প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেপরোয়া সময়ে বেপরোয়া সিদ্ধান্ত

মাহমুদুর রহমান : ব্যাংকগুলো বলছে তাদের তারল্য উদ্বৃত্ত আছে, কিন্তু তা হাতে পাওয়া যে খুবই ব্যয়বহুল তা বলছেন না কোন ব্যবসায়ী কিংবা ঋণগ্রহনকারী। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা কাকে বিশ্বাস করবো? অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা একমত, যে কোন ঋণের টাকার ২০% যায় ঘুষ পরিশোধে, যা পুরো ঋণ ব্যবস্থাকেই দুর্বল করছে। তার মানে এই নয় যে, অসাধু কর্মকর্তা আর দুর্বল ব্যবস্থাপনার সুযোগে বাকি টাকাটা আপনি বিদেশে পাচার করবেন।

এখন ব্যাংক এবং ব্যবসায়ীরা ঋণসুদের হার নিয়ে তর্কে ব্যস্ত। কালো টাকা ও পাচার করা অর্থের কারণে অনেক ঘাটতি দেখা দিচ্ছে এবং উন্নয়নের ধারাকেও শ্লথ করছে। খবরে দেখলাম, প্রকল্প কাজে ধীরগতি এবং মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অনাগ্রহের কারণে সংশোধিত এডিপির মোট বরাদ্দ থেকে ৯ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। তাও আবার এগুলো ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ প্রকল্পের অর্থ। বাংলাদেশ বিদেশী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এনেছে এমন একটা সময়ে যখন বিশ্ব অর্থনীতির গতি নিম্নমুখী। এই সময়ে যদি ঋণের টাকা অব্যবহৃত থাকে কিংবা ফেরত যায়, তাহলে প্রয়োজনের সময় ঋণ পাওয়া কষ্টকর হয়ে যাবে।

ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে গরীব মানুষের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে পল্লী কর্ম সহায়ক ফান্ড -পিকেএসএফের সাথে ২০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি করেছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। এই টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি হচ্ছে না সে বিষয়ে দাতাগোষ্ঠীকে অবহিত করতে হচ্ছে এডিবিকে। প্রকল্প সহায়তার অর্থের জন্য নির্ধারিত প্রকল্পগুলো সরকারি বেসরকারি অংশিদারিত্বের মাধ্যমে করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে কালো টাকার ব্যবহার হতে পারে, কারণ এগুলো বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ভারত কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিয়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এ উদ্যোগ তাদের অর্থনীতির গতি বাড়িয়েছে। এই উদ্যোগ ভারতীয়দের মধ্যে বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বেশ উৎসাহিত করেছিলো ।

কালো টাকার অর্থনীতির সঠিক হিসাব নেই, যদিও কিছু বিষয় স্পষ্ট। এর মধ্য দুটি অবশ্যাম্ভাবী বিষয় হলো ভারতের সাথে অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য ও হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো রেমিট্যান্স। এগুলো রোধ করার উপায় নেই। কিন্তু মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে কৌশলী হতে পারলে ভারতের চেয়ে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সদিচ্ছা থাকলে বিশাল অর্থনীতির সাথে এই টাকাগুলোর সদ্ব্যবহার করা যেতে পারে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী অনেক কথাই বলেছেন। তারা যদি কঠোর হতে পারেন, তাহলে এই মাফিয়ারা একটা প্রতিরোধের মুখে পড়বে। এর পাশাপাশি হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠানো নিরুৎসাহিত করতে আওয়ামী লীগের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যায়। এভাবে ওই দুই প্রবণতাকে রোধ করা যায়। ঋণ পরিশোধ না করায় ভারতে অনিল আম্বানি এবং বিজয় মালায়াকে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আশাহত না হয়ে একইভাবে লক্ষ্য স্থির করতে পারলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের মাধ্যমে আমরাও সফল হতে পারি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত