প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক নিখিল সেনের কফিনে বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা নিবেদন

হীরা: একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক, সাংস্কৃতিকজন ও বরিশাল প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য নিখিল সেনের কফিনে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন বরিশালের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

মঙ্গলবার বেলা এগারোটায় বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নিখিল সেনের মরদেহবাহী কফিন নিয়ে আসার পর প্রথমে তার প্রতি শেষশ্রদ্ধা নিবেদন করেন বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। এরপর একে একে বরিশাল মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ, বরিশাল প্রেসক্লাব, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি, মহানগর বিএনপি, জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি, বরিশাল সরকারী মহিলা কলেজ, অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়সহ শতাধিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা ভাষা সৈনিকের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় সাংবাদিক মাইনুল হাসান সড়কস্থ শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে নিখিল সেনের মরদেহ নিয়ে আসার পর তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দরা। এরপর তার মরদেহবাহী কফিন নিয়ে যাওয়া হয় বরিশাল উদীচি সাংস্কৃতিক সংগঠন কার্যালয় ও অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ে। সেখানেও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শেষকৃর্ত সম্পুন্ন করার জন্য ভাষা সৈনিকের মরদেহ নেয়া হয় নগরীর মহাশশ্মানঘাটে। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে দুপুরে তার শেষকৃর্ত সম্পন্ন করা হয়।

এরপূর্বে সোমবার বিকেলে ভাষা সৈনিক নিখিল সেনের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মন্ত্রী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি ও বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুর একটার দিকে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক নিখিল সেন পরলোকগমন করেন। এর আগে ওইদিন সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৭ বছর। তিনি স্ত্রী, ১ পুত্র, ২ কন্যা রেখে গেছেন। প্রয়াত নিখিল সেন বাংলাদেশের একজন প্রতিথযশা নাট্যকার ও সংস্কৃতিকর্মী, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিক। ১৯৩১ সালের ১৬ এপ্রিল বরিশালের কলশ গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। নাটকে বিশেষ অবদান রাখার জন্য নিখিল সেন ২০১৮ সালে একুশে পদক এবং আবৃত্তিতে অবদান রাখার জন্য ২০১৫ সালে শিল্পকলা পদক লাভ করেন। এছাড়াও তিনি ১৯৯৬ সালে জেলা শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননা, ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন সম্মাননা, ২০০৫ সালে শহীদ মুনীর চৌধুরী পুরস্কার, আলতাফ মাহমুদ পদক সহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ