প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চক বাজার থেকে রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরানোর নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

মহসীন কবির :  রাজধানীর পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরিয়ে নিতে ৬ মাসের মধ্যে ব্যবসায়ীদের জায়গা দেয়ার কথা বলেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। সোমবার শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের সভাপতিত্বে নিজ মন্ত্রণালয়ের সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগামী তিন মাসের মধ্যে সরকারি জমিতে কেমিক্যাল ও রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি বন্দোবস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন বলছে,  আগামী মাসের মধ্যে পুরান ঢাকা থেকে সব রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শিল্পমন্ত্রী বলেছেন, একটা জিনিস পরিষ্কার বলতে চাই, ঢাকা শহরের মূল এরিয়ার মধ্যে কেমিক্যাল গোডাউন থাকতে পারবে না। আর কীভাবে স্থানান্তর হবে, আমরা তার পথ খুঁজছি। অগ্নিকাণ্ডের পর গঠিত তদন্ত কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে জানতে পেরেছি রাজধানী থেকে রাসায়নিক দ্রব্যের গোডাউন সরানো ছাড়া উপায় নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এটি সরানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মের তোয়াক্কা করা হবে না। তিনি বলেন, চামড়া শিল্প সম্পর্কিত যেসব কেমিক্যাল, তা ওই শিল্পের আশপাশে সাভারে স্থানান্তর করা হবে। ৬ মাসের মধ্যে আমরা ব্যবসায়ীদের জায়গা দেব।

একই দিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকনের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধানদের নিয়ে অপর এক বৈঠকে আগামী মাসের মধ্যে পুরান ঢাকা থেকে সব রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে নগর ভবনের সভায় ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন সভাপতির বক্তব্যে বলেন, রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম অপসারণ বেগবান করতে জাতীয় টাস্কফোর্সের দুটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি দিকনির্দেশনা দেবে এবং অপর কমিটি মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে। উচ্চক্ষমতার কমিটিতে থাকবেন সংশ্লিষ্ট সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সভাপতিরা। এ কমিটি বিশেষ বিশেষ সময়ে সভা করবে এবং বিভিন্ন নির্দেশনা দেবে। দ্বিতীয় কমিটি হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে। এ কমিটি পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম অপসারণে মাঠপর্যায়ে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। মেয়র বলেন, আমরা ১৫টি ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। এর মধ্য থেকে দুই-তিনটি ওয়ার্ড সমন্বয় করে কমিটি কাজ করবে। এ কাজে নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেটরা আইনগত দিক দেখবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার অস্তিত্ব পেলে তারা আইনি ব্যবস্থা নেবেন। যারা ইউটিলিটি সেবা দিচ্ছে, তারা ওইসব ভবনে সেবা বন্ধ করে দেবে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কেমিক্যাল কারখানাগুলো সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সিটি করপোরেশন কাজ করছে। মেয়র মহোদয় সহযোগিতা চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
কেমিক্যাল ও রাসায়নিক দ্রব্যসহ দাহ্য পদার্থ এবং গুদাম পুরান ঢাকা থেকে সরিয়ে নিতে ঢাকার জেলা প্রশাসককে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সহযোগিতায় এখন থেকেই জেলা প্রশাসক এ অভিযান পরিচালনা করবেন। এছাড়া আগামী তিন মাসের মধ্যে সরকারি জমিতে কেমিক্যাল ও রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি বন্দোবস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর কেরানীগঞ্জে জমির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে করণীয় নির্ধারণের জন্য রবিবার (২৪ ফেব্রæয়ারি) অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল এ তথ্য জানান।

পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, এভাবে চলতে দেয়া যায় না, জাতীয় টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্তক্রমে যে কোনো মূল্যে পুরান ঢাকা থেকে সব রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরাতে হবে। আর এটা সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে করতে হবে। পুলিশ শতভাগ সহযোগিতা করবে। এবার আটঘাট বেঁধে নামব। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান বলেন, আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক কারখানা বা গুদাম থাকতে পারে না। পুরান ঢাকাকে ভেঙে নতুন করে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলাম, কিন্তু গুটিকয়েক লোকের বাধায় সেটা করা সম্ভব হয়নি। চুড়িহাট্টার দুর্ঘটনার পর আমরা নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছি। রাজউকের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত