব, আমানত, ঋণ এসব কার্যক্রম পুরোটাই আলাদা। শুধু বছর শেষে মুনাফা অথবা লোকসানের হিসাব যুক্ত হয় ব্যাংকের হিসাবে। অফশোর ব্যাংকিংয়ে দেশীয় মুদ্রায় কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। এতে শুধু ডলারের পাশাপাশি ইউরো, পাউন্ড, জাপানি ইয়েনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯৮৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর অফশোর ব্যাংকিংয়ের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করে। এতে বিদেশ থেকে আমানত এনে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। তবে কারা ঋণ পাবে, ঋণগ্রহীতা সীমা, ঋণের ব্যবহার এসব বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। এ সুযোগে ব্যাংকগুলো ঋণের অপব্যবহার করছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিদেশ থেকে আমানত সংগ্রহের নিয়ম থাকলেও মূল ব্যাংক থেকে ঋণ করে বিদেশে ঋণ দিচ্ছে অফশোর ইউনিট। আবার এসব ঋণের গ্রহীতাদেরও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মূলত অর্থ পাচারে ব্যবহৃত হচ্ছে ইউনিটগুলো।
অফশোর ব্যাংকিংয়ের জন্য পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিমধ্যে নীতিমালার খসড়া প্রস্তত করেছে। আগামী মাসে নীতিমালাটি জারি করতে পারে।

সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রাইম, ঢাকা, সাউথইস্ট, ন্যাশনাল, ইস্টার্ন, ব্যাংক এশিয়া, শাহ্জালাল, সিটি, প্রিমিয়ার, আইএফআইসি, ব্র্যাক, এবি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, যমুনা, ওয়ান, পূবালী, স্ট্যান্ডার্ড, এনসিসি, ইসলামী, ট্রাস্ট, মার্কেন্টাইল, ইউসিবিএল, ডাচ্-বাংলা ও এক্সিম ব্যাংক অফশোর ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। এ ছাড়া বিদেশি খাতের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, এইচএসবিসি, উরি, সিটি এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এই সেবা দিচ্ছে।

কেন্দ্রীয় এ বিষয় একটি প্রজ্ঞাপন দিয়েছে এতে বলা হয়েছে, এ ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়-সম্পদ ব্যবস্থাপনা (এএলএম) নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। ফলে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলো মোট আমানতের ৮৩ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলো ৮৯ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে পারবে না। এ ছাড়া অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট বিদেশি উৎস এবং ইপিজেড, পিইপিজেড, ইজেড ও হাইটেক পার্কে অবস্থিত প্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসীদের বাইরে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে। দেশের ৫৮ ব্যাংকের মধ্যে বর্তমানে অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম রয়েছে ৩৫টির। গত জুন পর্যন্ত এসব ইউনিট থেকে বিতরণ করা ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। এক বছর আগে ছিল ৪৬ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। এ হিসাবে এক বছরে অফশোর ব্যাংকিংয়ে ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা বা ২৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত জুন পর্যন্ত মূল ব্যাংকিংয়ে ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ ঋণ বেড়ে ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত